কোরান-এ সালাতের উল্লেখ : ৫
কোরান-এর ২ নম্বর সুরা বাকারার ১১০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে এবং তোমরা সালাত কায়েম কর এবং জাকাত আদায় কর (ওয়া আকিমুস সালাতা ওয়া আতুজ জাকাতা) এবং তোমাদের নফ্সের জন্য যাহা আগে হইতে পাঠাইবে উহাই অনেক ভালো। তোমরা উহা) আল্লাহর নিকট পাইবে। (ওয়ামা তুকাদ্দেমু লে আনফুসিকুম মিন খাইরীন তাজেদুহু এনদাল্লাহে)। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদে কর্মের বিষয়ে নিজের চোখে দেখেন। (ইন্নাল্লাহা বেমা তামালুনা বাসিরুন)।
ব্যাখ্যা
কোরান-এর সুরা বাকারার ১১০ নম্বর আয়াতটিতে আল্লাহ মারাত্মক একটি কথা আমাদেরকে জানিয়ে দিলেন আর সেই কথাটি হলে বাকিতে কিছু পাবার কথা এখানে বলা হয় নি। বাকির নাম যে ফাঁকি এই আয়াতে সেটাও আমাদেরকে চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিে দিয়েছেন। তোমাদের নফসের জন্য যাহা কিছুই আগে থেকেই অর্জন করতে পারবে উহা তোমাদের জন্য খুবই ভালো। ভালো তখনই যখন আল্লাহ্র মনোনীত বিষয়গুলো আল্লাহর নামে অর্জন করতে পারবে তথা পাঠিয়ে দিতে পারবে। এখানে নফসের অর্জন করাটাই আে পাঠিয়ে দেওয়া বুঝানো হয়েছে। তাই উহার ফলাফল তথা ভালো-মন্দ- এবং বিশেষ করে এখানে ভালোটাই বলতে চাই- উহাই আল্লাহ্ নকট পাবে। ইহা মরণের পরে পাওয়া বুঝানো হয় নি। কারণ মরণের পরে পাওয়াটাই একদম বাকি। এবং বাকির নাম ফাঁকি। এই মর মেজাজি মরণ, এই মরণ নফসের মেজাজি মরণ। কারণ মরণ দুই প্রকার : একটি মেজাজি মরণ, অপরটি হাকিকি মরণ। মেজাজি মর দেহত্যাগের মরণ, হাকিকি মরণ খান্নাসত্যাগের মরণ। তাই খান্নাসত্যাগের মরণকেই বলা হয়েছে, 'মুতু কাবলা আনতা মুত' তথা 'মরা আগে মরে যাও।' মেজাজি মরণের আগে হাকিকি মরণ বরণ করে নাও। তথা খান্নাসমুক্ত নফ্সটি কেমন করে অর্জন করা যায়, কেমন কে ধ্যানসাধনা, মোরাকাবার মাধ্যমে খান্নাসমুক্ত নফসের অধিকারী হওয়া যায় তথা মরার আগে মরে যাওয়া যায় তা শিখে নাও। তা হলেই আল্লাহ্র পুরস্কারটি পাবার কথাটি ঘোষণা করা হয়েছে
খেয়াল করুন, নফ্স হতে খান্নাসত্যাগ করার কথাটি বলা হয়েছে। খেয়াল করুন, রুহ হতে খান্নাসত্যাগ করার কথাটি বলা হয় নি অথচ রুহ আমার শাহারগের নিকটেই আছেন। এখানে এসেই অনেকেই তালগোল পাকিয়ে নিজের ভুলে নিজেই জড়িয়ে পড়েন। এবং ভু ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে সহজ-সরল মানুষগুলোর পথগুলোকে আঁকাবাঁকা করে দেয়। খেয়াল করুন, নফ্সকে মরার আগে মরতে বলছে, তথ মুতু কাবলা আনতা মুত।' খেয়াল করুন, রুহকে মরার আগে মরার কথাটি বলা হয় নি। কেন বলা হয় নি? রুহ জন্মগ্রহণ করলে তো মার যাবার প্রশ্ন আসে। নফ্স জন্মগ্রহণ করে, তাই মারা যাবার প্রশ্নটি আসে। নফ্স ঘুমায়, রুহ ঘুমায় না। নফ্স লোভ-মোহের ফাঁদে পড়ে যায়, আর রুহের বেলায় লোভ-মোহের ফাঁদের প্রশ্নই উঠে না। তাই কোরান-এ একটি বারও বলা হয় নি যে রুহ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করে বরং বলা হয়েছে নফ্স তথা প্রাণ তথা জীবাত্মা মৃত্যুর স্বাদটি গ্রহণ করে। পক্ষান্তরে এইসব ঝুটঝামেলা আজে-বাজে সব রকম ফাং ফু রুহ সম্পূর্ণ মুক্ত। কারও যদি খান্নাসমুক্ত নফ্সটি অর্জন করার অদম্য ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা থাকে তা হলে তাকে করতে হবে তথা আল্লাহ্র সঙ্গে যোগাযোগের প্রচেষ্টাটি চালিয়ে যেতে হবে তথা আল্লাহ্র সংযোগ প্রচেষ্টায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে হবে। এব যেইমাত্র সালাতটি কায়েম হয়ে যাবে তথা যোগাযোগটি স্থাপিত হয়ে যাবে তখনই একটি নফ্স জাকাত দিতে পারে। এর আগে জাকা দেওয়া একটি নফসের পক্ষে অসম্ভব। তবে হ্যা, মেজাজি জাকাত তথা মালের জাকাত যে কেহ অনায়াসে দিতে পারবে। মালের জাকার দেবার প্রশ্নে অনেকে সালাতের খুব বেশি একটা ধার ধারে না। অথচ সুন্দর মালের জাকাত দিয়ে যাচ্ছে! এই মালের জাকাতকেই মেজাি জাকাত বলা হয়। আর হাকিকি জাকাত হলো, খান্নাসমুক্ত নফ্স যখন আল্লাহ্র রহস্যলোকের দর্শন পায় তখনই নিজেকে সম্পূর্ণরূে জাকাত দেবার যোগ্যতা অর্জন করে।
এই হাকিকি জাকাতটি দেওয়া চারটিখানি কথা নয়। ইহা কোনো মামুলি বিষয় নয়। ইহা ক্যালকুলেটর মেশিনে মাথা খাটিয়ে মালে জাকাত দেওয়া নয়। ইসলামের কোনটা মেজাজি আর কোনটা হাকিকি ইহা না বুঝতে পারলেই যত রকম ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এই ফেরকাবাজি হতেই লাঠালাঠি, মারামারি, খুনাখুনি পর্যন্ত হতে দেখি এবং ইনশাল্লাহ আরও দেখতে হবে।
যেহেতু মানুষের নফ্সের সঙ্গে আল্লাহ রুহরূপে শাহারগের নিকটেই আছেন তাই সব কিছু প্রতিটি মূহূর্তে আল্লাহ্র দেখাটা খুব বেশি একটা আশ্চর্যের বিষয় নয়। আমরা আল্লাহকে সাত আসমানের উপরে তথা লা-মোকামে বসিয়ে রাখি, তাই কোরান-এর যত আজেবাজে তফসির, কোরান-এর ‘আলুজালু মিরকাবালু'-মার্কা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ দেখতে পাই।
মহানবি হেরাগুহায় পনেরটি বছর কেন একাকী একদম নির্জনে ধ্যান-সাধনা তথা মোরাকাবা-মোশাহেদাটি করলেন? এই ধ্যানসাধনাি মাটেও মহানবির জন্য নহে, বরং তাঁর উম্মতকে শিক্ষা দেবার জন্য। যদি কেহ মনে করে- এই ধ্যানসাধনা মহানবির জন্যই, তা হে আমি অধম লিখক তাহাকে ১০০% কাফের বলে ফতোয়া দিতে চাই। মহানবি তাঁর উম্মতদেরকে চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে গেলে এই বলে যে দ্যাখো, কোরান নগদই পেলাম, বাকিতে নয়: জিবরাইল আমিনের দেখাটি নগদই পেলাম, বাকিতে নয়: রেসালত, নবুয়ত বেলায়েত এবং আবদিয়াত এই চারটি নগদই পেলাম, বাকিতে নয়।
নবি জাকারিয়ার প্রতিষ্ঠিত অনেকগুলো খানকার একটি রুমে তথা কক্ষে ওলি মা মরিয়ম ধ্যানসাধনা করে যে অসময়ের ফ আনসিজনাল ফ্রুট) পাইতেন উহা দেখে নবি জাকারিয়া নিজেই চমকে যেতেন। নবি জাকারিয়া (আ.) ওলি মা মরিয়মের ধ্যানসাধনা কক্ষটির দোহাই দিয়ে আল্লাহ্ পাক দরবারে বৃদ্ধ বয়সে সন্তান চাইলেন এবং আল্লাহ তা দিলেন। এই কথাগুলোর মধ্যে অনেক রক হস্য লুকিয়ে আছে যাহা মোটেই কাগজ-কালিতে লেখা যায় না। যেমন বলতে পারেন নি আসহাবে সুফ্ফার জলিল কদরের সাহাব হজরত আবু হুরায়রা (রা.) যেমন বলে যেতে পারেন নি মহানবির চাচা ইবনে আব্বাস (রা.), যেমন বলে যেতে পারেন নি জলিল কদরে: সাহাবা হজরত হুজায়ফা (রা.), যেমন বলে যেতে পারেন নি জলিল কদরের সাহাবা হজরত আবু জর গিফারি (রা.) এবং আরও অনেকে আল্লামা ইকবাল বলেছেন: তোমার এই দেহটিতে যা আছে, তা আছে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে। তোমার এই দেহটি মেরাজে যাবার বোরাক তোমার এই দেহটি আল্লাহ্র সব রহস্যের মূল ভাণ্ডার এবং এটাই যদি খেয়াল করতে না পারো তা হলে কিছুই পাবার আশা করা যায় না পশ্চিমা লেখকদের মধ্যে যারা মহানবির ভূয়সী প্রশংসা করে গেছেন তাদের মধ্যে বার্নার্ড শ অন্যতম। সেই জর্জ বার্নার্ড শ-ই বলে গেছেন যে, যাদের আল্লাহ কেবলমাত্র আসমানেই থাকে তারা বড়ই তাদের থেকে যত দূরে থাকতে পারো ততই মঙ্গল যারা মেজাজি মরণের পর আল্লাহর মেজাজি পুরস্কার পাবার কথাটি বলে বেড়ান তাদেরকেও দোষ দিতে নাই। কারণ কয়েকটি কেয়ামতের মুখোমুখি হবার পরেই হাকিকি বিষয়গুলো ধরা দিতে থাকে। সুতরাং সবার উপলব্ধি ও দর্শনের ব্যাপ্তি কখনই সমান হয় না। তাই আমরা দেখতে পাই, আল্লাহর বড় বড় ওলিরা কখনও বলেছেন তকদিরের খেলা, কখনও বলেছেন আহাতে ছেড়ে দাও। কিন্তু মহা তাঁর নিজের জন্য ধ্যানসাধনা করেছেন বলে যারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করবে তাদেরকে আল্লাহর সব গুলিরাই বিনা বাক্যে কাফের ফতোয়া নিয়েছেন। নবি হবার শর্তটি যে এলমে গায়েব জানতে হবে সেটা কাট্টা কাফের আবু জাহেলও জানতো। তাই হাতের ছোট পাথরের কণাগুলো মুষ্টিবদ্ধ করে মহানবিকে বলেছিল, 'আমার হাতের ভিতরে আছে করার অর্থই হলো এলমে গায়ের জানার দলিল। এবং এলমে গায়েব জানাটি হলো নবি হবার একটি শর্ত আবু জাহেলের মতো কাফের নবি হবার শর্তটি এলমে গায়েব জানতেই হবে বলে যেখানে বিশ্বাস করতো, সেখানে ওহাবি যেরকা, বাটাপতি ফেরকা এবং চালভি ফেরকার অনুসারীদের অবস্থানটি আবু জাহেলের চেয়েও যে নিচে, অঙ্কের হিশাবে ইহা পরিষ্কার ধরা পড়ে যায়।
⏹️কোরানের দৃষ্টিতে নামাজ ৮২ বার
🌺ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী

Comments
Post a Comment
JOY GURU.
Thank you for your valuable comment.