Skip to main content

ইবলিসের ভেদ

   

বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীর

                                     ইবলিসের ভেদ
সেই 
ইবলিস এখন কোথায় আছে? প্রশ্নটি অতি মারাত্নক এবং বুঝবার জন্য গভীর চিন্তাসাপেক্ষ। ইবলিস বাহিরে নেই। ইবলিস আমাদের মতো মানুষের ভেতরই আপন মূর্তিতে বিরাজমান। মানুষ ছাড়া ইবলিসের নিজস্ব কোনো আকার নেই। মানুষ ছাড়া ইবলিস সম্পূর্ণ আকারবিহীন তথা নিরাকার। তাই মানুষ যেমন আল্লাহর রহস্য তেমনি ইবলিসের রহস্যও এই মানুষ। তাই ইবলিসের যত আকাম-কুকাম সব মানুষের আকৃতির মধ্যেই প্রকাশ পায় এবং এই মানুষ দিয়েই ইবলিসের যত আকাম-কুকাম করানো হয়। মানুষের দেহ এবং রক্তে ইবলিস এমন নিখুঁতভাবে মিশে যায় যে তাকে আর ধরবার উপায়ই থাকে না। তখন সে মানুষের আকৃতিতে ইবলিস। চিনে নিতে বড় কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় যে, সে কি মানুষরূপী আদম না মানুষরূপী ইবলিস। সুতরাং এই মানুষরূপী ইবলিস কখনোই চায় না মানুষরূপী আদমকে সেজদা করতে তথা আনুগত্য গ্রহণ করতে, কিন্তু আল্লাহ পাক ঘোষণা করছেন যে, আদমের মাধ্যম ছাড়া আল্লাহকে পাওয়া যাবে না, তথা ফানা ফিশ শায়েখ না হয়ে, তথা আপন পীরের মাধ্যে ফানা না হয়ে ফানা ফিল্লাতে যাওয়া যাবে না, তথা আল্লাহতে ফানা হতে পারবে না। তাই খাজা বাবা বলেছেন যে, যার পীর নেই শয়তান হলো তার পীর। কারণ শয়তান পীরকে তথা আদমকে সেজদা তথা আনুগত্য গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে যেমন আমাদেরই মধ্যে যারা নররূপী শয়তান তারা পীরেকে তথা আদমকে সেজদা না দিয়ে তথা আনুগত্য গ্রহণ না করে সোজাসুজি আল্লাহকে পেতে চায় এবং এই চাওয়া যে ইবলিসের চাওয়ার সঙ্গে হুবহু মিল তথা সাদৃশ্য রয়েছে জ্ঞানী জনেরা সহজেই বুঝতে পারেন এবং ইহাও বুঝতে পারেন যে মানুষ ছাড়া শয়তানকে পাওয়া যায় না তথা মানুষ ছাড়া শয়তান হয়ে পড়ে সম্পূর্ণ নিরাকার ।
হুজুর পাক(আ.) একবার সাহাবাদেরকে বলেছিলেন যে, প্রত্যেক মানুষের সঙ্গেই একটি করে শয়তান দেওয়া হয়েছে। এই কথা শুনে একজন সাহাবা হুজুর পাককে (আ)প্রশ্ন করেছিলেন যে, তা হলে কি আপানার সঙ্গেও একটি শয়তান? হুজুর পাক(আ) বলেছিলেন যে, হ্যাঁ তার সঙ্গেও একটি শয়তান দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি সেই শয়তানকে মুসলমান বানিয়ে ফেলেছেন ।

  ------------ বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীর।
                                                                  যোগাযোগের ঠিকানাঃ


                                                   সুফিবাদ  প্রকাশনালয়                        

                             প্রযত্নে:বে-ঈমান হোমিও হল

     ১০৮ নিউ এলিফ্যান্ট রোড(২য় তলা) ঢাকা-১২০৫।

মোবাইলঃ০১৭১৭৬৩৬৩৫৩

Comments

Popular posts from this blog

বাবা জাহাঙ্গীর এর বইয়ের তালিকা..

  বাবা জাহাঙ্গীর এর বইয়ের তালিকা  সুফিবাদ প্রকাশনালয় হতে প্রকাশিত ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী ও অন্যান্য  লিখকের বইগুলোর নামঃ   ১ ।মারেফতের গোপন কথা ২।মারেফতের গোপন আলাপ ৩।মারেফতের বানী ৪।সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের একমাত্র পথ-১ম খন্ড ৫।সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের একমাত্র পথ-২য় খন্ড ৬।সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের একমাত্র পথ-৩য় খন্ড ৭।ইতিহাস নয় সুফিবাদের রহস্য ৮।নিহ্নবে চিত্তদাহ সুফিবাদ সার্বজনীন ৯।শরিয়তি শয়তান মারেফতি শয়তান ১০।কোরানের দৃষ্টিতে নামাজ ৮২ বার ১১।গান বাজনার দলিল ১২।ফকিরির আসল কথা ১৩।ফকিরির গোপন কথা ১৪।শরিয়তি সেজদা মারেফতি সেজদা ১৫।কোরানুল মাজিদ ১৫ পারা (হুবহু অনুবাদ ও কিছু ব্যাখ্যা) ১৬।মারেফতের গোপন দর্শন অনেকের অজানা ১৭।মারেফতের গোপন ভেদ-রহস্য ১৮।মারেফতের গোপন আলোচনা ১৯।রোজা ইফতার হজ্জ জাকাত ও কোরবানী ২০.মারেফতের গোপনেরও গোপন কথা ২১.সুফিবাদের গোপনেরও গোপন কথা [উক্ত তালিকার   ১২,১৩,১৬,১৭ও ১৮ নং এই পাঁচটি বই একসাথে ] ২২.ফকিরির গোপনেরও গোপন কথা [সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের একমাত্র পথ ১,২,৩ ও ৪ খন্ড একসাথে] ২৩. আল্লাহ কোথায় থাকেন? ২৪....

শরিয়ত, তরিকত, হাকিকত ও মারেফতের আলোচনা -মারেফতের বাণী / ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল-সুরেশ্বরী

শরিয়ত , তরিকত , হাকিকত ও মারেফতের আলোচনা - মারেফতের বাণী / ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা- ঈমান আল -সুরেশ্বরী এইবার আমরা এমন একজন অলীর লেখা কেবলা, কাবা এবং হজের আসল রহস্যের বর্ণনার অনুবাদ করবো যাঁর কথা শুনলে জাতিধর্ম নির্বিশেষে সবাই মাথা নত করে মেনে নেবেন এবং মানতে অবশ্যই বাধ্য হতে হবে। কারণ এমন অলীর কথা তারাই মানতে চাইবে না, যারা মানুষের আকৃতিতে পশুরূপে মানবসমাজে বাস করছে। অবশ্য মানুষের সুরতে যারা পশু তাদেরও প্রয়োজন আছে এবং তারা আছে বলেই তো মারেফতের গোপন কথা লেখার এত আয়োজন । সুতরাং এই লেখার প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিজেকে ভুলেও মানুষের সুরতে পশু প্রমাণ করতে যাবেন না। যদি এমন কাজ করেন ফেলেন তা হলেও আপনাকে সম্মান দেখানো হবে। সেই সম্মানটির নাম হবে ‘ফার্স্ট ক্লাস জোকার।' খেলার মাঠে দু'একজন ড্রেস অ্যাজ ইউ লাইক মার্কা জোকার না থাকলে মাঠের মধ্যে হাসাহাসিটা তেমন জমে উঠে না। সেই বিখ্যাত অলীর লেখায় অনুবাদ করবো যাঁর নাম খাজা হাবিবুলাহ মাতা ফি হুব্‌বুল্‌লা সুলতানুল হিন্দ আতায়ে রসুল খাজা গরিবে নেওয়াজ ইয়া সৈয়দ মাওলানা মঈনুদ্দীন হাসান চিশতী সান্‌জারি আল হোসাইনি আল হাসানি। যার মাজার শরিফের এতই ওজন...
Mystery of unknown |Baba Jahangir    অন্ধকারের রহস্য   আমি অন্ধকারকে দেখতে চেয়েছিলাম। অন্ধকার দেখা যায় না। অন্ধকার কেউ দেখতে পারে না। পারে তারাই যাদের একাগ্র ব্যাকুলতা থাকে। অন্ধকার জগতের আসল রূপ। আলাে ক্ষণিকের তরে। আলােতে রহস্য নাই। রহস্য অন্ধকারেই থাকে। যে বিষয়গুলাে বলা যায় না ইহা অন্ধকার। একদম বলা যায় না উহাই অন্ধকার। ঐ অন্ধকারের সন্ধান পায় অন্ধকার খোঁজার জীবনগুলাে। সব প্রাণীকুল একেরই ভিতর নাচানাচি করে।  একেরই বহুরূপ তুলে ধরে। অন্ধকারের প্রাচীরের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন আইনস্টাইন , নিলস বাের , নিউটন , ম্যাক্স প্লংক , লুই পাস্তুর , রঞ্জন , বেয়ার্ড , ফ্লেমিং আরাে অনেক অনেকেই।   এই অন্ধকারের দেয়াল ভেঙ্গে অন্ধকারের গােপন রহস্যগুলাে যখন আলাের সামনে নিয়ে এলাে তখনই অন্ধকার ধরা পড়ে গেল। অন্ধকার থেকে গ্রাহাম বেল কান ধরে টেনে আনলেন টেলিগ্রাম আর টেলিফোন।  প্রিয়তমা স্ত্রী হ্যালােকে প্রথম ফোনে বলেছিলেন হ্যালাে। আলােতে বাস করা পৃথিবীর মানুষগুলাে ফোনে প্রথম উচ্চারণ করে হ্যালাে। প্রেয়সী হ্যালাে মনের অজান্তে সবার মনে অমর হয়ে রইল।  আবিষ্কার শব্দটির মান...