![]() |
| Baba Jahangir | Salat |
কোরান-এ সালাতের উল্লেখ : ৩
কোরান-এর ২ নম্বর সুরা বাকারার ৪৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে এবং তোমরা সবর (ধৈর্য) এবং সালাতের দ্বারা সাহায্য প্রার্থনা করো। (ওয়াসতায়িনু বিস সাবরে ওয়াস সালাতে) এবং নিশ্চয়ই উহা আল্লাহতে ভীতগণ ব্যতীত অন্যদের জন্য অবশ্যই বড় কঠিন (ওয়া ইন্নাহা লাকাবিরাতুন ইল্লা আনাল খাশেঈনা)।
ব্যাখ্যাঃ
এবার আমরা একই সুরার এই আয়াতের ব্যাখ্যায় সামান্য কিছু বলতে চাই। এখানে সাহায্য চাইতে বলা হয়েছে। সাহায্য চাওয়াকে আরবি ভাষায় ‘নাস্তাইন' বলা হয়। কাহার সাহায্য চাইতে বলা হয়েছে? বলা হয়েছে : মস্তানের সাহায্য চাও। আল্লাহ্র যতগুলো অধিকপ্রিয় নাম আছে তার মধ্যে অধম লিখকের মতে প্রথমটি হলো ‘কাহহার’, দ্বিতীয়টি হলো ‘জুলজালাল' এবং তৃতীয়টি হলো ‘মস্তান'। ইহারও একটু ব্যাখ্যার প্রয়োজন।
ধ্বংসের মাঝেই গড়ার স্বপ্নটি লুকিয়ে থাকে, কিন্তু আমার মনে হয় এই অর্থে ইহা ব্যবহার না করে প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি ঘটনাঘ টিয়ে উহাকে ধ্বংস করে দিয়ে যে নব-নবরূপে নিত্য চলমান গতিতে এগিয়ে চলছেন সেই চলার নামই জুলজালাল। তাই জুলজালালের পরেই কারামওয়ালা শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ প্রতি সেকেণ্ডে কোটি কোটি ঘটনার উদ্ভব ঘটিয়ে সেই মুহূর্তেই সেই কোটি কোটি ঘটনাগুলোকে ধ্বংস করে দিয়ে এই ধ্বংস আর গড়ার প্রতিটি মুহূর্তের চলমান গতি যিনি ঘটাচ্ছেন তিনি নিঃসন্দেহে কারামতওয়ালা তথা ইকরাম। তাই তিনি জুলজালালুহুল ইকরাম। প্রতিনিয়ত ধ্বংস, প্রতিনিয়ত গড়ার খেলাটি খেলে অসীম গতিতে অসীমভাবে ছুটে চলছেন সুবহান আল্লাহ! আল্লাহ জাল্লাশানাহুর এই রহস্যময় ব্যাখ্যাগুলো লিখতে গিয়ে চমকে যেতে হয়। এখানে মস্তানের সাহায্যটি চাওয়া হয়েছে। খান্নাসরূপী শয়তানের বন্ধনের বলয় হতে যারা মুক্তিপথের সাহায্যকারী তাঁরাই গুরু, তাঁরাই পীর, তাঁরাই মুরশিদ। এই সাহায্য, এই খান্নাসরূপী বন্ধনের বৃত্ত হতে মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় যারা বিচলিত হয়ে পড়েন তাদেরকেই বলা হয় মুরিদ, ভক্ত ইত্যাদি। তাই সালাত- তা সেই সালাত ওয়াক্তিয়াই হোক আর দায়েমিই হোক- সেই সালাতের সঙ্গে আরেকটি কথা যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে, সেই কথাটির নাম সবর তথা ধৈর্য। কারণ সত্যসাগরে অবগাহন করার প্রবল আকাঙ্ক্ষায় সালাতের মধ্যে তথা আল্লাহ্র সঙ্গে যোগাযোগ প্রচেষ্টার মধ্যে অবশ্যই ধৈর্যের প্রয়োজন। ধৈর্য বিহনে এই খান্নাসের বলয় হতে মুক্তিটি অসম্ভব। তাই এই সালাত প্রশিক্ষণের প্রচেষ্টায় যারা নিয়োজিত থাকেন তারা অবশ্যই বিনয়ী। আগুন যেমন কাঠ জ্বালিয়ে ফেলে দেয়, অহঙ্কার আর উদ্ধত আচরণ মানবীয় গুণগুলোকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাড়খার করে দেয়। তাই বিনয়, আজিজি, নম্রতা যাদের মধ্যে নাই তাদের জন্য সুফিবাদ হারাম তথা খান্নাসের বলয় হতে মুক্তি পাবার সম্ভাবনাটি তাদের এই জনমে আর থাকে না।
⏹️কোরানের দৃষ্টিতে নামাজ ৮২ বার
🌺ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী

Comments
Post a Comment
JOY GURU.
Thank you for your valuable comment.