কোরান-এ সালাতের উল্লেখ ৯
কোরান-এর ২ নম্বর সুরা বাকারার ২৩৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে সালাতের জন্য যত্নবান হও, সালাতুল উসতা (মধ্যবর্তী সালাত) বিষয়ে এবং আল্লাহ্র জন্য দাঁড়াও অনুগত (বিনীত) ভাবে। (হাফেজু আলাস্ সালাওয়াতে ওয়াস্সালাতীল উস্তা, ওয়াকুমু লিল্লাহে কানেতীনা)।
কোরান-এ সালাতের উল্লেখ : ১০
কোরান-এর ২ নম্বর সুরা বাকারার ২৩৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে : সুতরাং যদি তোমরা পদচারী অথবা আরোহী অবস্থায় (সালাত আদায় বিষয়ে) ভয় কর। (ফাইন খেফতুম ফারেজালান আওরুকবানান)। সুতরাং তোমরা নিজেদেরকে যখন নিরাপদ মনে করিবে তখন আল্লাহ তোমাদেরকে যেভাবে শিক্ষা দিয়াছেন সেইভাবেই স্মরণ করিবে। (ফাইজা আমেনতুম ফাজকুরুল্লাহা কামা আল্লামাকুম)। যাহা তোমরা জানিতে না। (মা লাম তাকুনু তা আলামুনা)।
কোরান-এ সালাতের উল্লেখ : ১১
কোরান-এর ৩ নম্বর সুরা আলে ইমরানের ৩৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে। সুতরাং যখন তিনি (জাকারিয়া) মেহরাবের (কক্ষের) মধ্যে সালাতে দণ্ডায়মান ছিলেন, তখন ফেরেশতাগণ তাহাকে ডাকিয়া বলিলেন (ফানাদাহুল মালাইকাতু ওয়াহুয়া কায়েমুন ইউসাললী ফীল মেহেরাবে) নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে ইয়াহিয়ার সুসংবাদ দিতেছেন (যিনি হইবেন) আল্লাহ্র কালামের সত্যানয়নকারী এবং নেতা এবং জিতেন্দ্রিয়। (আনুনাল্লাহা ইউবাশ্শেরুকা বেইয়াহ্ইয়া মুসাদেকান বেকালেমাতীন মিনাল্লাহে ওয়া সাইয়্যেদান ওয়া হাসুরান)। এবং সালেহীনদের (সৎকর্মশীলদের) মধ্য হইতে নবি। (ওয়া নাবীয়্যান মিনাস্ সালেহীনা)।'
কোরান-এ সালাতের উল্লেখ : ১২
কোরান-এর ৩ নম্বর সুরা আলে ইমরানের ৪৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে হে মরিয়ম, তোমার রবের জন্য অবনত হও এবং সেজদা কর এবং রুকুকারীদের সহিত রুকু কর। (ইয়ামারিয়ামুক নৃতী লীরাবৃবেকে ওয়াসজুদী ওয়ারকাঈ মাআর রাকেঈনা)।'
কোরান-এ সালাতের উল্লেখ : ১৩
কোরান-এর ৪ নম্বর সুরা নেসার ৪৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে হে তোমরা যাহারা ইমান আনিয়াছ! যখন তোমরা মোহগ্রস্ত থাক তখন সালাতের নিকটবর্তী হইও না এমতাবস্থায় যে তোমরা যাহা বল তাহা বুঝিতে পার। (ইয়া আইয়্যুহাল লাজিনা আমানু লা তাকরাবুস্ সালাতা ওয়া আনতুম সুকারা হাতা তা আলাম্ মা তাকুলুনা)। এবং তোমরা সফররত অবস্থা ব্যতীত অপবিত্র অবস্থায় ও পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত (ওয়ালা জুনুবান ইল্লা আবেরিন সাবিলিন হাতা তাগতাসেলু)। এবং যদি তোমরা রোগগ্রস্ত হও অথবা সফররত অবস্থায় থাক অথবা কেহ নারী স্পর্শ (গমন করিয়া থাকে (ওয়া ইনকুনতুম মারদা আও আলা সাফারীন আও জা-আ আহাদুন মিনকুম মিনালগায়েতে আও লামাসতুমুন নেসাআ) সুতরাং যদি পানি না পাওয়া যায়। সুতরাং তোমরা পবিত্র মাটি দিয়া তাইয়াম্মুম করিবে। (ফালাম্ তাজেদু মা আন্ ফাতাইয়াম্মামু সায়ীদান তাইয়্যেবান) সুতরাং তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডলকে এবং হাতগুলোকে মাসেহ করিবে। (ফাসাহু বেউফ্লুহেকুম ওয়া আইদীকুম)। নিশ্চয়ই আল্লাহ পাপমোচনকারী (এবং) অত্যন্ত ক্ষমাশীল (ইন্নাল্লাহা কানা আফুওয়ান গাফুরান)।'
কোরান-এ সালাতের উল্লেখ : ১৪
কোরান-এর ৪ নম্বর সুরা নেসার ৭৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: তুমি কি তাহাদিগকে দেখ নাই যাহাদেরকে বলা হইয়াছিল, তোমাদের হাতকে সংযত কর এবং সালাত কায়েম কর এবং জাকাত আদায় কর। (আলামৃতারা ইলাল্লাজীনা কিলালাহুম কুফ্ফু আইদিয়াকুম ওয়া আকিমুস সালাতা ওয়া আতুজ জাকাতা)। সুতরাং যখন তাহাদের উপর লড়াইকে লিখিয়া দেওয়া হইল তখন তাহাদের মধ্য হইতে একটি দল মানুষকে এমনিভাবে ভয় করিতেছিল যেমনই আল্লাহকে ভয় করে অথবা তাহার চাইতেও অধিক ভয়। (ফালাম্মা কুতীবা আলাইহীমুল কিতালু ইজা ফারীকুম মিন্হুম ইয়াখশাওনান্ নাসা কাখাশিয়াতীল্লাহে আও আশাদ্দা খাইয়াতান)। এবং তাহারা বলিতেছিল, হে আমাদের রব! তুমি কেন আমাদের উপর লড়াই করাকে লিখিয়া দিলে? (ওলা কালু রাব্বানা লেমা কাতাবতা আলাইনাল কেতালা)। কেন তুমি আমাদেরকে আরও কিছুকাল (সময়) অবকাশ ( সুযোগ দিলে না? (লাওলা আখখারতানা ইলা আজালীন কারীবিন)।বল, দুনিয়ার ভোগ অল্পই এবং আখেরাত মুত্তাকিনদের জন্য কতই না উত্তম! (কুল মাতাউদ্দুনিয়া কালীলুন, ওয়াল আখেরাতু খাইরুন লেমানিত্তাকা) এবং তোমাদের উপর সামান্যতমও জুলুম করা হইবে না (ওয়ালা তুজলামুনা ফাতীলান্)।
কোরান-এ সালাতের উল্লেখ : ১৫
কোরান-এর ৪ নম্বর সুরা নেসার ১০১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে এবং যখন তোমরা পৃথিবীর (জগতের) মধ্যে ভ্রমণ করিবে সুতরাং তোমাদের উপর সালাত সংক্ষিপ্ত করাতে কোন গোনাহ হইবে না। (ওয়া ইজা দারাতুম ফীল আরূদে ফালাইসা আলাইকুম জুনাহুন আন্ তাসুরু মিনাস সালাতে)। যদি তোমরা কাফেরগণ কর্তৃক ফেৎনার আশংকা (ভয়) কর। (ইন খেতুম আন্ ইয়াতেনাকুমল্ লাজীনা কাফারূ)। নিশ্চয়ই কাফেরগণ হয় তোমাদের জন্য প্রকাশ্য শত্রু। (ইন্নাল কাফেরীনা কানু লাকুম আদুভ্যাম মুবিনান)।
কোরান-এ সালাতের উল্লেখ: ১৬
কোরান-এর ৪ নম্বর সুরা নেসার ১০২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে এবং যখন তাহাদের (ইমানদারদের মধ্যে অবস্থান করিবে এবং তাহাদের জন্য সালাত কায়েম করিবে (ওয়া ইজা কুন্তা ফীহিম ফাআকাতা লাহুমুস সালাতা)। সুতরাং তাহাদের মধ্য হইতে একটি দল যেন তোমাদের সাথে সশস্ত্র অবস্থায় দাঁড়ায়। (ফাল্তাকুম তায়েফাতুন মিন্হুম মাআকা ওয়াল ইয়াখুজু আস্লে হাতাহুম)। সুতরাং যখন তাহারা সেজদা শেষ করিবে সুতরাং তাহারা যেন তোমাদের পেছনে অবস্থান করে। (ফাইজা সাজাদু ফাল্ইয়াকূনু মিন্ ওয়ারায়েকুম)। এবং অপর দলটি, যাহারা সালাতে অংশগ্রহণ করে নাই তাহারা যেন তোমার সাথে সশস্ত্র এবং সতর্ক অবস্থায় সালাতে অংশগ্রহণ করে। (ওয়াল তাতে তায়েফাতুন উখরা লাম ইউসাল্লু মাআকা ওয়াল্ ইয়াখুজু হেজরাহুম ওয়া আসলে হাতাহুম)। এবং কাফেরগণ ইহা কামনা করে যে, তোমরা যেন তোমাদের অস্ত্রশস্ত্র এবং ধনসম্পদ বিষয়ে অসতর্ক হও, যাহাতে তাহারা তোমাদের উপর একযোগে আক্রমণ করিতে পারে। (ওয়াদ্দাললাজীনা কাফার লাও তাগফুলুনা আন্ আস্লেহাতেকুম ওয়া আমৃতেআতেকুম ফাইয়ামিলুনা আলাইকুম মাইলাতান ওয়াহেদাতান) এবং যদি তোমরা প্রাকৃতিক (বৃষ্টির কারণে অথবা অসুস্থতার কারণে কষ্ট পাও, তোমাদের অস্ত্রশস্ত্রগুলো রাখিয়া দাও তাহা হইলে তোমাদের কোনো গোনাহ হইবে না। (ওয়ালা জুনাহা আলাইকুম ইন্কানা বেকুম আজান মিন্মাতারীন আওকুতুম মারদা আনৃতাদূ আসলে হাতাকুম)। এবং নিশ্চয়ই তোমরা (শত্রু বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করিবে (ওয়াখুজু হোকুম)। নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফেরদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক আজাব প্রস্তুত রাখিয়াছেন। (ইন্নাল্লাহা আ আদ্দা লীল্ কাফেরীনা আজাবান মোহিনান)।
কোরান-এ সালাতের উল্লেখ : ১৭
কোরান-এর ৪ নম্বর সুরা নেসার ১০৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে : সুতরাং যখন তোমরা আল্লাহকে শুইয়া, বসিয়া এবং দাঁড়াইয়া জিকির করিবে। (ফাইজা কাদাহতুমুস্ সালাতা ফাজকুরুল্লাহা কেয়ামান ওয়া কুউদান ওয়া আলা জুনুবেকুম)। সুতরাং যখন তোমরা (যুদ্ধবিগ্রহ হইতে) নিরাপদ থাকিবে তখন তোমরা সালাত কায়েম করিবে। (ফাইজাত মানাতুম ফাআকিমুস্সালাতা)। নিশ্চয়ই নির্দিষ্ট সময়ে সালাত আদায় করা মোমিনদের উপর কর্তব্য। (ইন্নাস সালাতা কানাত আলাল্ মোমিনীনা কেতাবান মাওকুতান)।
কোরান-এ সালাতের উল্লেখ ১৮
কোরান-এর ৪ নম্বর সুরা নেসার ১৪২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে : নিশ্চয়ই মোনাফেকেরা আল্লাহকে ধোঁকা দিতে চাহে অথচ তিনিই তাহাদেরকে এই ধোঁকাবাজির (শাস্তি) দিবেন। (ইন্নাল্ মোনাফেকীনা ইউখাদেউনাল্লাহা ওয়াহুয়া খাদেউহুম)। এবং যখন তাহারা সালাতের জন্য দাঁড়ায় অলস ভরে লোকদের দেখানোর জন্যই। (ওয়া ইজা কামু ইলাস সালাতে কামূ কুসালা ইউরাউনান্নাসা) এবং তাহারা অল্প সংখ্যকই আল্লাহ্র জিকির করে। (ওয়ালা ইয়াজ কুরুনাল্লাহা ইল্লা কালীলান)।
কোরান-এ সালাতের উল্লেখ: ১৯
কোরান-এর ৪ নম্বর সুরা নেসার ১৬২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে কিন্তু তাহাদের মধ্য হইতে যাহারা জ্ঞানে পারদর্শী তাহারা এবং যাহারা ইমানদার এবং যাহারা তোমার প্রতি যাহা নাজেল করা হইয়াছে এবং তোমার পূর্ব হইতে যাহা নাজেল করা হইয়াছে সবগুলোর প্রতি ইমান আনে। (লাকিনীর রাসেখুনা ফীল এলমে মিন্হুম ওয়াল মোমেনুনা ইউমেনুনা বিমা উন্জীলা ইলাইকা ওয়ামা ঊনজীলা মিন কাবলেকা) এবং যাহারা সালাত কায়েম করে এবং জাকাত আদায় করে এবং ইয়াওমুল আখেরের (শেষ বিচার দিনের) প্রতি এবং আল্লাহর প্রতি ইমান আনয়ন করে। (ওয়াল মুকিমিনাস্ সালাতা ওয়াল মৃতুনাজ জাকাতা ওয়াল মুমেনূনা বিল্লাহে ওয়াল ইয়াওমিল আখেরে)। উহাদের জন্য আমরা অচিরেই সর্বোচ্চ বিনিময় প্রদান করিব। (উলাইকা সানুতীহিম আজরান আজীমান্)।
🌻কোরানের দৃষ্টিতে নামাজ ৮২ বার
🔴ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী

Comments
Post a Comment
JOY GURU.
Thank you for your valuable comment.