ইফতার
বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী
সালাত, সিয়াম, জাকাত, হজ এবং কোরবানির মূল বিষয়টি মাত্র একটি; আর সেই বিষয়টি হলো : তোমার পবিত্র নফ্সের সঙ্গে যে খান্নাসরূপী শয়তানটিকে পরীক্ষা করার জন্য দেওয়া হয়েছে উহাকে বের করে দাও, উহা হতে পরিত্রাণ পাবার চেষ্টা চালিয়ে যাও। আর এই চেষ্টা চালাবার বিভাগটির নামই হল সুফিবাদ তথা ফকিরি। তাই সুফি কবি আল্লামা ইকবাল বলেছেন, ‘তেরা তরিকা আমিরি নাহি ফকিরি হ্যায়।’ এই বিষয়টি সুরা মোমিনের ষাট নম্বর আয়াতে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে যে, তুমি একা ডাকো (দুইজন ডাকলে হবে না), ডাকের জবাবটি সঙ্গে সঙ্গে পেয়ে যাবে। এই পবিত্র নফ্স তথা আমি এবং আমার সঙ্গে খান্নাসরূপী শয়তান মিলে দুইজন হয়ে গেলাম। দুইজন হলেই ‘উদউনা’ হয়ে যায়। কোরান ‘উদউনা’ শব্দটি ব্যবহার করে নি। কোরান ‘উদউনা’-র বদলে ‘উদউনি’ বলেছে। ‘উদউনা’ হল দুইজন আর ‘উদউনি’ হল একজন। সুতরাং সিয়াম হলো পরিত্যাগ। কী পরিত্যাগ করতে হবে? নিজের নফ্সের সঙ্গে যে খান্নাসরূপী শয়তানটিকে পরীক্ষামূলকভাবে দেওয়া হয়েছে তাকে বর্জন করার নামটি হল সিয়াম। বর্জনের প্রথম মুহূর্তটিকে বলা হয় ইফতার। এই ইফতারটি হাকিকি ইফতার এবং এই হাকিকি ইফতারটিকে বুঝিয়ে দেবার জন্য মেজাজি ইফতারটিকে রাখা হয়েছে। বিমূর্তটির পাশেই মূর্ত। এই হাকিকি ইফতারটি যে বান্দা করতে পেরেছেন তাঁর বাকি জীবনটাই রোজা। তাই হাকিকি রোজার প্রথমে ইফতারের অনুশীলন, তারপর রোজা এবং এই রোজাটি সারা জীবনের রোজা; আর মেজাজি রোজার প্রথমে রোজা এবং পরে ইফতার।
মহানবি বলেছেন যে, যে ব্যক্তি সবচাইতে তাড়াতাড়ি ইফতার করতে পারেন সেই ব্যক্তিটি আল্লাহ্র কাছে সবচাইতে প্রিয় বান্দা। (হুবহু উদ্ধৃত নয়)। মহানবির এই হাদিসটির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ওহাবি ফেরকার অনুসারী এবং তাদের চেলা-চামুণ্ডারা মহাফাঁপড়ে পড়ে যায়। কারণ ওহাবিরা অধ্যাÍবাদকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে। কোনো অবস্থাতেই ওহাবিদের লিখনিতে, ওহাবিদের চিন্তা-চেতনায় অধ্যাÍবাদের বিন্দু-বিসর্গও স্থান পায় না। অন্যদিকে মহানবির আরেকটি হাদিস তুলে ধরলাম। মহানবি বলেছেন : একটি কালো সুতা যখন অন্ধকারের সঙ্গে মিলে যায় তথা একাকার হয়ে যায় তখন ইফতার করিও। (হুবহু উদ্ধৃত নয়)। ইফতার মূলত দুই প্রকার : একটি মেজাজি ইফতার এবং অপরটি হাকিকি ইফতার। মেজাজি ইফতারে মেজাজি রোজার শেষে কিছু হালকা খাদ্য খেতে হয়, যেমন খোরমা, খেজুর, কাঁচা বুট, সিদ্ধবুট, মুড়ি, তেলেভাজা, পেঁয়াজু, বেগুনি, ফুলুরি, আলুর চপ ইত্যাদি। মেজাজি রোজা রাখার পর এই মেজাজি ইফতারটি আজানের সঙ্গে সঙ্গে যে করে সে কেমন করে আল্লাহ্র সবচেয়ে প্রিয় বান্দা হতে পারে? এইখানে এবং এই ইফতার বিষয়টির উপর যে হাদিসটি আছে উহা একদম হাকিকি ইফতার সম্পর্কে। মানুষ যখন একটানা রোজা রেখে নিজের ভেতরের ছয়টি রিপুকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে তখনই নিজের ভেতরের খান্নাসরূপী শয়তানটি বন্দি হয়ে যায় তথা শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয় তথা শয়তানটিকে শিকল দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। ছয়টি রিপুর কাজকর্মগুলো তখন রোজাদারদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসে যায়। দুনিয়ার বৈষয়িক জ্বালা-যন্ত্রণা তখন আর সাধকের কাছে উঁকিঝুঁকি মারতে পারে না, কারণ খান্নাসরূপী শয়তান বন্দি হয়ে আছে সাধকের সিয়াম সাধনার মাধ্যমে। যেইমাত্র সাধকের আপন নফ্সের উপর ছয়টি রিপুর লেলিহান জিহ্বাগুলো চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায় এবং রোজাদারদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসে যায়, তখনই সেই সাধকের জন্য সেই সময়টিকে বলা হয় ইফতারের সময়।
খাজা গরিবে নেওয়াজ আসরারে হাকিকি নামক ফারসি ভাষার বইটিতে চমৎকার ভাষায় এ বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়েছেন। তারই কিছু অংশ নিম্নে তুলে ধরলাম। মহানবি (আ.) হযরত উমরকে বলছেন, ‘হে উমর, আল্লাহর দিদার ছাড়া আর অন্য কিছুর জন্য আমি মোহতাজ নই। আসল রোজার ইফতার শুরু হয় দিদারে এলাহি দিয়ে এবং শেষও হয় দিদারে এলাহি দিয়ে তাই চেষ্টা করে যেতে হবে যে, দিদারে এলাহি দিয়ে রোজা রাখা এবং দিদারে এলাহি দিয়ে ইফতার করা। হে উমর, রোজার হাকিকির শুরু ও শেষ বিষয়ের উপর ভালভাবে খেয়াল রেখো। মনে রেখো, রোজার হাকিকির শুরু হয় আল্লাহর মারেফত অর্জন থেকে এবং এর শেষ বা ইফতার হচ্ছে আল্লাহর দিদার লাভ করা। রোজাদারদের জন্য দুইটি খোশ খবর থাকে- একটি ইতফারের সময় এবং অপরটি আল্লাহর দিদারে মধ্যে ডুবে যাওয়া।’
‘হে উমর, সাধারণ মানুষের জন্য প্রথমে রোজা রাখা এবং রোজা শেষে ইফতার করা। (অবশ্য সাধারণ হতেই অসাধারণের বিষয়টি অবগত হওয়া যায়। সাধারণ না থাকলে অসাধারণের বিষয়টি বিমূর্ত হয়ে যেত। তাই সাধারণটিকে উপেক্ষা অথবা অবহেলা করতে নাই)। কিন্তু মেজাজি রোজার সিদ্ধান্তটি এক রকম আর হাকিকি রোজার সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ অন্য রকম। হাকিকি রোজার আরম্ভ হয় ইফতার দিয়ে, তারপর রোজই রোজা তথা জীবনটাই রোজা। মাজ্জুব, সালেক এবং যারা খোদার পথের পথিক তাঁরা সদা সর্বদা তথা সব সময় এবং সর্বাবস্থায় রোজার মধ্য দিয়ে দিনযাপন করেন। আরও মনে রাখতে হবে যে, খোদার পথের পথিকেরা তথা মাজ্জুব এবং সালেকেরা ক্ষণকালের জন্যও আর রোজা ভাঙ্গেন না তথা ইফতার গ্রহণ করেন না। কারণ আসল রোজা তথা হাকিকি রোজার জন্য ইফতার করাটি শর্ত নয় বরং ইফতারের জন্য রোজা রাখাটাই একমাত্র শর্ত। আবার ওয়াসেলানে এলাহির (খোদার সঙ্গে মিলনকারীগণ) অবস্থা এমন কখনো হয় না যে, তাঁরা কখনো কখনো রোজা রাখবে আবার কখনো কখনো ইফতারও করবে। এর প্রধান কারণটি হল, তাঁরা সদা সর্বদা সর্ব অবস্থায় রোজার মধ্যে থাকে।
এই ইফতারের সময়টি যে রোজাদারের জীবনে সবচেয়ে তাড়াতাড়ি আগমন করে সেই আগমনের সময়টিকেই বলা হয় সবচেয়ে তাড়াতাড়ি ইফতার করা, এবং সবচেয়ে তাড়াতাড়ি যে রোজাদার এই ইফতার করতে পারেন তিনিই আল্লাহ্র কাছে সবচেয়ে প্রিয় বান্দা। তাই বলে মেজাজি ইফতারটিকেও কোনো অবস্থাতেই অবহেলা করা যায় না, কারণ মেজাজি দিয়েই হাকিকির সন্ধান পাওয়া যায়, কারণ ধোঁয়া দেখেই আগুনের সন্ধান পাওয়া যায়। সুতরাং মেজাজি ইফতারটি দেখা যায়, দেখা যায় রোজা রাখার পর খেজুর, মুড়ি এবং ডালভাজা, ফুলুরি জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করতে। কিন্তু হাকিকি ইফতারটি দেখা যায় না, কারণ ইহা বিমূর্ত।
মূর্ত এবং বিমূর্ত যে-যে বিষয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সেই সেই বিষয়ের সঙ্গে অনেক রকম পুরস্কার পাবার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, এমনকি স্পেশাল জান্নাত দেবার কথাটিও বলা হয়েছে। কিন্তু কোরান-এ একটিবারও বলা হয় নি যে, আল্লাহ রোজাদারদের সঙ্গে থাকেন তথা ‘ইন্নাল্লাহা মা আস সায়েমিনা’ (নিশ্চয়ই আমি রোজাদারদের সাথে থাকি)। এ রকম একটি কোরান-এর আয়াতও আমি পাই নি (আমার জানা মতে)। মেজাজি রোজা এবং মেজাজি ইফতারের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যটি হলো রোজাদারদেরকে হাকিকি রোজা এবং হাকিকি ইফতার বুঝিয়ে দেওয়া।
রমজানের সময় আল্লাহ সমস্ত শয়তানদেরকে বেঁধে রাখেন যাতে দুনিয়াতে শান্তি বিরাজ করে। এই কথাটিও মেজাজি নয়, বরং হাকিকি। মেজাজি শয়তানদেরকে যদি বেঁধেই ফেলা হয় তো দুনিয়াভর শান্তি বিরাজ করবার কথা। ঝগড়াঝাঁটি, মারামারি, খুনখারাপি জাতীয় বিষয়গুলোর গুরুঠাকুরই হলো শয়তান। এই শয়তানদেরকেই যদি বেঁধে ফেলা হয় তো দুনিয়াতে শান্তি বিরাজ করার কথা।
যাহা আছে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে তাহা আছে প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যে এবং রোজাদারও একজন মানুষ এবং এই একটানা রোজার সাধনায় যখন রোজাদার লেগে থাকেন, তখন আল্লাহ্র বিশেষ রহমত পেয়ে ছয়টি রিপু অদৃশ্য শৃঙ্খলে বন্দি হয়ে যায়। ‘আমি’-র সঙ্গে শয়তান-ইবলিস-মরদুদ-খান্নাসগুলোর অবস্থানটি কারাগারের দেয়াল দেবার মতো সাধকের মধ্যে বন্দি হয়ে যায়। এই বন্দি অবস্থাটি যে রোজাদার সবচেয়ে তাড়াতাড়ি তৈরি করতে পারেন তাঁকেই বলা হয়েছে সবচাইতে তাড়াতাড়ি ইফতারকারী। একটি মানব দেহকেও রূপক ভাষায় তথা মেজাজি ভাষায় বিশ্বব্রহ্মাণ্ড বোঝানো হয়ে থাকে। তাই বলা হয়ে থাকে, যা আছে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে তা আছে মানবদেহে। রূপক ভাষায় ‘আর্দ’ বলতে পৃথিবী, মাটি এবং একটি মানব দেহকেও বোঝানো হয়ে থাকে। ‘সামাওয়াতি’ বলতে যেমন আকাশকে বোঝানো হয়েছে তেমনি মানব মনটিকেও বোঝানো হয়েছে। এই জাতীয় শয়তানগুলো মানবের মনের আকাশে বিরাজ করে বলেই ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। কেননা আরবি ভাষাটি অত্যন্ত গরিব ভাষা। দুঃখ পেলেও ইহা একটি সত্য কথা। কারণ ‘দারবুন’ তথা পেটানো বা মারা শব্দটি একশত রকম অর্থে ব্যবহার করা হয়। সুতরাং একটি শব্দ দিয়ে যদি একশত রকম অর্থ বোঝানো হয়ে থাকে তো অনেক রকম ফেরকা হতেই পারে। একেকজন তাদের মনের মতো করে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করে যায় এবং এই বিভিন্ন ব্যাখ্যায় বিভিন্ন মতবাদ দেখতে পাওয়া যায়। তাই আমরা ইতিহাসের পাতায় দেখতে পাই যে, খারেজিদের সঙ্গে যুদ্ধ করার আগে মাওলা আলি (আ.) নিজেই বলেছেন যে, খারেজিরা আমাদের কোরান-এর ব্যাখ্যাটি গ্রহণ না-ও করতে পারে। তাই তিনি যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে সন্ধিতে উপনীত হতে আদেশ করেছেন। যে সাধক তথা রোজাদারের জীবনে একবার হাকিকি ইফতারটি হয়ে গেছে তার জন্য বাকি জীবনটি ষড়রিপুর বন্ধনমুক্ত জীবন, তথা খান্নাসরূপী শয়তান-ইবলিস-মরদুদমুক্ত জীবন। এই জীবনকেই বলা হয় আমিত্ববিহীন জীবন, এই জীবনকেই বলা হয় হাস্তি-খুদি-অহম-ইগো বিদায় করে দেবার জীবন।
যাহা আছে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে তাহা আছে প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যে এবং রোজাদারও একজন মানুষ এবং এই একটানা রোজার সাধনায় যখন রোজাদার লেগে থাকেন, তখন আল্লাহ্র বিশেষ রহমত পেয়ে ছয়টি রিপু অদৃশ্য শৃঙ্খলে বন্দি হয়ে যায়। ‘আমি’-র সঙ্গে শয়তান-ইবলিস-মরদুদ-খান্নাসগুলোর অবস্থানটি কারাগারের দেয়াল দেবার মতো সাধকের মধ্যে বন্দি হয়ে যায়। এই বন্দি অবস্থাটি যে রোজাদার সবচেয়ে তাড়াতাড়ি তৈরি করতে পারেন তাঁকেই বলা হয়েছে সবচাইতে তাড়াতাড়ি ইফতারকারী। একটি মানব দেহকেও রূপক ভাষায় তথা মেজাজি ভাষায় বিশ্বব্রহ্মাণ্ড বোঝানো হয়ে থাকে। তাই বলা হয়ে থাকে, যা আছে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে তা আছে মানবদেহে। রূপক ভাষায় ‘আর্দ’ বলতে পৃথিবী, মাটি এবং একটি মানব দেহকেও বোঝানো হয়ে থাকে। ‘সামাওয়াতি’ বলতে যেমন আকাশকে বোঝানো হয়েছে তেমনি মানব মনটিকেও বোঝানো হয়েছে। এই জাতীয় শয়তানগুলো মানবের মনের আকাশে বিরাজ করে বলেই ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। কেননা আরবি ভাষাটি অত্যন্ত গরিব ভাষা। দুঃখ পেলেও ইহা একটি সত্য কথা। কারণ ‘দারবুন’ তথা পেটানো বা মারা শব্দটি একশত রকম অর্থে ব্যবহার করা হয়। সুতরাং একটি শব্দ দিয়ে যদি একশত রকম অর্থ বোঝানো হয়ে থাকে তো অনেক রকম ফেরকা হতেই পারে। একেকজন তাদের মনের মতো করে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করে যায় এবং এই বিভিন্ন ব্যাখ্যায় বিভিন্ন মতবাদ দেখতে পাওয়া যায়। তাই আমরা ইতিহাসের পাতায় দেখতে পাই যে, খারেজিদের সঙ্গে যুদ্ধ করার আগে মাওলা আলি (আ.) নিজেই বলেছেন যে, খারেজিরা আমাদের কোরান-এর ব্যাখ্যাটি গ্রহণ না-ও করতে পারে। তাই তিনি যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে সন্ধিতে উপনীত হতে আদেশ করেছেন। যে সাধক তথা রোজাদারের জীবনে একবার হাকিকি ইফতারটি হয়ে গেছে তার জন্য বাকি জীবনটি ষড়রিপুর বন্ধনমুক্ত জীবন, তথা খান্নাসরূপী শয়তান-ইবলিস-মরদুদমুক্ত জীবন। এই জীবনকেই বলা হয় আমিত্ববিহীন জীবন, এই জীবনকেই বলা হয় হাস্তি-খুদি-অহম-ইগো বিদায় করে দেবার জীবন।
তাই তো আমরা জানতে পেরেছি যে, খাজা মুঈনুদ্দিন হাসান চিশতি তাঁর প্রধান খলিফা কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকি ও অন্যান্যদের এই বলে উপদেশ দিচ্ছেন যে, প্রথমে ইফতার করতে শেখো, তা হলে বাকি জীবনটি তোমার রোজা। এই কথাগুলো কেউ বোঝে, কেউ বোঝে না। কেউ মেনে নেয়, কেউ মেনে নেয় না। মেনে নেওয়াটাও তকদির, না মেনে নেওয়াটাও তকদির। সুতরাং এই বিষয়টিতে কাকে দোষ দিতে যাবো?
কালো সুতা আঁধারের সঙ্গে একাকার হয়ে যাবার সময় ইফতার করার কথাটি এবং সবচেয়ে তাড়াতাড়ি ইফতার করার কথাটির মাঝে মিল খুঁজে পায় না বলেই সূর্য ডোবার সাথে সাথে ইফতার করার বিধানটিকে গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু শিয়া ফেরকায় কালো সুতা আঁধারে একাকার হয়ে না যাওয়া পর্যন্ত ইফতার করার বিধানটি রাখা হয় নি। আমরা দেখতে পাই, ব্যবহারিক জীবনের অনেক বিষয়েই চার মাজহাবের চার ইমাম একমত হতে পারেন নি। এই একমত না হবার দরুন যারা দুঃখ প্রকাশ করে এবং চার মাজহাবের চার ইমামকে সমালোচনা করে, আমি তাদেরকে বোকাই বলতে চাই।
কোরান-হাদিস-এ কোথাও এই চার মাজহাবের নামগন্ধটিও পাওয়া যায় না। তা হলে কি এই চার মাজহাব মানাটিকে অন্যায় বলতে চান? না, কখনই না। কারণ চার মাজহাবের চার ইমাম ব্যবহারিক জীবনের যে নিয়ম-পদ্ধতি দিয়ে গেছেন উহা কোরান-হাদিস হতেই দিয়ে গেছেন। একেক মাজহাব একেকটি নিয়ম গ্রহণ করেছে, তাই বিভিন্নতা দেখতে পাই; আসলে বিভিন্নতার মাঝেই একের ঐক্যতান্ত্রিকতা লুকিয়ে আছে।
অনেকে তো চার মাজহাবকে চারটি বেদাত বলে মনে করে। ধরে নিলাম বেদাত তথা নববিধান, কিন্তু এ বেদাত সুন্দর বেদাত তথা ‘বেদাতে হাসানা’, কিন্তু খারাপ বেদাত তথা ‘বেদাতে সাইয়া’ নয়। দুনিয়াতে মানুষ যে নূতন নূতন ব্যবহারিক বিষয়গুলো আবিষ্কার করে যাচ্ছে মানব মঙ্গলের জন্য সেইগুলোও তো বেদাত, কিন্তু সুন্দর বেদাত তথা বেদাতে হাসানা। রেডিও, টেলিভিশন, সিডি, ভিসিডি, ভিডিও হতে টেলিগ্রাম, টেলিফোন মোবাইল ফোন এবং আধুনিক চিকিৎসার অভাবনীয় উন্নয়নগুলো তো সবই বেদাত, কিন্তু সুন্দর বেদাত তথা ‘বেদাতে হাসানা’।
১। দরবার হতেঃ যে কেউ সরাসরি দরবার থেকে বাবার লিখিত বই সংগ্রহ করতে পারেন। দরবারের ঠিকানাটি হলঃ গুলিস্তান হতে বাবুবাজার ব্রিজ পার হয়ে চুনকুটিয়া চৌরাস্তা থামতে হবে, সেখান থেকে রিক্সাযোগে চৌধুরীপাড়া আসতে হবে। এসে চুনকুটিয়া মডেল স্কুলের পাশে বাবা জাহাঙ্গীরের আস্তানা বললেই সবাই দেখিয়ে দেবে। মোবাইল:০১৭১৭৬৩৬৩৫৩, ০১৯১১৫৯৭৭৮০।
২। প্রকাশনী হতেঃ আপনারা ইচ্ছা করলে আমাদের প্রকাশনী হতেও বাবার লিখিত বই সংগ্রহ করতে পারেন। প্রকাশনীর ঠিকানাটি হল:
সুফিবাদ প্রকাশনালয় ,
প্রযত্নেঃবে-ঈমান হোমিও হল, ১০৮ নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা ১২০৫। মোবাইল:০১৭১৭৬৩৬৩৫৩, ০১৯১১৫৯৭৭৮০।
সুফিবাদ প্রকাশনালয় ,
প্রযত্নেঃবে-ঈমান হোমিও হল, ১০৮ নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা ১২০৫। মোবাইল:০১৭১৭৬৩৬৩৫৩, ০১৯১১৫৯৭৭৮০।
৩। কুরিয়ার সার্ভিসঃ আপনার পছন্দের বই আমরা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমেও প্রেরণ করে থাকি। সে ক্ষেত্রে বইয়ের লিস্ট অনুযায়ী অর্থ বিকাশের মাধ্যমে পেমেন্ট করলে আমরা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বই আপনার ঠিকানায় পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা করি। মোবাইল:০১৭১৭৬৩৬৩৫৩, ০১৯১১৫৯৭৭৮০।

Comments
Post a Comment
JOY GURU.
Thank you for your valuable comment.