Skip to main content

কোথায় মানুষের চরম সার্থকতা ?

BABA JAHANGIR-SUFISMBANGLA
কোথায় মানুষের চরম সার্থকতা ?
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''
আমরা অনেকেই নফ্স আর রুহের বিরাট পার্থক্যটি বুঝতে না পেরে দুটোকে এক করে ফেলি। নফ্সকে ভাগ করা যায়, কিন্তু রুহকে ভাগ করার প্রশ্নই উঠে না। কোরান-এ যে একুশবার রুহ বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে একটি বারের তরেও রুহকে ভাগ করা হয় নাই। রুহের বহুবচনেও নাই এবং দুই বচনেও নাই। নফ্স প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাঁচ ভাগও করা যায়। যেমন নফ্সে আম্মারা, নফ্সে লাউয়াসা, নফ্সে মোৎমায়েন্না, নফ্সে মূলহেমার এবং নফ্সে ওয়াহেদাতান। আমরা রুহের বিষয়ে কখনই বলতে শুনি নাই যে, রুহে আম্মারা, রুহে লাউয়ামা, রুহে মোৎমায়েন্না। যেখানে রুহের ভাগই নাই, সেখানে ভাগ করাটাই একটা পাগলামি মনে করি। আল্লাহর সমগ্র সৃষ্টিতে আমরা কমবেশি নফ্সের উপস্থিতি দেখতে পাই, কিন্তু রুহের স্বীকৃতি একমাত্র মানব কুলের মাঝে। কারণ রুহ আল্লাহর আদেশ। আদেশ কখনও আল্লাহ্ হতে আলাদা নয়। কোরান-এর কোথায় নফ্সকে আল্লাহর আদেশ বলা হয় নাই। কারণ, নফ্স সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত, পক্ষান্তরে রুহ স্রষ্টা। নফ্স মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করে, রুহ মৃত্যুর ধার-ধারে না।
বাংলাদেশে কিছু কিছু পীর-ফকির আমরা দেখতে পাই, যেমন ঝিটকাতে, কুষ্টিয়াতে এবং অন্যান্য কিছু স্থানে। তারা রুহকে কয়েকভাগে ভাগ করে ফেলে। সবচেয়ে অবাক করা ভাগের নামটি হলো, রুহে হাইওয়ানি (জানোয়ারের রুহ)। জানোয়ারের রুহ আছে এই কথাটি কোরান-হাদিসের কোথাও নাই। বরং জানোয়ার নফ্সের অধিকারী। যে মানুষটির মধ্যে প্রথম রুহ ফুৎকার করে দিলেন তাঁর নাম আদম। এর আগে যে সমস্ত মানুষ ছিল তারা কেবলমাত্র নফ্সের অধিকারী রুহের অধিকারী নয়।
নফ্সে মোৎমায়েন্না একটি পরিশুদ্ধ নফ্স। এই নফ্সের মধ্যে ভেজাল নাই। তাই এই নফ্সের উপরেই রুহ নাজেল করা হয়। এই পরিশুদ্ধ নফ্সের বিচারক আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এবং তাঁর একান্ত অনুগত বান্দা। যখন একটি পরিশুদ্ধ নফ্সের উপর রুহ নাজেল করা হয় তখনই সেই পরিশুদ্ধ নফ্সটি রুহরূপী রবের পরিচয়টি জানতে পারে। এই রহস্যের দরজাটি খুলে ফেলে সত্যসাগরে অবগাহন করাই হলো মানুষের চরম সার্থকতা।
★কালান্দার বাবা জাহাঙ্গীর আল সুরেশ্বরী



>>>ডা:বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী রচিত বইসহ  সুফি দর্শনের উপর বাংলায় রচিত বইসমুহ নিম্নোক্ত ঠিকানায় পাওয়া যাচ্ছে...........

                              ঠিকানা:
                  সুফিবাদ প্রকাশনালয়
              প্রযত্নে:বে-ঈমান হোমিও হল
   ১০৮ নিউ এলিফ্যান্ট রোড(২য় তলা) ঢাকা-১২০৫
               মোবাইলঃ ০১৭১৭৬৩৬৩৫৩

Comments

Popular posts from this blog

বাবা জাহাঙ্গীর এর বইয়ের তালিকা..

  বাবা জাহাঙ্গীর এর বইয়ের তালিকা  সুফিবাদ প্রকাশনালয় হতে প্রকাশিত ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী ও অন্যান্য  লিখকের বইগুলোর নামঃ   ১ ।মারেফতের গোপন কথা ২।মারেফতের গোপন আলাপ ৩।মারেফতের বানী ৪।সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের একমাত্র পথ-১ম খন্ড ৫।সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের একমাত্র পথ-২য় খন্ড ৬।সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের একমাত্র পথ-৩য় খন্ড ৭।ইতিহাস নয় সুফিবাদের রহস্য ৮।নিহ্নবে চিত্তদাহ সুফিবাদ সার্বজনীন ৯।শরিয়তি শয়তান মারেফতি শয়তান ১০।কোরানের দৃষ্টিতে নামাজ ৮২ বার ১১।গান বাজনার দলিল ১২।ফকিরির আসল কথা ১৩।ফকিরির গোপন কথা ১৪।শরিয়তি সেজদা মারেফতি সেজদা ১৫।কোরানুল মাজিদ ১৫ পারা (হুবহু অনুবাদ ও কিছু ব্যাখ্যা) ১৬।মারেফতের গোপন দর্শন অনেকের অজানা ১৭।মারেফতের গোপন ভেদ-রহস্য ১৮।মারেফতের গোপন আলোচনা ১৯।রোজা ইফতার হজ্জ জাকাত ও কোরবানী ২০.মারেফতের গোপনেরও গোপন কথা ২১.সুফিবাদের গোপনেরও গোপন কথা [উক্ত তালিকার   ১২,১৩,১৬,১৭ও ১৮ নং এই পাঁচটি বই একসাথে ] ২২.ফকিরির গোপনেরও গোপন কথা [সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের একমাত্র পথ ১,২,৩ ও ৪ খন্ড একসাথে] ২৩. আল্লাহ কোথায় থাকেন? ২৪....
Mystery of unknown |Baba Jahangir    অন্ধকারের রহস্য   আমি অন্ধকারকে দেখতে চেয়েছিলাম। অন্ধকার দেখা যায় না। অন্ধকার কেউ দেখতে পারে না। পারে তারাই যাদের একাগ্র ব্যাকুলতা থাকে। অন্ধকার জগতের আসল রূপ। আলাে ক্ষণিকের তরে। আলােতে রহস্য নাই। রহস্য অন্ধকারেই থাকে। যে বিষয়গুলাে বলা যায় না ইহা অন্ধকার। একদম বলা যায় না উহাই অন্ধকার। ঐ অন্ধকারের সন্ধান পায় অন্ধকার খোঁজার জীবনগুলাে। সব প্রাণীকুল একেরই ভিতর নাচানাচি করে।  একেরই বহুরূপ তুলে ধরে। অন্ধকারের প্রাচীরের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন আইনস্টাইন , নিলস বাের , নিউটন , ম্যাক্স প্লংক , লুই পাস্তুর , রঞ্জন , বেয়ার্ড , ফ্লেমিং আরাে অনেক অনেকেই।   এই অন্ধকারের দেয়াল ভেঙ্গে অন্ধকারের গােপন রহস্যগুলাে যখন আলাের সামনে নিয়ে এলাে তখনই অন্ধকার ধরা পড়ে গেল। অন্ধকার থেকে গ্রাহাম বেল কান ধরে টেনে আনলেন টেলিগ্রাম আর টেলিফোন।  প্রিয়তমা স্ত্রী হ্যালােকে প্রথম ফোনে বলেছিলেন হ্যালাে। আলােতে বাস করা পৃথিবীর মানুষগুলাে ফোনে প্রথম উচ্চারণ করে হ্যালাে। প্রেয়সী হ্যালাে মনের অজান্তে সবার মনে অমর হয়ে রইল।  আবিষ্কার শব্দটির মান...
কোরান-এ সালাতের উল্লেখ : ৬ কোরান-এর ২ নম্বর সুরা বাকারার ১২৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে এবং যখন আমরা ঘরটিকে (কাবাকে) মানুষদের জন্য ঘাঁটি (মিলনকেন্দ্র) এবং নিরাপত্তার স্থানরূপে নির্বাচন করিলাম (ওয়া ইজ জাআলনাল বাইতা মাসাবাতান লিন্নাসে ওয়া আমনান) এবং মাকামে ইব্রাহিমকে মুসাল্লা (সালাতের স্থান) রূপে গ্রহণ করিতে বলিলাম (ওয়াত্তাখেজু মিন মাকামে ইব্রাহিমা মুসাল্লা) এবং আমরা ইব্রাহিম এবং ইসমাইল হইতে তওয়াফকারী এবং এতেকাফকারী এবং রুকু সেজদাকারীদের জন্য আমার ঘরটিকে পবিত্র রাখার জন্য অঙ্গীকার গ্রহণ করিলাম (ওয়া আহেদনা ইলা ইব্রাহিমা ওয়া ইসমাঈলা আন তাহহেরা বাইতিয়া লিতায়েফিনা ওয়াল আকেফিনা ওয়ার রুক্‌কে ইসসুজুদে)। ব্যাখ্যা কোরান-এর এই আয়াতটি দিয়ে প্রথমেই একটি বিষয় প্রমাণিত করা যায় যে, দুনিয়ার সমস্ত সাহিত্যকর্ম একত্রিত করলেও এই আয়াতটির ভাষা ও শৈলীর ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারবে না। উর্বর মস্তিষ্কের অধিকারীরা এবং দুনিয়ার বৈষয়িক জ্ঞানের অধিকারীরা আমার এইরূপ মন্তব্যে হয়তো মুচকি হেসে যা-তা একটা কিছু বলতে চাইবে এবং এ রকম কিছু একটা যে বলতে চাইবে ইহা বিদ্যাশিক্ষার কর্মফল হতেই অভিজ্ঞতাটি অর্জন করেছি। ভূত...