কোরান-এ সালাতের উল্লেখ ৪
কোরান-এর ২ নম্বর সুরা বাকারার ৮৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে এবং যখন আমরা বনি ইস্রাইল হইতে অঙ্গীকার গ্রহণ করিলাম যে (ওয়া ইজ আখাজনা মিসাকা বানি ইস্রাইলা) তোমরা আল্লাহ ব্যতীত কাহারও এবাদত করিবে না (লা তাআবুদুনা ইল্লাল্লাহা) এবং পিতামাতার সাথে এহসান (ভালো ব্যবহার) করো। (ওয়া বিল ওয়ালেদাইনে এহসানান) এবং নিকট আত্মীয় এবং ইয়াতীম এবং মিসকিনদের সাথেও (ওয়াজিলকুরবা ওয়াল ইয়াতামা ওয়াল মাসাকীনে) এবং মানুষদের সাথে সুন্দর ভাষায় কথা বলো (ওয়া কুলু লিন্নাসে হুসনান) এবং সালাত কায়েম করো এবং জাকাত আদায় করো (ওয়া আকিমুস সালাতা ওয়া আতুজ জাকাতা)। তারপর তোমাদের মধ্য হইতে কিছু লোক ব্যতীত সবাই মুখ ফিরাইয়া নিলে। (সুম্মা তাওয়াল্লাইতুম ইল্লা কালিলান মিনকুম) এবং (প্রকৃতপক্ষে) তোমরা তো মুখ ফিরানোকারীই ছিলে (ওয়া আনতুম মুরেদুনা)।
ব্যাখ্যা
এই আয়াতেও সালাত কায়েম ও জাকাত আদায়ের কথাটি বলা হলো। সঙ্গে 'এবং' শব্দটি দিয়ে আরও কিছু কর্তব্য যোগ করে দেওয়া হলো। সালাত এবং জাকাত এবং বাবা-মায়ের প্রতি এহসানের দৃষ্টি তথা ভালো ব্যবহার তথা কর্তব্য পালন করার কথাটি বলা হলো। কিন্তু সর্বপ্রথমেই বলা হলো, আল্লাহ ছাড়া আর কারও এবাদত না করার। এবং যারা আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ তাদের এবং এতিম ও মিসকিনদের সাথে ভালো ব্যবহার করা তথা কোরান-এর বর্ণিত ব্যবহারিক পদ্ধতিগুলোকে অনুসরণ করা এবং তারপরেও আরেকটি উপদেশ দেওয়া হলো আর সেই উপদেশটি হলো, মানুষের সাথে সুন্দর ভাষায় কথা বলা তথা কর্কশ, রূঢ় আচরণ, অহঙ্কার প্রদর্শন ইত্যাদি সম্পূর্ণরূপে পরিহার করতে বলা হলো। তারপর বলা হলো, সালাত কায়েম করার কথাটি এবং জাকাত আদায়ের কথাটি। তারপর বলা হলো এই রকম কাজগুলো তথা আদেশ-উপদেশগুলো মান্য করার মানুষ তোমাদের মধ্যে কিছু লোক ছাড়া সবাই মুখ ফিরিয়ে নিলো। এখানে মুখ ফেরানোর অর্থটি হলো আনুষ্ঠানিকতার স্বীকৃতিটি হয়তো আছে, কিন্তু হাকিকি কর্তব্যের স্বীকৃতিটি খুব কম লোকেই পালন করে চলে। ইহা সব যুগেই সব কালেই কমবেশি দেখা গিয়েছে এবং দেখা যায় এবং দেখা যাবেও।
আয়াতটির প্রথমেই বলা হয়েছে- একবচনে আল্লাহ বলেন নি, বরং বহু বচনের রূপটি ধারণ করে বলেছেন যে, আমরা বনি ইস্রাইল তথা ইহুদিদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম তথা ইহুদিরা আমাদেরকে (আল্লাহ) কথা দিয়েছিলো আমাদের (আল্লাহ) দেওয়া আদেশ-উপদেশগুলো মেনে চলবে। কিন্তু ইহুদিরা অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছিলো। কথা দিয়ে কথা রাখে নি। এটা খুব বেশি একটা নূতন কথা নয়, কারণ ইসায়ি-মুসলমানেরাও একই রকম অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে তথা কথা দিয়ে কথা রাখে নি, যে রকম ইহুদি-মুসলমানেরা করেছিলো। তাই মহানবির অনুসারীদেরকেও পূর্ব ইতিহাসের একই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, যাতে ইহুদি-মুসলমানদের মতো, ইসায়ি-মুসলমানদের মতো মহানবির অনুসারী মুসলমানেরাও একই রকম পথে না যায় সেই জন্য বার বার সতর্ক করে দেওয়া হলো। অবশ্য আমরা অবাক হই, সেই পূর্ব হতে অনেকেই সব বিষয়গুলো বুঝেও জেনেও অবহেলার ভয়াবহ পরিণামটি যে কী হতে পারে তা জেনেও না বুঝবার, না জানবার ভান করে গেছে যুগে যুগে এবং আজও এই আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে।
কেন এ রকমটি হয়? কেন একই রকম ঘটনা বার বার ইতিহাসের পাতায় দেখতে পাই, অনেক রঙ ও রূপ নিয়ে ঘটে চলছে, ঘটে চলবেও? এর কি কোনো প্রতিবিধান নাই? এইসব বিষয়ের মানসিক রোগীদের কি কোনো চিকিৎসা নাই? এইসব ঘোর দুনিয়াদার মানুষদের দুনিয়া নামক মাদকদ্রব্যের নেশায় ডুবে থাকা হতে মুক্তি পাবার হাসপাতালগুলো কবে প্রতিষ্ঠিত হবে? কবে এদের চিকিৎসা চলবে? আনুষ্ঠনিক ধর্মপালনে ইহুদিদের তো খুবই একাগ্রতা প্রদর্শন করার ইতিহাস জানতে পারি। তা হলে ইহুদিদের এত আনুষ্ঠানিক এবাদত-বন্দেগিগুলো কেন বেকার বলে ঘোষণা করা হলো? অবশ্য কিছু লোক ছাড়া। ইহুদিরা তো আনুষ্ঠানিকভাবে এক আল্লাহ্ই এবাদত করতো, তারপরেও কেন বলা হয় এক আল্লাহ্র এবাদত-বন্দেগি হতে বিচ্যুতির কথাটি? ইহুদিরা তো কোনো কল্পিত মূর্তি বানিয়ে সেই মূর্তির পূজা করতো না। আসলে প্রতিটি মানুষের নফসের সঙ্গে যে খান্নাসরূপী শয়তানটিকে আল্লাহ পরীক্ষা করার জন্য দিয়েছেন, সেই খান্নাসই দুনিয়ার লোভ-মোহতে ডুবিয়ে রাখে। একটি মানুষের নফ্সের সহিত খান্নাস যতদিন থাকবে ততদিন তার এবাদত-বন্দেগি আল্লাহ্র দরবারে পরিপূর্ণরূপে গৃহীত হয় না।
'লা-তা বুদুনা ইল্লাল্লাহ' তথা 'না এবাদত করো না' হুবহু অর্থে দুইটি না যোগ করে বলা হচ্ছে, 'ইল্লাল্লাহ'। এখানে 'ইলাহ' বলতে কর্তা, নেতা, অধিকারী নামক বহু ইলাহ্-র কথা বলা হয়েছে। মাটি বা পাথরের বানানো ইলাহ-র কথা এখানে বলা হয় নি। যদিও মাটি ও পাথরে বানানো মূর্তিগুলো মেজাজি ইলাহ আবার অনেক সময় এই মেজাজি ইলাহগুলো মোটেও মেজাজি ইলাহ নয় তাদেরই জন্য যারা স্রষ্টাকে অস্বীকার করে, যারা নাস্তিক, যারা কমিউনিস্ট, যারা ধর্মই মানে না, যারা ধর্মের কথা শোনা তো দূরে থাক, যারা ধর্মের ধার কাছ দিয়ে ঘেঁষে না। এশিয়া-ইউরোপের বহু কমিউনিস্ট দেশে রাস্তার মোড়ে মোড়ে পাথরে ব্রোঞ্জে বানানো বিশাল বিশাল মূর্তিগুলো দেখা যায়। অধম লিখক প্রশ্ন করেছিলাম, এই মূর্তিগুলো কেন আপনারা রেখেছেন? মুচকি হেসে আমাকে বললো : ভয় পাবেন না এই ভেবে যে আমরা মূর্তিপূজা করি। কারণ আপনি যে আল্লাহ্র পূজা করছেন সেই আল্লাহকে আমরা মানা তো দূরের কথা, বরং বলে থাকি, মানুষের সবচাইতে বিস্ময়কর আবিষ্কারটি হলো, মানুষ আল্লাহ আবিষ্কার করতে পেরেছে। অনেকেই হয় তো ভাবতে চাইবেন ইহা ভগবান রজনীশের কথা। না, মোটেই না। তিনিও এদের কাছ থেকে ধার করে নিয়ে নূতন ভাষায় অলঙ্কার দিয়ে একটু সুন্দর করে বলেছেন। এখন চিন্তা করুন তো, যে-আল্লাহই অধম লিখকের পুঁজি, যে আল্লাহ্র রহস্য জানার জন্য অধম লিখক সেইদিনের টাকায় লক্ষ লক্ষ টাকার বই ক্রয় করেছি। আমার ব্যক্তিগত সংগ্রহে এত বই ছিলো যে বই সংগ্রকারীদের মধ্যে আমাকে চতুর্থ স্থানটি দিয়েছিলো। কত বই সংগ্রহ করতে পারলে সমগ্র বাংলাদেশে সংগ্রহকারীদের মধ্যে চতুর্থ স্থানে নামটি দিতে পারে? দ্বিতীয় তৃতীয় স্থানটি যাঁরা পেয়েছেন তাদের নাম ও ঠিকানা জানা থাকলেও বললাম না, কিন্তু প্রথম স্থানটি যিনি অর্জন করে তার নামটি অকপটে পাঠকদের জানিয়ে দিলাম। তাঁর নাম রুহুল আমিন নিজামী । চট্টগ্রামের মীরের সরাইয়ের অধিবাসী।
কেন এতগুলো প্যাচাল পারলাম? এত লেখাপড়া করার পরও ওই কমিউনিস্ট দেশের নাস্তিকেরা যে পথের মোড়ে মোড়ে মূর্তি দাঁড় করিয়েও মুর্তিপূজা তো দূরে থাক বরং আল্লাহকেই অস্বীকার করে, সে কথাটি শুনে কে না অবাক হবে? আসলে মূর্তি সামনে থাকলেই মূর্তিপূজা হয় না। দিলের ভিতরে অন্তরের অভ্যন্তরে, নসের সঙ্গে খান্নাস যে অনেক রকম লোভ আর মোহের মূর্তিগুলো পূজা করাচ্ছে এবং মনের অজান্তে পূজা করে চলছি এটাই হলো আসল মূর্তিপূজা, এটাই হলো হাকিকি মূর্তিপূজা। 'আউজুবিল্লাহে মিনাশ শায়তোয়ানের রাজিম তথা পাথরের আঘাত খাওয়া শয়তান হতে আশ্রয় চাই' বাক্যটি এক হাজারবার মুখে পড়লেও শয়তান আপনাকে মোটেই ছেড়ে দেবে না। কারণ মুখের পড়াটি হলো মেজাজি আর তাড়িয়ে দেবার ধ্যানসাধনা তথা
মোরাকাবাটি হলো হাকিকি।অধম লিখক একজন হোমিও ডাক্তার। লজ্জা বা অহংকার ফেলে বলছি, আমাকে বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হোমিওপ্যাথ বলা হতো। অভিজ্ঞতায় নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ নামক একটি বাজারের এক কোটিপতি দোকানদারকে সিগারেট খেতে মানা করেছিলাম। উনি একটার পর একটা সিগারেট খেতেন। ওনার নাম ছিলো রফিক। আমাকে মামা বলে ডাকতেন। ওনাকে সিগারেট খেতে মানা করলাম। বললাম: 'মামা লাংস্ ক্যানসারও হতে পারে।' উনি দাঁত খিচুনি দিয়ে আমাকে বললেন, 'জীবনে যে সিগারেট খান নি, তার কেন লাংস্ ক্যানসার হয়?' আমি কিছুক্ষণ নীরব থাকাতে তৃপ্তির হাসি দিয়ে আরামে সিগারেট টেনে চললেন। তারপর বললাম, 'মামা, দুই ঘণ্টা দশটি মানুষ বৃষ্টিতে ভেজার পর দেখা গেল সাতজনের ঠাণ্ডা লেগেছে, কিন্তু তিনজনের লাগলো না কেন? বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি বললেন, ‘মামা রে, সিগারেট আমি খাই না, সিগারেটই আমাকে খেয়ে ফেলেছে। মাত্র তিন বছর পরে তার ছোট ভাইয়ের হাত ধরে জীর্ণ-শীর্ণ মামা রফিক, গলার মধ্যে একবস্তা তাবিজ-তুম্বা ঝুলছে, ডিসপেনসারিতে আসলেন এবং বসলেন। লাংস্ ক্যানসারে যে উনি আক্রান্ত এটা উনি জেনে গেছেন। কিন্তু শেষ অবস্থায় যে অবস্থান করছেন সেটা হয়তো উনি জানেন না। আমি প্রচণ্ড মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে অভিনয়ের ভঙ্গিতে বললাম: 'মামা আপনার কিছুই হয় নি। যে ডাক্তারেরা বলেছে ওরা এখনও ডাক্তারই হতে পারে নি। ওই রকম ১০/১৫টা ডাক্তার পকেটে নিয়ে আপনার মামা চলে।'- ইত্যাদি ইত্যাদি। মামা ভীষণ খুশি। চোখে মুখে জীবনের আলো ফুটে উঠলো। ওষুধ চাইলো। বললাম, ডাক্তারেরা যে ওষুধ দিয়েছেন তা ২১ দিন খাবার পর আমি সব ওষুধ আপনার ছোট ভাইকে দিয়ে পাঠিয়ে দেব। ১৯ দিনের মাথায় মৃত্যুশয্যায় মৃত্যুর একটু আগে ‘জাহাঙ্গীর, জাহাঙ্গীর বলে কেবল ডাকলেন। এবং শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগে আমার নামটি কেবল ছিলো। খুব দুঃখ পেয়েছিলাম, মর্মাহত হয়েছিলাম। স্মৃতিতে হয়তো লক্ষ লক্ষ রোগীর কথা কোনোদিনই মনে থাকবে না, কিন্তু এই বেদনাদায়ক স্মৃতিটি আজও আমি ভুলতে পারি নি।
সুতরাং যারা মাদক দ্রব্যের নেশার মধ্যে ডুবে আছে বা থাকে তাদেরকে উপদেশ দেওয়া আর না দেওয়া সমান, বরং বকুনি ও মার খাওয়ার সম্ভাবনাটি থাকতে পারে। তাদেরকে সৌদি আরবের মতুয়াদের মতো জোর করে নিয়ে নেশা হতে মুক্তি পাবার হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। যেমন সৌদির মতুয়াদের কে নামাজ পড়লো না, কে রোজা রাখলো না এদেরকে ধরার জন্য সরকার কর্তৃক নিযুক্ত করা হয়। সুতরাং প্রতিটি মানুষের মনের মধ্যে কত রকম যে আশার মূর্তি ভেসে আছে সেইগুলোকেই 'ইলাহ' বলা হয় তথা মনের কর্তা বলা হয়। তাই এই মুর্তিগুলো তথা এই 'ইলাহ'গুলো বহু তথা অনেক তথা 'ইলাহা'। এই ইলাহগুলোকে ধ্যানসাধনা, মোরাকাবা-মোশাহেদার মাধ্যমে তাড়িয়ে দিলে তথা খান্নাসকে তাড়িয়ে দিলে আপন স্বরূপে আল্লাহ অন্তরটিকে তথা নসটিকে গ্রাস করে ফেলেন। তখনই এক ইলাহ্ প্রতিষ্ঠিত হয়। উহাকেই ইল্লাল্লাহ বলা হয়। সেই ইল্লাল্লাহ্র জাগ্রত রূপটি যখন সাধকের ভিতরে প্রকাশিত ও বিকশিত হয়ে পড়ে সাধক তখন নির্বাক হয়ে যান। কিছু একটা উপদেশ যখন সাধক দিতে থাকেন তখন খান্নাসওয়ালা মানুষগুলো কখনও গ্রহণ করে, কখনও গ্রহণ করে না। এ এক আজব খেলা। এই আজব খেলার অঙ্কের নিয়মে আগামাথা পাওয়া যায় না। যদিও অঙ্কের নিয়মটি অবশ্যই আছে।
খান্নাসই লোভ আর মোহের গুরুঠাকুর। এই খান্নাসই পবিত্র নফ্সটিকে কুমন্ত্রণা আর কুবুদ্ধি দিয়ে লোভ-মোহের বিষয়ে জর্জরিত করে ফেলে। এই খান্নাসওয়ালা মানুষগুলোকেই যিশুখ্রিস্ট মানুষের চেহারায়, মানুষের সুরতে, মানুষের নকশায় অসুর বলেছেন। আর খান্নাসমুক্ত নফ্সের অধিকারী মানুষগুলোকেই দেবতা বলা হয়েছে। সেমিটিক ধর্মগুলোতে নবি-রসুল আর ওলিদের অধিকাংশই পুরুষ। কিন্তু হিন্দুধর্মের তেত্রিশ কোটি অবতার মুনি-ঋষিদেরকে দেব-দেবী বলা হয়েছে। হিন্দুধর্মে রমণীদেরকেও অবতাররূপে আমরা দেখতে পাই, যা সেমিটিক ধর্মগুলোর মধ্যে দেখতে পাই না। আবার হিন্দু ধর্মে বৈষয়িক সম্পদ বণ্টন করে দিবার প্রথাটি এবং আরও কিছু জটিল বিষয় নারীদের বেলায় মোটেও দেখতে পাই না। অবতারের রূপে নারীকে পরম মর্যাদাটি হিন্দুধর্ম দিয়ে গেছে, আবার পরক্ষণে নারীদের সামাজিক জীবনে সম্পদের অধিকার হতে বঞ্চিত করার দৃশ্যগুলো দুঃখজনক হলেও দেখতে হয়। পক্ষান্তরে সেমিটিক ধর্মগুলোর মধ্যে একমাত্র মহানবির ইসলামে নারী এবং পুরুষকে মোটেই সমান মর্যাদা দিয়ে যায় নি। অনেকেই সমান মর্যাদার ধুঁয়া তুলে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে চায়, কিন্তু আসলে নারীর মর্যাদা ১০০ ভাগের মধ্যে ৭৫ ভাগ এবং পুরুষের মর্যাদা মাত্র ২৫ ভাগ। আমরা নারীকে মহানবির ইসলামে নবি-রসুলরূপে দেখতে পাই না সত্যি, কিন্তু নারীর পদতলেই সন্তানদের বেহেশত কথাটি দেখতে পাই। মহানবির ইসলামে নারীকে যৌতুক দিয়ে বিবাহ করতে হয়। ইহা মধ্যপ্রাচ্যে যারা গিয়েছেন তারা সবাই কমবেশি জানেন। অথচ আমাদের মতো গরিব মুসলমান দেশগুলোতে যৌতুক প্রথাটি ঠিক তার উল্টো। মহানবিকে এক মহান সাহাবা প্রশ্ন করেছিলেন, সবচাইতে সম্মানীয় কে? সাহাবা চারবার প্রশ্ন করেছিলেন, মহানবি তিনবার মা এবং পরে বাবার কথাটি বলেছিলেন।
যখন নিজেকে খান্নাসমুক্ত করতে পারেন তখনই সাধক বলে ফেলেন, 'আনাল হক' তথা 'আমিই সত্য। তখনই জোনায়েদ বোগদাদি বলে ফেলেন, 'লাইসা ফি জুব্বাতি সেওয়া আল্লাহতাআলা' অর্থাৎ 'এই জোব্বার মধ্যে আল্লাহ ছাড়া আর কিছু নেই।' ইমামুল আউলিয়া বায়েজিদ বোস্তামি বলে ফেলেন, 'আনা সুবহানি মা আজিমুশশানি' তথা 'আমিই সুবহানি সব শান আমারই।' যুগে যুগে একই ধর্মের অনেক নবি-রসুলের আগমনের অনেক পরেও, অনেক নবি-রসুলের একই কথা প্রচার করা সত্ত্বেও, মানুষরূপী অসুরেরা অসুরই রয়ে গেল। এবং যারা আল্লাহ জাল্লা শানাহু-র পথে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন তাঁরা অনেক রকম নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, ইহা অধম লিখকের কথা নয়, বরং ইহা ইতিহাসের একটি তিক্ত রায়। এখানে এই আয়াতের ব্যাখ্যা লিখতে গিয়ে সম্পূর্ণ একটি ভিন্ন বিষয়ের অবতারণা এ জন্যই করলাম যে অধিকাংশ মানুষ ভুল করে বসে, আর সেটা হলো পবিত্র রেজেক। 'কুলু মিন তাইয়েবাতে মা রাজাকনাকুম' অর্থাৎ 'পবিত্র হইতে উপভোগ করো আমরা যে রেজেক তোমাদেরকে দিয়াছি।'
মেজাজি পবিত্র রেজেকটি হলো- খাদ্যদ্রব্য এবং অন্যান্য বিষয়বস্তু যাহা আমরা গ্রহণ করি তাহা তিন ভাগে ভাগ করা যায় : হারাম, হালাল এবং পবিত্র। যাহা ভোগ করতে মানা করা হয়েছে উহা হারাম, আর যাহা মানা করা হয় নি উহা হালাল। পবিত্র রেজেক বলতে এখানে আল্লাহ্র জাত-নুরে নুরময় করা বোঝানো হয়েছে। কারণ আল্লাহ্র ‘জাত'-নুর লা-মোকাম ছাড়া একমাত্র জিন ও মানুষের অন্তরের কাছেই 'জাত'-রূপে অবস্থান করছেন। সুতরাং নফ্স যখন খান্নাসমুক্ত হয়ে আল্লাহ্র 'জাত'-নুরে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠেন, আপন পীরের নির্দেশিত নির্জন ধ্যানসাধনা ও মোরাকাবার মাধ্যমে, ইহাকেই বলা হয় পবিত্র রেজেক এবং ইহা আল্লাহ 'আমি'-রূপ ধারণ না করে 'আমরা'-রূপ ধারণ করে দান করেন।
একটি মহাপাপিষ্ঠ মানুষ যদি হালাল খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করে তাতে সে ওলি হয় না। আল্লাহ্র সাধারণ দানের মধ্যে হালাল-হারাম থাকতে পারে, কিন্তু ইহাতে কোনো বুজুর্গি বা শ্রেষ্ঠত্ব বা বৈশিষ্ট্য নাই। হালাল সাবান দিয়ে গোসল করলেই বুজুর্গি পাওয়া যায় না, তবু মেজাজি অর্থে হালালকে হালালই বলতে হবে। এখানে একটি বিষয় লক্ষ করার মতো আর সেই বিষয়টি হলো, আল্লাহ কোরান-এ যতবার রেজেক দেবার কথাটি বলেছেন, ততবারই 'আমি' তথা একবচনে রেজেক বণ্টনের কথাটি বলা হয় নি, এখানে বহুবচন তথা 'আমরা'-রূপ ধারণ করে আল্লাহ রেজেক বণ্টন করেন। অধম লিখকের পনের পারা কোরান-এর অনুবাদ করতে গিয়ে মোল্লা-মুরিদদের সাহায্য নেওয়াতে 'আমরা'-কে আমি করে ফেলা হয়েছে। হয়তো ব্যস্ততার করণে উহা লক্ষ্য করতে পারি নি, কিন্তু পরের সংস্করণে নিজে দেখেই করতে হবে।
⏹️কোরানের দৃষ্টিতে নামাজ ৮২ বার
🌺ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী

Comments
Post a Comment
JOY GURU.
Thank you for your valuable comment.