Skip to main content

Salat |  BABA JAHANGIR 

 কোরান-এ সালাতের উল্লেখ : ৮

কোরান-এর ২ নম্বর সুরা বাকারার ১৭৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে : ‘তোমাদের মুখমণ্ডলকে পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে ফেরানোতে কোনো প্রকার পুণ্য নাই। (লাইসালবেররা আন তুয়াল্লু উজুহাকুম কেবালাল মাশরেকে ওয়াল মাগরেবে) বরং পুণ্য রহিয়াছে যে ব্যক্তি আল্লাহতে ইমান আনিয়াছেন এবং ইয়াওমিল আখেরে (পরকালের দিনের প্রতি) এবং ফেরেশতাগণের প্রতি কেতাব ও নবিগণের প্রতি ইমান আনে। (ওয়া লাকিনাল বেররা মান আমানা বিল্লাহে ওয়াল ইয়াওমিল আখেরে ওয়াল মালাইকাতে ওয়াল কেতাবে ওয়ান নাবিয়্যিনা)। এবং (আল্লাহ্র) ভালোবাসায় আত্মীয় এবং এতিম এবং মিসকিন এবং মুসাফির এবং সাহায্যপ্রার্থীকে এবং দাসমুক্তির জন্য সম্পদ দান করে (ওয়া আতাল মালা আলা হুবিহি জাভীল কুরবা ওয়াল ইয়াতামা ওয়াল মাসাকীনা ওয়াবনাস্সাবীলে ওয়াস্সায়েলীনা ওয়া ফিররেকাবে)। এবং সালাত কায়েম করে এবং জাকাত আদায় করে (ওয়া আকামাস সালাতা ওয়া আতাজাকাতা) এবং আদায়কৃত ওয়াদাকে পরিপূর্ণ করে যখন ওয়াদা করা হয়। (ওয়াল মুফুনা বে আহদেহীম ইজা আহাদু)। এবং ধৈর্যধারণ করে দুঃখে কষ্টে এবং রোগে শোকে এবং যুদ্ধবিগ্রহের সময়ে। (ওয়াসসাবেরীনা ফীল বাসায়ে ওয়াদ দাররায়ে ওয়া হিনাল বাসে)। উহারাই তাহারা যাহারা সত্যবাদী, (উলাইকাল্ লাজিনা সাদাকু) এবং উহারাই তো হন মুত্তাকিন (খোদাভীরু), (ওয়া উলাইকা হুমুল মুত্তাকুনা)।

ব্যাখ্যাঃ

এই আয়াতের প্রথমেই একটি গভীর রহস্যপূর্ণ কথা বলা হয়েছে। সেই কথাগুলোর অনেক রকম অর্থ হতে পারে এবং নিরপেক্ষতা কতটুকু বজায় থাকে তা-ও বলা কঠিন ব্যাপার। তবে যতটুকু বুঝবার শক্তি দান করা হয়েছে ততটুকুর বেশি ব্যাখ্যা দেওয়া কারো পক্ষেই সম্ভবপর নয়। আয়াতের প্রথমেই বলা হয়েছে, পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে মুখ ফেরানোতে কোনো প্রকার লাভও নাই, লোকসানও নাই; তথা পুণ্যও নাই, পাপও নাই। এখানে একটি কথা থেকে যায় যে উত্তর এবং দক্ষিণে চেহারাগুলো ফেরানোতে কোনো ভালোও নাই, মন্দও নাই- কেন বলা হলো না? উত্তর-দক্ষিণ কী এমন দোষ করেছে যে উত্তর-দক্ষিণ বাদ দিয়ে পূর্ব ও পশ্চিমের কথা বলা হলো, তা-ও চেহারাগুলো পূর্ব পশ্চিমে ফেরানোতে কোনো লাভও নাই, লোকসানও নাই বলা হলো কেন? আর মুখমণ্ডলগুলো কেনই বা পূর্ব ও পশ্চিম দিকে ফেরানোর কথাটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হলো? কী এমন পুণ্য আছে এই পূর্ব ও পশ্চিম দিকে মুখমণ্ডল ফেরানোতে? কী এমন অবহেলার বিষয় হলো উত্তর-দক্ষিণ দিকটির নাম উল্লেখ না করে? এই পূর্ব-পশ্চিম বলতে আল্লাহ কী বুঝাতে চেয়েছেন? আবার উত্তর-দক্ষিণের কথাটি উল্লেখ না করেই বা কী এমন রহস্য লুকিয়ে রাখা হয়েছে? যদি ব্যাখ্যার খাতিরে বলতে চাই যে, মেজাজি কাবাটি পশ্চিম দিকে এবং মেজাজি বায়তুল মোকাদ্দাসটি পূর্ব দিকে হবার কারণেই কি বলা হলো? আমরা ভালো করেই জানি যে হাকিকি কাবার অবস্থানটি মানুষের বাঁ দিকে তথা উত্তর দিকে অবস্থান করে বা করছে। এই কথাগুলোর ব্যাখ্যা লিখতে গিয়ে বড়ই ঝুটঝামেলার গোলক ধাঁধায় পড়ে যেতে হয়; তবু মেজাজি কাবা পশ্চিম দিকে হওয়াতেই বলা হয়েছে যে, পূর্ব-পশ্চিমে মুখ ফেরালেই পুণ্য হয় না। তা হলে কী কী কাজ করলে পুণ্য অর্জন করা যায়? আর সেই পুণ্য বলতেই বা কী বুঝায়? পুণ্যটিরও কি মেজাজি এবং হাকিকি অর্থ আছে?

কোরান বলছে, যে-মানুষটি আল্লাহতে ইমান এনেছে তথা আল্লাহকে বিশ্বাস করেছে এবং পরকালের দিনের প্রতি যে বিশ্বাস করেছে এখানে পরকাল বলতেই বা কী বুঝানো হয়েছে? মৃত্যু ঘটনার পর নফ্‌সের যে জীবনটি শুরু হয় উহাকেই পরকাল বলে জানি। এবং ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে বলা হয়েছে। আমরা জানি, ফেরেশতাদের নফসও নাই, রুহও নাই, বরং ফেরেশতারা আল্লাহ্র সেফাতি নুরের তৈরি। তারপর কেতাব ও নবিগণের প্রতি ইমান আনতে বলা হয়েছে। এখানেই শর্তটিকে শেষ করে না দিয়ে আরও বলা হয়েছে যে, আল্লাহ্র ভালোবাসায় আত্মীয়-পরিজন এবং এতিম এবং মিসকিন এবং মুসাফির এবং যারা সাহায্য চায় তাদেরকে এবং দাসমুক্তির জন্য সম্পদ দান করে। তা হলে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, আত্মীয়, এতিম, মিসকিন, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থী এবং দাসমুক্তির কাজগুলো যারা করেন তারাই আল্লাহকে ভালোবাসেন।

প্রথম পাঁচটি বিষয়ের উপর ইমান আনার কথাটি বলা হয়েছে, কিন্তু পরের ছয়টি বিষয় আল্লাহ্র ভালোবাসা পাবার জন্য করতে বলা হয়েছে। অধম লিখকের মনে হয়, প্রতিটি বিষয়ের সঙ্গেই মেজাজি এবং হাকিকি দুইটি রূপকে জড়িয়ে একত্র করে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরেই কোরান-এ বলা হয়েছে সালাত কায়েম করতে এবং জাকাত আদায় করতে। এবং আরও বলা হয়েছে যে, যদি ওয়াদা করে

থাকে তা হলে সেই ওয়াদাটিও পূরণ করতে। এখানেও বিষয়টি শেষ করা হয় নি, বরং বলা হয়েছে, দুঃখ-কষ্টে, রোগ-শোকে এবং যুদ্ধ বিগ্রহের সময়ে ধৈর্যধারণ করে মোকাবেলা করতে। এই এতগুলো কাজ তথা নির্দেশ যাহা আল্লাহ কর্তৃক দেওয়া হয়েছে, উহা পালন করলেই দু'টি খেতাবে আল্লাহ ভূষিত করেন। প্রথম খেতাবটির নাম হলো সত্যবাদী তথা সাদেক এবং দ্বিতীয়টি হলো খোদাভীরু তথা মুত্তাকিন। আয়াতের শেষ শব্দটি হলো মুত্তাকিন। এই এতগুলো গুণের অধিকারী যে বা যারা তারাই মুত্তাকিন এবং আল্লাহ মুত্তাকিনের সঙ্গে আছেন বা থাকেন এই কথাটিও কোরান-এ আমরা দেখতে পাই। আল্লাহর দেওয়া এইসব কঠিন শর্তগুলো তখনই মান্য করা হয়, যখন প্রতিটি নফ্‌সের সঙ্গে যে শয়তানকে খান্নাসরূপে পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে দেওয়া হয়েছে উহা হতে মুক্তিলাভ করা

এই এতগুলো কাজের নির্দেশ কোনো মানুষের পক্ষেই আন্তরিকভাবে করা মোটেই সম্ভবপর নয়, যে পর্যন্ত আপন নফ্স হতে খান্নাসটিকে তাড়িয়ে দেওয়া না হয়। গবেষণার দৃষ্টিভঙ্গিতে বলছি যে, আল্লাহ্র বিশেষ কতগুলো বিষয় আছে যার আদেশ-নিষেধগুলো বার বার বিভিন্ন সুরার আয়াতে দেখতে পাই। আমরা এ-ও জানি যে, আল্লাহর প্রতিটি আদেশ-নিষেধ, প্রতিটি এবাদত-বন্দেগির ভাগ করা বিষয়গুলোতে মাত্র একটি আদেশ, একটি নির্দেশ, একটি আহ্বান, একটি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে আর সেটাই হলো নিজের নফ্‌সের সঙ্গে যে খান্নাসরূপী শয়তানটিকে কেবলমাত্র পরীক্ষা করার জন্য দেওয়া হয়েছে উহাকে তাড়িয়ে দেয়া, বিতাড়িত করা। এই নফুসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা খান্নাসটিকে তাড়িয়ে দেবার জন্য বার বার আল্লাহ বলছেন : সালাত কায়েম করো, জাকাত দাও, রোজা রাখো, ইফতার করতে শেখো, হজ করো, কোরবানি দাও ইত্যাদি। সব কথাগুলো যেন যত সঙ্গীত আছে সব যেমন সাতপাকে বাঁধা, তথা সা-রে-গা মা- পা- ধা- নি- সা-র মধ্যে বেঁধে রাখা হয়েছে, সে রকম আল্লাহ্র সব আদেশ-নিষেধের শেষ কথাটি হলো নিজের নফ্সকে খান্নাসমুক্ত করা। এই খান্নাসের আবার চারটি রূপ আছে। এই খান্নাসই চারটি ভিন্ন ভিন্ন রূপ-রঙ ধারণ করে দুনিয়ার জীবনটিকে লোভনীয়-শোভনীয় করে তুলছে। কত রকম যুক্তিতর্ক, কত রকম দার্শনিকদের দর্শন, কত রকম আইনের প্যাচ খেলা খেলছে একটি মাত্র খান্নাস চারটি রূপধারণ করে। অনেকটা বলা যায় যে, খান্নাসের এক অঙ্গে চারটি ভিন্ন ভিন্ন রূপের প্রতারণার ফাঁদ। এই প্রতারণার ফাঁদগুলো এতই শক্ত, এতই মজবুত, এতই যুক্তিসঙ্গত মনে হয় যে আর কোনো চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা করার অবকাশ নাই। এই খান্নাসের বিরুদ্ধে নসের অবস্থানটিকেই বলা হয় জেহাদ। এই জেহাদ মোটেও যুদ্ধ নয়, এই জেহাদ মানুষের বানানো অস্ত্রের জেহাদ নয়, ইহা ধ্যানসাধনার জেহাদ, ইহা রেয়াজতের জেহাদ, ইহা মোরাকাবা-মোশাহেদার জেহাদ। এই জেহাদে যাঁরা শহিদ হয়ে যান তাঁদের আর মরণ নাই। এই জেহাদে যারা শহিদ হয়ে যান তাঁদেরকে মারা গেছেন বলে চিন্তা করতেও বারণ করা হয়েছে কোরান-এ। এই জেহাদে যারা শহিদ তাঁদের মৃত বলতে যেমন বারণ করা হয়েছে, তেমনি মৃত বলে চিন্তা করতেও বারণ করা হয়েছে। এই জেহাদে যাঁরা শহিদ হতে পারেন তাঁরাই আল্লাহর ওলি। এই জেহাদে যাঁরা শহিদ হয়েছেন আল্লাহ তাঁদেরকে গোপনে রেজেক দিয়ে বাঁচিয়ে রাখেন (বাল এনদা রাব্বিহিম এয়ার জাকুন)। মৃত কোনো রেজেকই গ্রহণ করতে পারে না, তাই মরা মানুষ কোনোদিন আল্লাহ্র রেজেক গ্রহণ করে নিতে পারে না, তাই যারা খান্নাসমুক্ত নফসের জন্য যুদ্ধ করে যায় তাঁরা শহিদ, তাঁরা কখনই মৃত নন। তাই কোরান-এ এই জাতীয় জেহাদের সঙ্গে একটি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন, আর সেই শর্তটির নাম হলো 'ফি সাবিলিল্লাহ্'- একমাত্র আল্লাহর জন্য অথবা একমাত্র আল্লাহ্র মধ্যে।

দুনিয়ার জীবনে মানুষের মন ও মগজে কেবল বিত্ত-বৈভবের চিন্তাটি প্রাধান্য পায়। নফস সুখের উপরে সুখ দেখতে চায়। অনেক সুখ পেয়েছে, তারপর আরও সুখ। আরও সুখ পাবার পরেও কোথা হতে যেন নূতন ভাইরাস আগমনের মতো নূতন নূতন সুখের স্বপ্ন দেখাতেই থাকে। কোনো নফ্স, কোনো প্রাণ, কোনো জীবন, কোনো মানুষ ভাবতেই চায় না যে এই দুনিয়ার সব সুখভোগ, মোহ, মায়া সব কিছু ফেলে দিয়ে একদিন মৃত্যু নামক ঘটনার মুখোমুখি হয়ে আল্লাহ্র রহস্যজগতে প্রবেশ করতেই হবে। আল্লাহ্র এই রহস্যজগতে সবারই প্রবেশ করতেই হবে- এ প্রবেশটি ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক। সুতরাং বৈষয়িক সুখভোগ, বৈষয়িক সাফল্য অর্জনের প্রতিযোগিতা, মারামারি, খুনাখুনি সব কিছু এই খান্নাসই নফ্‌সের সাথে থেকে অনেক রকম ভাইরাস আর ব্যাক্টেরিয়া জন্ম দিয়ে করিয়ে থাকে। সুতরাং আল্লাহর প্রতিটি আদেশ-নিষেধের মধ্যে দুইটি রূপ দেখতে পাই একটি বাহিরের রূপ যাকে মেজাজি বলা হয়, আর একটি ভেতরের রূপ, যাকে হাকিকি বলা হয়। আল্লাহর এই মেজাজি রূপটি অনেকেই কমবেশি পালন করতে পারে, কিন্তু হাকিকি রূপের মাঝে অবগাহন করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়ে যাঁরা মোরাকাবা- মোশাহেদার জেহাদে অবিরাম যুদ্ধ করে চলছেন তথা সাধনা করে চলছেন তাঁরাই মুত্তাকি । আর এই মুত্তাকিদের সঙ্গেই আল্লাহ আছেন বা থাকেন বলে ঘোষণা করা হয়েছে।


🌻কোরানের দৃষ্টিতে নামাজ ৮২ বার

🔴ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী 

Comments

Popular posts from this blog

শরিয়ত, তরিকত, হাকিকত ও মারেফতের আলোচনা -মারেফতের বাণী / ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল-সুরেশ্বরী

শরিয়ত , তরিকত , হাকিকত ও মারেফতের আলোচনা - মারেফতের বাণী / ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা- ঈমান আল -সুরেশ্বরী এইবার আমরা এমন একজন অলীর লেখা কেবলা, কাবা এবং হজের আসল রহস্যের বর্ণনার অনুবাদ করবো যাঁর কথা শুনলে জাতিধর্ম নির্বিশেষে সবাই মাথা নত করে মেনে নেবেন এবং মানতে অবশ্যই বাধ্য হতে হবে। কারণ এমন অলীর কথা তারাই মানতে চাইবে না, যারা মানুষের আকৃতিতে পশুরূপে মানবসমাজে বাস করছে। অবশ্য মানুষের সুরতে যারা পশু তাদেরও প্রয়োজন আছে এবং তারা আছে বলেই তো মারেফতের গোপন কথা লেখার এত আয়োজন । সুতরাং এই লেখার প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিজেকে ভুলেও মানুষের সুরতে পশু প্রমাণ করতে যাবেন না। যদি এমন কাজ করেন ফেলেন তা হলেও আপনাকে সম্মান দেখানো হবে। সেই সম্মানটির নাম হবে ‘ফার্স্ট ক্লাস জোকার।' খেলার মাঠে দু'একজন ড্রেস অ্যাজ ইউ লাইক মার্কা জোকার না থাকলে মাঠের মধ্যে হাসাহাসিটা তেমন জমে উঠে না। সেই বিখ্যাত অলীর লেখায় অনুবাদ করবো যাঁর নাম খাজা হাবিবুলাহ মাতা ফি হুব্‌বুল্‌লা সুলতানুল হিন্দ আতায়ে রসুল খাজা গরিবে নেওয়াজ ইয়া সৈয়দ মাওলানা মঈনুদ্দীন হাসান চিশতী সান্‌জারি আল হোসাইনি আল হাসানি। যার মাজার শরিফের এতই ওজন...

বাবা জাহাঙ্গীর এর বইয়ের তালিকা..

  বাবা জাহাঙ্গীর এর বইয়ের তালিকা  সুফিবাদ প্রকাশনালয় হতে প্রকাশিত ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী ও অন্যান্য  লিখকের বইগুলোর নামঃ   ১ ।মারেফতের গোপন কথা ২।মারেফতের গোপন আলাপ ৩।মারেফতের বানী ৪।সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের একমাত্র পথ-১ম খন্ড ৫।সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের একমাত্র পথ-২য় খন্ড ৬।সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের একমাত্র পথ-৩য় খন্ড ৭।ইতিহাস নয় সুফিবাদের রহস্য ৮।নিহ্নবে চিত্তদাহ সুফিবাদ সার্বজনীন ৯।শরিয়তি শয়তান মারেফতি শয়তান ১০।কোরানের দৃষ্টিতে নামাজ ৮২ বার ১১।গান বাজনার দলিল ১২।ফকিরির আসল কথা ১৩।ফকিরির গোপন কথা ১৪।শরিয়তি সেজদা মারেফতি সেজদা ১৫।কোরানুল মাজিদ ১৫ পারা (হুবহু অনুবাদ ও কিছু ব্যাখ্যা) ১৬।মারেফতের গোপন দর্শন অনেকের অজানা ১৭।মারেফতের গোপন ভেদ-রহস্য ১৮।মারেফতের গোপন আলোচনা ১৯।রোজা ইফতার হজ্জ জাকাত ও কোরবানী ২০.মারেফতের গোপনেরও গোপন কথা ২১.সুফিবাদের গোপনেরও গোপন কথা [উক্ত তালিকার   ১২,১৩,১৬,১৭ও ১৮ নং এই পাঁচটি বই একসাথে ] ২২.ফকিরির গোপনেরও গোপন কথা [সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের একমাত্র পথ ১,২,৩ ও ৪ খন্ড একসাথে] ২৩. আল্লাহ কোথায় থাকেন? ২৪....
Mystery of unknown |Baba Jahangir    অন্ধকারের রহস্য   আমি অন্ধকারকে দেখতে চেয়েছিলাম। অন্ধকার দেখা যায় না। অন্ধকার কেউ দেখতে পারে না। পারে তারাই যাদের একাগ্র ব্যাকুলতা থাকে। অন্ধকার জগতের আসল রূপ। আলাে ক্ষণিকের তরে। আলােতে রহস্য নাই। রহস্য অন্ধকারেই থাকে। যে বিষয়গুলাে বলা যায় না ইহা অন্ধকার। একদম বলা যায় না উহাই অন্ধকার। ঐ অন্ধকারের সন্ধান পায় অন্ধকার খোঁজার জীবনগুলাে। সব প্রাণীকুল একেরই ভিতর নাচানাচি করে।  একেরই বহুরূপ তুলে ধরে। অন্ধকারের প্রাচীরের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন আইনস্টাইন , নিলস বাের , নিউটন , ম্যাক্স প্লংক , লুই পাস্তুর , রঞ্জন , বেয়ার্ড , ফ্লেমিং আরাে অনেক অনেকেই।   এই অন্ধকারের দেয়াল ভেঙ্গে অন্ধকারের গােপন রহস্যগুলাে যখন আলাের সামনে নিয়ে এলাে তখনই অন্ধকার ধরা পড়ে গেল। অন্ধকার থেকে গ্রাহাম বেল কান ধরে টেনে আনলেন টেলিগ্রাম আর টেলিফোন।  প্রিয়তমা স্ত্রী হ্যালােকে প্রথম ফোনে বলেছিলেন হ্যালাে। আলােতে বাস করা পৃথিবীর মানুষগুলাে ফোনে প্রথম উচ্চারণ করে হ্যালাে। প্রেয়সী হ্যালাে মনের অজান্তে সবার মনে অমর হয়ে রইল।  আবিষ্কার শব্দটির মান...