রোজা কথাটি যদিও বাংলায় চালু, কিন্তু ইহা ফারসি ভাষা হতে এসেছে। উর্দুতেও রোজাই বলা হয়। কিন্তু আরবিতে ইহাকে সিয়াম বলে। যে ব্যক্তি সিয়াম পালন করে তাকে বলে সায়েম।
এখন প্রশ্নটি হলো, সিয়াম বলতে কী বোঝায়? সিয়াম অর্থ হলো, প্রত্যাখ্যান, বর্জন, ত্যাগ, বিরত থাকা। ইংরেজিতে রিজেকশন বলা যেতে পারে। সুতরাং যে ব্যক্তি এই প্রত্যাখ্যান, বর্জন, ত্যাগ এবং বিরত থাকার প্রচেষ্টায় লিপ্ত তাকে সায়েম বলে তথা রোজাদার বলে।
এখন কথাটি হলো যে, সায়েম তথা রোজাদার কোন বিষয়টি হতে বিরত থাকবে? এবং কী তাকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে? প্রত্যাখ্যান করার অথবা বর্জন করার একমাত্র বিষয়টি হল আমিত্ব। আমিত্ব বলতে কী বোঝায়? যে ‘আমি’-টি নির্ভেজাল নয়, বরং ভেজাল আছে সেই ভেজাল ‘আমি’-টিকে বলা হয় আমিত্ব। ‘আমি’-টি কখন ভেজালে পরিণত হয়? যখন ‘আমি’-র সঙ্গে খান্নাসরূপী শয়তানটি বহাল তবিয়তে বাস করে এক ‘আমি’-কে দুই ‘আমি’-তে পরিণত করে। এক ‘আমি’-র মাঝে দুই ‘আমি’ থাকাটাকেই ভেজাল বলে। এই দুই ‘আমি’-র ভেজাল হতে পরিত্রাণ পাবার জন্য, মুক্তিলাভ করার আশায় যে ‘আমি’-টি নকল ‘আমি’-টিকে বর্জন করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত তাকেই রোজাদার বলা হয়। আরবিতে তাকে বলা হয় সায়েম। ইহাই রোজার তথা সিয়ামের মূল উদ্দেশ্য।
মূল উদ্দেশ্যটিকে সামনে রেখে যে ব্যবস্থাপত্রটি দেওয়া
হয় সেই ব্যবস্থাপত্রটিতে নানা প্রকার আদেশ উপদেশ থাকে। কারণ যে কোনো মূল বিষয়টিকে প্রয়োগ করতে গেলে ব্যবস্থাপত্রে অনেক রকম আদেশ উপদেশ থাকতে বাধ্য। মনে রাখতে হবে যে, ব্যবস্থাপত্রের আদেশ নিষেধগুলোর পেছনে যে মূল উদ্দেশ্যটি আছে উহা যেন ভুলে না যাই। মূল উদ্দেশ্যটি ভুলে গেলেই অথবা গুরুত্ব না দিলেই বিষয়টি কেবলমাত্র আনুষ্ঠানিকতার বলয়ে আবদ্ধ হয়ে পড়ে এবং অনুষ্ঠানগুলোকেই মূল বিষয় মনে করে মতভেদের উদ্ভব হয়। এই মতভেদ জন্ম দেয় নানা প্রকার ফেরকাবাজির। তখন সমাজ জীবন এবং জীবন পরিচালনার দর্শনগুলো ফেরকাবাজিতে ডুবে যায় এবং বাকবিতণ্ডা ও ঝগড়াঝাঁটি করে মূল বিষয়টি হতে অনিচ্ছায় বহু দূরে সরে পড়ি। অধম লিখক যেমন বললাম যে, নফ্সের ভেতর খান্নাসরূপী শয়তানটিকে তাড়িয়ে দেবার সাধনার নামটি হল সিয়াম, কিন্তু অন্য গবেষণা হয়তো একথাটি এভাবে না বলে অন্যভাবে বলবে। বলবে দুনিয়া ত্যাগ করতে হবে। বলবে তাগুত ত্যাগ করতে হবে।
এখন প্রশ্ন হলো, দুনিয়া বলতে কী বুঝায়? দুনিয়া বলতে কিন্তু এই পৃথিবী নামক গ্রহটিকে পরিত্যাগ করার কথাটি মোটেই বলা হয় নি। কারণ দুনিয়া বলতে আপন নফ্সের স্বেচ্ছাচারটিকে বোঝানো হয়েছে। নফ্সের এই স্বেচ্ছাচারটি কেমন করে আসতে পারে? যখন নফ্সের সঙ্গে খান্নাসরূপী শয়তানটিকে জড়িয়ে দেওয়া হয়। কেন খান্নাসরূপী শয়তানটিকে একটি পবিত্র নফ্সের সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া হয়? জড়িয়ে দেওয়া হয় এই জন্য যে, একটি নফ্স তথা একটি মানুষ কি আল্লাহকে চায়, না চায় না―এই আল্লাহকে চাওয়া আর না-চাওয়ার নামটিই হল পরীক্ষা। এই পরীক্ষাটির জন্যই মানুষকে বানানো হয়েছে। এই পরীক্ষাটি একমাত্র মানুষ ও জ্বিন ছাড়া আর কাউকেই দিতে হয় না। ফেরেস্তা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, যতই হিয়া হুয়া করতে পারুক না কেন, কিন্তু ফেরেস্তাদের পরীক্ষা দিতে হয় না। কারণ হলো, ফেরেস্তাদেরকে আল্লাহ নফ্স এবং রূহ একটিও দেন নাই। নফ্স এবং রূহ দুটো একত্রে থাকলেই পরীক্ষাটি অবধারিত। যাদের কেবলমাত্র নফ্স আছে, কিন্তু রূহ নাই, তাদেরকেও পরীক্ষা দিতে হয় না এবং পরীক্ষা দেবার বিধানটি রাখা হয় নি। কারণ যদি রূহ না থাকে এবং কেবলমাত্র নফ্সটিই থাকে তা হলে সেই জীবগুলোকে মানুষ এবং জ্বিন জাতির মধ্যে গণ্য করা যায় না এবং যাবে না। সেই জীবগুলো হয়ে যাবে তখন অনেক রকম জানোয়ার এবং অনেক রকম পাখি। মানুষ এবং জ্বিন ছাড়া কোনো পশু, কোনো পাখি, কোনো মাছ অথবা কোনো প্রাণীকেই রূহ দেওয়া হয় নি। কারণ রূহ আল্লাহর আদেশ। আল্লাহর আদেশ আল্লাহ হতে আলাদা নয়। সুতরাং ঢাকনা খুলে যদি বলতে হয় তো বলতে হয় যে, রূহ স্বয়ং আল্লাহ। মানুষের মাঝে এবং জ্বিনের মাঝে রূহ আছে বলেই সেফাতি নুরের তৈরি রোবট ফেরেস্তাদেরকে আদমকে সেজদা দেবার আদেশটি দেওয়া হল। সেফাতি নুরের তৈরি আল্লাহর রোবট নামক ফেরেস্তাগুলোর সবাইকে আদমকে সেজদা দিতে বলা হলো এবং সবাই সেজদা করলো এবং সেজদা করতে বাধ্য হলো। কারণ, ফেরেস্তাদের নফ্সও নাই এবং রূহও নাই, তথা ভালো-মন্দ বিচার করার সীমিত (মৃত্যুর আগ পর্যন্তকে সীমিত বলা হয়) স্বাধীনতাটাই দেওয়া হয় নাই। যেহেতু আজাজিল জ্বিন জাতি হতে আগত এবং আজাজিল মোটেই ফেরেস্তা নয়, যদিও আজাজিলকে ফেরেস্তাদের সরদার বানানো হয়েছিল এবং সরদার এ জন্যই আল্লাহ বানিয়েছেন যে আজাজিলের মধ্যে নফ্সও ছিল, রূহও ছিল। আজাজিল নফ্স এবং রূহের অধিকারী বলেই ফেরেস্তাদের সরদার বানিয়েছেন, নতুবা সরদার বানাবার প্রশ্নই উঠে না।
অনেক গবেষক এই অতি সূক্ষ্ম বিষয়টি ধরতে পারেন না বলেই এটা সেটা বলে একটা গোঁজামিলের খিস্তি তৈরি করেন এবং না বুঝলে খিস্তি তৈরি করতে বাধ্য। সব শিয়াল যখন একই রকম শব্দ করে তখন এত শব্দের মাঝে আসল বিষয়টা চাপা পড়ে যায়। আজাজিল যেহেতু নফ্স এবং রূহ দুটোরই অধিকারী সেই হেতু সীমিত স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির অধিকারী। তাই আজাজিল আদমকে সেজদা দেয় নাই। যেহেতু ফেরেস্তাদের ওপর সেজদা দেবার হুকুমটি আজাজিলের ওপরও পড়েছিল তথা বর্তিয়েছিল সেই হেতু আজাজিলকে ইবলিসে পরিণত হতে হয়েছিল। বালাসা অর্থ অহঙ্কার। যদিও বালাসা শব্দটি আরবি নয়, বরং হিব্র“ শব্দ এবং হিব্র“ ভাষায় অহঙ্কারকে বালাসা বলা হয় এবং যে বা যিনি অহঙ্কার করে বা করেন সে বা তিনি অহঙ্কারী তথা ইবলিস। জ্বিনের মধ্যে যেমন অহঙ্কার করার অধিকারটি দেওয়া হয়েছে সে রকম মানুষের মাঝেও অহঙ্কার করার অধিকারটি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ফেরেস্তাদেরকে অহঙ্কার করার অধিকারটি দেওয়া হয় নাই। কারণ ফেরেস্তাদের মাঝে নফ্সও নাই রূহও নাই। তাই ফেরেস্তাদেরকে আল্লাহ পাকের সেফাতি নুরের তৈরি রোবটও বলা যেতে পারে। ফেরেস্তাদেরকে যেটুকু শক্তি ও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সেটুকুর বাহিরে একটি পা ফেলবার প্রশ্নই উঠে না। তাই তো আমরা দেখতে পাই যে, মহানবি যখন মেরাজে যাচ্ছেন ফেরেস্তা জিবরিল তখন সেদরাতুল মুনতাহায় এসে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন যে, আর একটি পা এগিয়ে যাবার অধিকারটি তাকে দেওয়া হয় নাই। মহানবি লা মোকামে চলে গেলেন আর ফেরেস্তা জিবরিল সিদরাতুল মুনতাহায় দাঁড়িয়ে রইলেন। এত বড় জলজ্যান্ত বিষয়টি জানবার পরও কী করে মহানবিকে মাটির তৈরি বলে ওহাবিরা প্রচার করে! এরা গাছের শিকড় কেটে মাথায় পানি ঢালে। ফেরেস্তারা আল্লাহর সেফাতি নুরের তৈরি হয়েও আদমকে সেজদা করতে হয়েছে। কারণ আদমের ভেতর জাত নুরটি মওজুদ। তাই আল্লাহ বলছেন যে, ‘আমরা তোমার শাহারগের নিকটেই আছি।’ কিন্তু আল্লাহ কখনোই একথাটি বলেন নি যে, ফেরেস্তাদের শাহারগের নিকটে আছেন, অথবা জীব-জন্তুদের শাহারগের নিকটে আছেন, অথবা নদী-নালা, সাগর-মহাসাগর, পাহাড়-পর্বতের নিকটেই আছেন। আল্লাহর এই অবস্থানটি জাত-রূপে অবস্থান। তাই তিনি কেবলমাত্র মানুষ এবং জ্বিনের সঙ্গেই জাত-রূপে অবস্থান করতে পারেন। আর তাঁর সৃষ্ট বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সব কিছু সেফাতি নুর এবং নুরের অনেক রকম বিবর্তনের ধারা বজায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। তাই আল্লাহ বলছেন যে, ‘তুমি যেদিকেই তাকাও না কেন, আমি ছাড়া আর কিছুই নাই।’ আল্লাহ ছাড়া কিছুই নাই যেখানে বলা হলো সেখানে নাস্তিক্যবাদ আসে কেমন করে? কারণ নাস্তিক্যবাদ বিষয়টিই তো একটা বিরাট আÍার রোগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আসলে নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসী নাস্তিকেরা আল্লাহর এই বিষয়টি অবগত নয়। যদি বিষয়টি ভাল করে বুঝতো তো তওবা করে নাস্তিক্যবাদটি পরিত্যাগ করতো। আসলে মূল বিষয়টি বুঝতে না পেরেই নাস্তিক্যবাদের প্রচার করে।
রোজা কী বর্জন করতে শেখায়? একটি প্রশ্নে গবেষকদের মতামত এক নয়। এতে দুঃখ অথবা বিস্ময় প্রকাশ করার কিছুই নাই। কারণ গবেষণার জ্ঞানটি আন্তরিক, কিন্তু কিছুটা তো মতভেদ থাকবেই। কোরান তফসির, হাদিসের ব্যাখ্যা, এজমা, কেয়াস, প্রতিটি বিষয়ের গবেষণার জ্ঞানটিতে আমরা অনেক রকম মতভেদ দেখতে পাই এবং এই মতভেদটিকে স্বাভাবিক মনে করেই নেওয়া হয় এবং এর মাঝে কোনো প্রকার জোর তথা বলপ্রয়োগ খাটাবার প্রশ্নই উঠে না। বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরা যায়। যেমন অনেক গবেষক বলেন যে, রোজা তাগুত পরিত্যাগ করতে শেখায়। অনেকে আবার তাগুতের সঙ্গে জীবতে পরিত্যাগ করতে শেখায়। এখন প্রশ্নটি হল, তাগুতই হোক আর জীবতেই হোক, এদের থাকবার স্থানটি কোথায়? তাগুত আর জীবতে থাকবার বাসাবাড়িটি কোথায়? সৃষ্টিরাজ্যের কোথাও তাগুত এবং জীবতে বাস করে না। কারণ সৃষ্টিরাজ্য তৌহিদে বাস করে। তৌহিদের রাজ্যে তাগুতও থাকতে পারে না এবং জীবতেও থাকতে পারে না। আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টিরাজ্যের মধ্যে মাত্র দুইটি স্থানে বা জায়গায় তাগুত এবং জীবতে বাস করে। একটি জ্বিনের অন্তর তথা হৃদয় এবং অপরটি মানুষের অন্তর। এই দুটো প্রাণীÑ জ্বিন এবং মানুষ ছাড়া আর কোথাও এইসব বাজে বিষয় থাকতে পারে না এবং থাকার আইনও নাই। সুতরাং শব্দ এবং অর্থ ভিন্ন, কিন্তু থাকবার স্থানটি মানুষ এবং জ্বিনের অন্তর। আবার অনেক গবেষক বলেন যে, রোজা বর্জন করতে শেখায় লোভ, মোহ, হিংসা, অহঙ্কার এবং সর্বপ্রকার অবৈধ কাজ। প্রশ্ন করতে পারেন যে, আমরা কি রোজার সাধনাটি করে এতগুলো আবর্জনা দূর করতে পেরেছি? এমন কথাটিও তো মহানবি সোজা বলে দিয়েছেন যে, যারা রোজা থেকে মিথ্যা কথা বলে এবং মিথ্যার আশ্রয় নেয় তাদের রোজাগুলো নিতান্ত উপবাস ছাড়া আর কিছুই নয় (হুবহু নয়)।
আবার যদি প্রশ্ন করা হয় যে, দুনিয়া, তাগুত, জীবতে, লোভ, মোহ, হিংসা, অহঙ্কার এবং খান্নাসরূপী শয়তানটিকে তাড়াতে পারলো না অথচ সারা জীবন প্রতি বছর ত্রিশটা রোজা রেখে গেল তাদের রোজার ফলটি কী হবে? উত্তরটি আল্লাহর হাতেই ছেড়ে দেওয়া হলো। নিরাশ শব্দটি উচ্চারণ করলাম না। তবে ফলটি যে কী হবে তা সবাই কমবেশি বুঝতে পারে। প্রতিটি বিষয়ের একটি উদ্দেশ্য থাকে। কিন্তু উদ্দেশ্যটিকে বাদ দিয়ে কাজ করলে কী হয় বা হবে তা সবাই বুঝতে পারে। মানুষ এত কচি খোকা নয় যে কিছুই বুঝতে পারে না। আবার অনেক সময় দেখা যায় যে, মানুষ ভালো করে বোঝে যে ধূমপান শরীরের জন্য ক্ষতিকারক, কিন্তু তবু ধূমপান করছে। বিষয়টি ভালো করে বোঝে অথচ বুঝেও কচি খোকার মত না বোঝার ভান করে। এই মানুষ যে কত রকম রং তামাশা করতে জানে এবং করে চলছে তার হিসাব কে রাখে আর এর হিসাব রেখেই বা লাভ কিসের? উপদেশের ফলটি যখন শূন্য তখন উপদেশ দেবার উৎসাহটি দুর্বল হয়ে পড়ে। ধর্মের বাণী প্রতিদিন রেডিও-টেলিভিশনে, মাইকে, ওয়াজ মাহফিলে, নামাজের খোৎবায়, পথে ঘাটে শোনানো হচ্ছে, কিন্তু লোভ-মোহের কালো অন্ধকারে সব বিষয়গুলো ঢেকে যায়। সূর্যগ্রহণ আর চন্দ্রগ্রহণের মত আস্তে আস্তে মহৎ বিষয়গুলো গিলে ফেলে। সাপ যেমন ইঁদুর গিলে খায়, কুমির যেমন আস্ত একটা মুরগি গিলে খায়, তেমন লোভ-মোহের সর্প আর কুমির মানুষের মহৎ গুণগুলোকে গিলে খায়। কেন গিলে খায়? কেন মহৎ উপদেশগুলো মানতে চায় না? কেন প্রয়োজনের চেয়ে অনেক অনেক বেশি পেয়েও কেবল পেতেই চায়? এই এত পাবার প্রচণ্ড নেশাটি কোথা হতে এল? উত্তর মাত্র একটি। মূল বিষয় মাত্র একটি। সেই উত্তর আর মূল বিষয়টি কী? প্রতিটি মানুষের অন্তরে পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ পাক খান্নাসরূপী শয়তানটিকে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এই খান্নাসরূপী শয়তানটি কখনো ইবলিসরূপ ধারণ করে অহঙ্কার করে। এই ইবলিস রূপটি যদি ভয়ঙ্কর হয় তাহলে মানুষের রূপটিও ভয়ংকর হয়। হিটলার, মুসোলিনি, চেঙ্গিস, হালাকু, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আর জারারেসের মত মানুষরূপী দানবের চেহারাটি ইতিহাসের পাতায় কলঙ্কের কালিতে লিখা হয়ে থাকে। আবার এই খান্নাসরূপী শয়তানটি কখনো মরদুদরূপ ধারণ করে সীমাহীন লোভীতে পরিণত হয়। এমনই লোভ যে লোভের সীমা নাই, শেষ নাই। যেমন আলেকজাণ্ডার দি গ্রেট। পৃথিবীটাই খেয়ে ফেলার মহাপরিকল্পনা যার অন্তরে বাসা বেঁধেছিল। এ রকম লোভীদেরকে যদি সমগ্র পৃথিবী নামক গ্রহটা দিয়ে দেওয়া হয়, হয়তো বলবে আর একটা পৃথিবী কি আছে? সব বিষয়ের একটা না একটা তলা থাকে। কিন্তু লোভের কোনো তলা নাই। এইসব ভয়ঙ্কর লোভীদের ঠিকানা হাবিয়া নামক নরক। হাবিয়া নরকটি কী ও কেমন? হাবিয়া হলো এমন একটি গর্ত যে গর্তে কেবল পড়তে থাকবে, কিন্তু তলা পাবে না তথা তলাহীন একটি গর্ত। কী মেজাজি তথা রূপক ভাষায় হাবিয়ার বর্ণনা! এই খান্নাসরূপী শয়তানটি যখন কেবলই শয়তানরূপটি ধারণ করে তখনই পাথরের আঘাত খেতে হয়। শয়তান মানুষের অন্তরে বাস করে মানুষের দেহে কত যে প্রতিদিন প্রতিঘণ্টায় পাথরের আঘাত খেয়ে যাচ্ছে তার হিসাব নাই। অথচ মানুষটি এই পাথরের আঘাতগুলো টের পেয়েও পায় না। এ যেন ক্যানসারের উপর রেডিয়ামের থেরাপি। রোগী টের পায় না, অথচ ক্যানসার ক্ষতটিকে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। শয়তান প্রতিনিয়ত পাথরের আঘাত খেয়ে চলছে আর মানুষের চেহারায় তা আস্তে আস্তে ফুটে উঠছে, কিন্তু বুঝতে পারে না। কী বিস্ময়কর বৈজ্ঞানিক আঘাত খাবার ব্যবস্থাপত্রটি দিয়ে রেখেছেন সর্বশক্তিমান আল্লাহ। তাই হয়তো বলা হয়, যেমন কর্ম তেমন ফল। কর্মের ফলটি যে ভোগ করতেই হবেÑ তা এ জন্মে হোক অথবা আর এক জনমে।
এইবার আমরা এমন একজন অলির লেখা থেকে রোজার আসল রহস্যের বর্ণনার অনুবাদ করবো যাঁর কথা শুনলে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মাথা নত করে মেনে নেবেন এবং মানতে অবশ্যই বাধ্য হতে হবে। সেই বিখ্যাত অলির লেখার অনুবাদ করবো যাঁর নাম হাজা হাবিবুল্লাহ মা তা ফি হুবুল্লাহ সুলতানুল হিন্দ আতায়ে রসুল খাজা গরিবে নেওয়াজ ইয়া সৈয়দ মাওলানা মুঈনুদ্দিন হাসান চিশতী সানজারি আল হোসাইনি আল হাসানি। খাজা বাবা আসরারে হাকিকি নামক বইটিতে রোজা বিষয়ে যাহা লিখেছেন তার কিছুটা তুলে ধরলাম। বইটির যিনি অনুবাদ করেছেন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষার অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম খান।
এইবার আমরা এমন একজন অলির লেখা থেকে রোজার আসল রহস্যের বর্ণনার অনুবাদ করবো যাঁর কথা শুনলে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মাথা নত করে মেনে নেবেন এবং মানতে অবশ্যই বাধ্য হতে হবে। সেই বিখ্যাত অলির লেখার অনুবাদ করবো যাঁর নাম হাজা হাবিবুল্লাহ মা তা ফি হুবুল্লাহ সুলতানুল হিন্দ আতায়ে রসুল খাজা গরিবে নেওয়াজ ইয়া সৈয়দ মাওলানা মুঈনুদ্দিন হাসান চিশতী সানজারি আল হোসাইনি আল হাসানি। খাজা বাবা আসরারে হাকিকি নামক বইটিতে রোজা বিষয়ে যাহা লিখেছেন তার কিছুটা তুলে ধরলাম। বইটির যিনি অনুবাদ করেছেন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষার অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম খান।
এখন আমরা রোজার বিষয়ে খাজা বাবা কী বলেছেন তারই কিছু অংশ নিুে তুলে ধরলাম : ‘মহানবি বললেন, ‘হে উমর, রোজার হাকিকি অর্থটি হচ্ছে, মানুষ তার অন্তর বা দিল হতে সর্বপ্রকার দ্বিন ও দুনিয়ার আশা-আকাক্সক্ষা পরিত্যাগ তথা দূরীভূত করবে। কারণ দ্বিনের খাহেশ, যেমন―বেহেস্তের আরাম-আয়েশ, সুখ-শান্তি ও হুরদের আকাক্সক্ষা―দ্বিনের এই সব খাহেশ আবেদ ও মানুষের মধ্যে পর্দার অন্তরাল তৈরি করে। এই রকম চাওয়া-পাওয়া দিলের মধ্যে থাকলে বান্দা কখনো তার মাবুদের হাকিকতের নৈকট্য লাভ করতে পারে না।’
‘অপরদিকে দুনিয়ার খাহেশ তথা চাওয়া-পাওয়ার মোহনীয় আকাক্সক্ষাটি হলোÑ ধন-দৌলত, শান-শওকত, ক্ষমতার অহঙ্কার, নফ্সের অনেক রকম খাহেশ, দুনিয়া অর্জনের নেশায় মত্ত থাকা ইত্যাদি জাগতিক বিষয়গুলোর আকাক্সক্ষা মানুষকে আল্লাহ হতে দূরে সরিয়ে দেয় এবং এই সব বিষয়ের আকাক্সক্ষায় ডুবে থাকাটাই হলো শেরেকে ডুবে থাকা। আল্লাহকে ছেড়ে এই সব বিষয়ের প্রতি খেয়াল ও ফেকের করা এবং আবার কেয়ামতের ভয়, বেহেশতের আশা করা এবং আখেরাত বিষয়টির ফেকের করা―এই সবগুলো বিষয়ই রোজার হাকিকি তথা আসল রোজা নষ্ট তথা বরবাদ করে দেয়। আসল রোজা তথা রোজার হাকিকি তখনই সঠিক হবে যখন বান্দা আল্লাহ ছাড়া অন্য সবগুলো বিষয় দিল থেকে তথা অন্তর হতে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে। এমনকি গায়রুল্লাহর (বিষয়মোহ) এলেম পর্যন্ত থাকে না এবং সব রুম উমিদ (আশা) ও ভয়ভীতি দেল হতে তথা অন্তর হতে দূর করে দিতে পারে।’
‘হে উমর, সাধারণ মানুষ যে রোজা রাখে তা হাকিকি তথা আসল রোজা নয়। কারণ ইহাতে শুধু পানাহার ও জেমাহ থেকে পরহেজ থাকে। সাধারণ মানুষের রোজাটিকে মেজাজি রোজা বলে জানিও। এই মেজাজি রোজা দ্বারা আসরারে এলাহি (খোদার রহস্য জ্ঞান) হাসিল হয় না। মেজাজি রোজাটি কেবলমাত্র জাহেরি সুরতে সীমাবদ্ধ। এই মেজাজি রোজা হাকিকত বিষয়টির কিছুই বুঝতে পারে না, বরং অন্ধকারে থেকে যায়। এই মেজাজি রোজা দ্বারা গায়রুল্লাহ পরিত্যাগ সম্ভব হয় না। বরং এই মেজাজি রোজায় সর্বপ্রকার নফ্সানি ও মানবীয় কলুষতা থেকে যায়। মেজাজি রোজাদারদের যাবতীয় কথাবার্তা এবং কাজকাম তথা কার্যাবলি গায়রুল্লাহ হতে পরিপূর্ণ থাকে। এইরূপ জাহেরি ও মেজাজি রোজা দ্বারা এতটুকু লাভ হতে পারে যে, গরিব, দুঃখী ও মিসকিনদের দুঃখ-ব্যথা সম্যকভাবে উপলব্ধি করা যায় এবং তাতে তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে তাদের অভাব কিছুটা লাঘব করা যায়।’ (দিওয়ানে মুঈনুদ্দিনÑপৃ. ৪৩৭)।
‘অপরদিকে দুনিয়ার খাহেশ তথা চাওয়া-পাওয়ার মোহনীয় আকাক্সক্ষাটি হলোÑ ধন-দৌলত, শান-শওকত, ক্ষমতার অহঙ্কার, নফ্সের অনেক রকম খাহেশ, দুনিয়া অর্জনের নেশায় মত্ত থাকা ইত্যাদি জাগতিক বিষয়গুলোর আকাক্সক্ষা মানুষকে আল্লাহ হতে দূরে সরিয়ে দেয় এবং এই সব বিষয়ের আকাক্সক্ষায় ডুবে থাকাটাই হলো শেরেকে ডুবে থাকা। আল্লাহকে ছেড়ে এই সব বিষয়ের প্রতি খেয়াল ও ফেকের করা এবং আবার কেয়ামতের ভয়, বেহেশতের আশা করা এবং আখেরাত বিষয়টির ফেকের করা―এই সবগুলো বিষয়ই রোজার হাকিকি তথা আসল রোজা নষ্ট তথা বরবাদ করে দেয়। আসল রোজা তথা রোজার হাকিকি তখনই সঠিক হবে যখন বান্দা আল্লাহ ছাড়া অন্য সবগুলো বিষয় দিল থেকে তথা অন্তর হতে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে। এমনকি গায়রুল্লাহর (বিষয়মোহ) এলেম পর্যন্ত থাকে না এবং সব রুম উমিদ (আশা) ও ভয়ভীতি দেল হতে তথা অন্তর হতে দূর করে দিতে পারে।’
‘হে উমর, সাধারণ মানুষ যে রোজা রাখে তা হাকিকি তথা আসল রোজা নয়। কারণ ইহাতে শুধু পানাহার ও জেমাহ থেকে পরহেজ থাকে। সাধারণ মানুষের রোজাটিকে মেজাজি রোজা বলে জানিও। এই মেজাজি রোজা দ্বারা আসরারে এলাহি (খোদার রহস্য জ্ঞান) হাসিল হয় না। মেজাজি রোজাটি কেবলমাত্র জাহেরি সুরতে সীমাবদ্ধ। এই মেজাজি রোজা হাকিকত বিষয়টির কিছুই বুঝতে পারে না, বরং অন্ধকারে থেকে যায়। এই মেজাজি রোজা দ্বারা গায়রুল্লাহ পরিত্যাগ সম্ভব হয় না। বরং এই মেজাজি রোজায় সর্বপ্রকার নফ্সানি ও মানবীয় কলুষতা থেকে যায়। মেজাজি রোজাদারদের যাবতীয় কথাবার্তা এবং কাজকাম তথা কার্যাবলি গায়রুল্লাহ হতে পরিপূর্ণ থাকে। এইরূপ জাহেরি ও মেজাজি রোজা দ্বারা এতটুকু লাভ হতে পারে যে, গরিব, দুঃখী ও মিসকিনদের দুঃখ-ব্যথা সম্যকভাবে উপলব্ধি করা যায় এবং তাতে তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে তাদের অভাব কিছুটা লাঘব করা যায়।’ (দিওয়ানে মুঈনুদ্দিনÑপৃ. ৪৩৭)।
হাকিকি রোজা যতই আসল রোজা হোক না কেন, মেজাজি রোজাটি অবহেলা করা যায় না। মহানবি সমস্ত আলমের জন্য রহমত, সুতরাং বিশেষ শ্রেণীই এই রোজার রহমত পাবে আর সবাই পাবে না এটা হতে পারে না। তাই সাধারণকেও এই রহমতটি দিয়ে যাবার যে ব্যবস্থাপত্রটি মহানবি দিয়ে গেছেন উহাকেই মেজাজি রোজা বলা হয়। তবে মেজাজি রোজার অনুশীলনের মধ্য দিয়েই হাকিকি রোজার রহস্যটি যখন বুঝতে পারা যায় তখনই রোজার বিষয়টির সার্থকতা বোঝা যায়। সুতরাং মেজাজি রোজাটি আছে বলেই মানুষ এই মেজাজি রোজা পালন করতে করতে হাকিকি রোজার রহস্যটি বুঝতে পারে। এই সিয়াম বিষয়টির কোরান হাদিস হতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরা যায়, কিন্তু আমি অধম এ বিষয়ে আর এগিয়ে গেলাম না এ জন্য যে, এই সিয়াম বিষয়টির মেজাজি এবং হাকিকি ব্যাখ্যাগুলো খুবই সুন্দর এবং মার্জিত ভাষায় যিনি তুলে ধরেছেন তিনি শাহ সুফি সদর উদ্দিন আহমদ চিশতি এবং তাঁর অমর গ্রন্থটির নাম সিয়াম দর্শন। রোজার বিষয়ে কোরানের যতগুলো আয়াত আছে সবগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা এবং রোজার উপর যতগুলো হাদিস আছে প্রায় অধিকাংশ হাদিস (সবগুলো নয়) তুলে ধরেছেন। এই অমূল্য বইটি কয়েকবার পড়লে সিয়াম বিষয়টি দিবালোকের মতো পাঠকের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং সিয়াম বিষয়টির উপর একটি মোটামুটি ধারণা তৈরি হবে। তবে রোজার বিষয়টি শেষ করার আগে একটি কথা বলে শেষ করতে চাই। আর সেই বিষয়টি হলো, আল্লাহ একটিবারও পুরা কোরানে বলেন নি যে, তিনি রোজাদারদের সঙ্গে থাকেন অথবা আছেন। যেমন- ‘ইন্নাল্লাহা মাআস্ সায়েমিনা’, তথা ‘নিশ্চয় আল্লাহ রোজাদারদের সঙ্গে থাকেন’-এই বাক্যটি পুরা কোরানে নাই। আমরা পুরা কোরানে আল্লাহকে মাত্র চারটি স্থানে থাকার ঘোষণাটি পাই : সবরকারি তথা ধৈর্যশীলদের সঙ্গে, তাকওয়াকারীদের সঙ্গে, মুহ্সিনিনদের সঙ্গে এবং মুমিনদের সঙ্গে থাকার ঘোষণাটি পাই। এই চারটি স্থান ছাড়া আর কারো সঙ্গে আল্লাহ থাকেন বলে ঘোষণাটি অধম লিখকের চোখে পড়ে নি।
আমি রোজার বিষয়ে অনেকগুলো হাদিসের মধ্য হতে মাত্র একটি হাদিস তুলে ধরলাম। হজরত আবু হোরায়রা হতে বর্ণিত আছে যে, মহানবি বলেছেন, ‘যখন রমজান প্রবেশ করে, আকাশের দরজা খুলে যায় (অপর আর একটিতে আছে যে, জান্নাতের দরজা খুলে যায়), জাহান্নামের দরজা বন্ধ হয়ে যায় এবং শয়তানদের শিকল দিয়ে বেঁধে ফেলা হয় (এবং অপর আর একটি হাদিসে বলা হয়েছে যে, রহমতের দরজা খুলে যায়)।’ এই হাদিসটি এ জন্যই তুলে ধরলাম যে, বুখারি এবং মোসলেম শরিফ-এ বলা হয়েছে। তবে সব হাদিসই গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিসটির সামান্য ব্যাখ্যা দেওয়া হলো। রমজান প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে আকাশের দরজা অথবা জান্নাতের দরজা খুলে যায়। রমজান মাসটি বলা হয় নি। বলা হয়েছে রমজান প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে আকাশ অথবা জান্নাতের দরজা খুলে যায়। এই হাদিসটিতে মেজাজি রোজা হতে বেশি হাকিকি রোজার কথাটি বলা হয়েছে। কারণ রমজান কোথায় প্রবেশ করে অথবা ঢুকে? রমজান প্রবেশ করে সাধকের অন্তরে। যখন খান্নাসরূপী শয়তান হতে মুক্ত হয়ে যায় তখনই সাধক বুঝতে পারে যে, জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। অন্যভাবে এই হাদিসটির ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না। এই রমজান সাধকের অন্তরে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে আকাশের দরজা খুলে যায় তথা রহমতের দরজা খুলে যায়। ধ্যানসাধনার মাধ্যমে লোভ-মোহ যাহা খান্নাসরূপী শয়তান সর্বদা ফুৎকার দিচ্ছে, ওয়াসওয়াসা দিচ্ছে, কুমন্ত্রণা দিচ্ছে, তাহা যখন আর অবশিষ্ট থাকে না তখনই সাধক বুঝতে পারেন যে, রমজান সাধকের মধ্যে প্রবেশ করেছে তথা ঢুকতে পেরেছে। আর যেইমাত্র সাধকের মাঝে রমজান প্রবেশ করে, সেই সময় হতে খান্নাসরূপী শয়তান বিদায় গ্রহণ করে তথা চলে যায় তথা শয়তানের আর কোনো রকম কার্যকারিতা থাকে না। হাদিসটিতে বলা হয়েছে, জাহান্নামের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। যখনই শয়তানের কাজকাম আর থাকে না তখন আপনা হতেই জাহান্নামের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। গাছের শিকড় কেটে দিলে গাছ বাঁচে না, তেমনি শয়তানকে বেঁধে ফেললে জাহান্নামটির গুরুত্ব আর থাকে না এবং থাকার প্রশ্নই উঠে না। সাধক তখন নূতন নূতন রহস্যলোক অবলোকন করে মহা-আনন্দে ডুবে যায়। এই মহা-আনন্দলোকটি তো জান্নাতে থাকে। সুতরাং জান্নাতের দরজাগুলো যে খুলে যায় বা যাবে এটা তো অঙ্কের হিসাবের মতো সত্য। হাদিসটিতে আরও বলা হয়েছে যে, শয়তানদের (একটি নয়, বরং বহুবচনে বলা হয়েছে) শিকল দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। নফ্সের খাহেশিয়াত এবং প্রবৃত্তিগুলোই তো খান্নাসরূপী শয়তান। তাই সাধকের অন্তরে যখন রমজান প্রবেশ করে তখন আকাশ তথা মনোলোকের রহস্যময় বিষয়গুলো পরিষ্কার হয়ে ধরা পড়ে এবং জান্নাতের মহা-আনন্দে ডুবে থাকে। এখানে আকাশ বলতে মনের জগতের কথা বলা হয়েছে। আবার নফ্সের অবৈধ চাওয়াগুলো, দূষিত বিষয়ে হাত বাড়ানোর পা-গুলোকে শিকল পড়িয়ে দেওয়া হয়। শয়তানদের কাজকামগুলো শিকল দিয়ে বেঁধে ফেলাটিকে যদি মেজাজি রোজার বেলায় খাটাতে চান তো কোথায় শান্তি? যত প্রকার অপকর্মের হোতাই তো শয়তান। আর সেই শয়তানকে শিকল দিয়ে বেঁধে ফেললে তো দুনিয়াতে রমজান মাসটিতে শান্তি বিরাজ করার কথা। অশান্তির জনকই তো শয়তান। বিভেদ, মারামারি জাতীয় কু-কাজগুলো তো শয়তানই করায়। তা হলে রমজান মাস আসলে কম সে কম ঊনত্রিশ কি ত্রিশ দিন তো শান্তির অমৃতধারা বইবার কথা। সুতরাং এই হাদিসটি মেজাজি রোজার কথা নয়, বরং হাকিকি রোজার কথা। হজরত আমির খসরুর ঠুমরি রাগে যেমন মাত্র একটি বাক্য থাকে, কিন্তু সুরের বাহারি ঠকম আর চমকের শৈলী শ্রোতাকে বুঝিয়ে দিতে চায় যে অনেক কথা বলা হচ্ছে―সে রকম রোজা আর রমজানের রহস্যটি ঐ একটি কথাই ঘোষণা করছে যে, তোমার অন্তরের মাঝে ইচ্ছাকৃত দেওয়া (পরীক্ষার জন্য) খান্নাসরূপী শয়তানটিকে বাহির করে দাও, নতুবা বার বার জন্মচক্রের মাঝে আটকা পড়ে জাহান্নামের জ্বালাযন্ত্রণার নিত্যসঙ্গী হতে হবে। জাহান্নামের আগুন তো ঘরবাড়ি জ্বালায় না, কারণ ঘরবাড়ি তৌহিদে বাস করে। তৌহিদে জাহান্নামের প্রবেশ নিষেধ। তৌহিদে শয়তানের প্রবেশ নিষেধ। জাহান্নামের আগুন তো কাপড়-চোপড় জ্বালায় না, কারণ কাপড় চোপড় তৌহিদে বাস করে; জাহান্নামের আগুন তো দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ জ্বালায় না, কারণ দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তো তৌহিদে বাস করে। জাহান্নামের আগুনটিকে মাত্র একটি জিনিস জ্বালাবার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, আর সেটা হলো মানুষ ও জ্বিনের অন্তর। এই মানুষ আর জ্বিনের দুইটি অন্তরই তৌহিদে বাস করে না। তাই শয়তানের একমাত্র উপযুক্ত বাসস্থানটি হলো মানুষ আর জ্বিনের অন্তর। এই অন্তর দুইটিকে শয়তান কখনো কখনো এতই জ্বালায় যে, যন্ত্রণা এত ভয়ঙ্করভাবে মাত্রা ছাড়িয়ে যায় যে, অবশেষে সইতে না পেরে আÍহত্যা পর্যন্ত করে ফেলে। কারণ আÍহত্যার মধ্য দিয়ে জাহান্নামের অগ্নির জ্বালা হতে মুক্তি চায়, কিন্তু আÍহত্যা কি সেই মুক্তি দেবার ক্ষমতা রাখে?
এই হাদিসটির সামান্য ব্যাখ্যা দেওয়া হলো। রমজান প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে আকাশের দরজা অথবা জান্নাতের দরজা খুলে যায়। রমজান মাসটি বলা হয় নি। বলা হয়েছে রমজান প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে আকাশ অথবা জান্নাতের দরজা খুলে যায়। এই হাদিসটিতে মেজাজি রোজা হতে বেশি হাকিকি রোজার কথাটি বলা হয়েছে। কারণ রমজান কোথায় প্রবেশ করে অথবা ঢুকে? রমজান প্রবেশ করে সাধকের অন্তরে। যখন খান্নাসরূপী শয়তান হতে মুক্ত হয়ে যায় তখনই সাধক বুঝতে পারে যে, জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। অন্যভাবে এই হাদিসটির ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না। এই রমজান সাধকের অন্তরে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে আকাশের দরজা খুলে যায় তথা রহমতের দরজা খুলে যায়। ধ্যানসাধনার মাধ্যমে লোভ-মোহ যাহা খান্নাসরূপী শয়তান সর্বদা ফুৎকার দিচ্ছে, ওয়াসওয়াসা দিচ্ছে, কুমন্ত্রণা দিচ্ছে, তাহা যখন আর অবশিষ্ট থাকে না তখনই সাধক বুঝতে পারেন যে, রমজান সাধকের মধ্যে প্রবেশ করেছে তথা ঢুকতে পেরেছে। আর যেইমাত্র সাধকের মাঝে রমজান প্রবেশ করে, সেই সময় হতে খান্নাসরূপী শয়তান বিদায় গ্রহণ করে তথা চলে যায় তথা শয়তানের আর কোনো রকম কার্যকারিতা থাকে না। হাদিসটিতে বলা হয়েছে, জাহান্নামের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। যখনই শয়তানের কাজকাম আর থাকে না তখন আপনা হতেই জাহান্নামের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। গাছের শিকড় কেটে দিলে গাছ বাঁচে না, তেমনি শয়তানকে বেঁধে ফেললে জাহান্নামটির গুরুত্ব আর থাকে না এবং থাকার প্রশ্নই উঠে না। সাধক তখন নূতন নূতন রহস্যলোক অবলোকন করে মহা-আনন্দে ডুবে যায়। এই মহা-আনন্দলোকটি তো জান্নাতে থাকে। সুতরাং জান্নাতের দরজাগুলো যে খুলে যায় বা যাবে এটা তো অঙ্কের হিসাবের মতো সত্য। হাদিসটিতে আরও বলা হয়েছে যে, শয়তানদের (একটি নয়, বরং বহুবচনে বলা হয়েছে) শিকল দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। নফ্সের খাহেশিয়াত এবং প্রবৃত্তিগুলোই তো খান্নাসরূপী শয়তান। তাই সাধকের অন্তরে যখন রমজান প্রবেশ করে তখন আকাশ তথা মনোলোকের রহস্যময় বিষয়গুলো পরিষ্কার হয়ে ধরা পড়ে এবং জান্নাতের মহা-আনন্দে ডুবে থাকে। এখানে আকাশ বলতে মনের জগতের কথা বলা হয়েছে। আবার নফ্সের অবৈধ চাওয়াগুলো, দূষিত বিষয়ে হাত বাড়ানোর পা-গুলোকে শিকল পড়িয়ে দেওয়া হয়। শয়তানদের কাজকামগুলো শিকল দিয়ে বেঁধে ফেলাটিকে যদি মেজাজি রোজার বেলায় খাটাতে চান তো কোথায় শান্তি? যত প্রকার অপকর্মের হোতাই তো শয়তান। আর সেই শয়তানকে শিকল দিয়ে বেঁধে ফেললে তো দুনিয়াতে রমজান মাসটিতে শান্তি বিরাজ করার কথা। অশান্তির জনকই তো শয়তান। বিভেদ, মারামারি জাতীয় কু-কাজগুলো তো শয়তানই করায়। তা হলে রমজান মাস আসলে কম সে কম ঊনত্রিশ কি ত্রিশ দিন তো শান্তির অমৃতধারা বইবার কথা। সুতরাং এই হাদিসটি মেজাজি রোজার কথা নয়, বরং হাকিকি রোজার কথা। হজরত আমির খসরুর ঠুমরি রাগে যেমন মাত্র একটি বাক্য থাকে, কিন্তু সুরের বাহারি ঠকম আর চমকের শৈলী শ্রোতাকে বুঝিয়ে দিতে চায় যে অনেক কথা বলা হচ্ছে―সে রকম রোজা আর রমজানের রহস্যটি ঐ একটি কথাই ঘোষণা করছে যে, তোমার অন্তরের মাঝে ইচ্ছাকৃত দেওয়া (পরীক্ষার জন্য) খান্নাসরূপী শয়তানটিকে বাহির করে দাও, নতুবা বার বার জন্মচক্রের মাঝে আটকা পড়ে জাহান্নামের জ্বালাযন্ত্রণার নিত্যসঙ্গী হতে হবে। জাহান্নামের আগুন তো ঘরবাড়ি জ্বালায় না, কারণ ঘরবাড়ি তৌহিদে বাস করে। তৌহিদে জাহান্নামের প্রবেশ নিষেধ। তৌহিদে শয়তানের প্রবেশ নিষেধ। জাহান্নামের আগুন তো কাপড়-চোপড় জ্বালায় না, কারণ কাপড় চোপড় তৌহিদে বাস করে; জাহান্নামের আগুন তো দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ জ্বালায় না, কারণ দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তো তৌহিদে বাস করে। জাহান্নামের আগুনটিকে মাত্র একটি জিনিস জ্বালাবার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, আর সেটা হলো মানুষ ও জ্বিনের অন্তর। এই মানুষ আর জ্বিনের দুইটি অন্তরই তৌহিদে বাস করে না। তাই শয়তানের একমাত্র উপযুক্ত বাসস্থানটি হলো মানুষ আর জ্বিনের অন্তর। এই অন্তর দুইটিকে শয়তান কখনো কখনো এতই জ্বালায় যে, যন্ত্রণা এত ভয়ঙ্করভাবে মাত্রা ছাড়িয়ে যায় যে, অবশেষে সইতে না পেরে আÍহত্যা পর্যন্ত করে ফেলে। কারণ আÍহত্যার মধ্য দিয়ে জাহান্নামের অগ্নির জ্বালা হতে মুক্তি চায়, কিন্তু আÍহত্যা কি সেই মুক্তি দেবার ক্ষমতা রাখে?
মেজাজি রোজা, মেজাজি শয়তান আছে বলেই তো জ্ঞানীদের জন্য অনেক নিদর্শন রয়ে গেছে বোঝার জন্য, জানার জন্য। সুতরাং অনুষ্ঠানকে রাখতেই হবে। অনুষ্ঠানই জ্ঞানীকে রহস্যলোকের পথ দেখাবে। অনুষ্ঠানই আর এক জনমের জন্য মুক্তির বারতা বহন করবে। আদর্শলিপি আর পাঠশালা রাখতেই হবে। তা না হলে স্কুল, কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন কেমন করে? তাই সিনার এলেম হাসেল করতে হলে সিনার এলেমের অধিকারীর কাছে আপনাকে যেতেই হবে। নতুবা কে আপনাকে পথ দেখাবে? মাথার এলেমের তো এ পথ দেখাবার বিধানই নাই। তা হলে মাথার এলেম দিয়ে না হয় আর একটু উন্নত মানের মাথার এলেম হাসেল করতে পারবেন। সিনার এলেম যিনি হাসেল করতে পেরেছেন তিনি মাথার এলেম হয়তো জানেন না। মাথার এলেম যিনি জানেন না তাকে আমরা নিরক্ষর, টিপসই, উম্মি ইত্যাদি বলি। এত বড় মাথার এলেমের জ্ঞানী রুমি আর গাজ্জালি কেন সিনার এলেমের গুরু নিরক্ষর শামসেতাব্রিজ আর নিরক্ষর আবু আলি ফরমাদির কাছে মুরিদ হতে গেলেন? কেবল কথা আর কথা! কিন্তু খোদা তো কথা বলেন না, কারণ খোদার মধ্যে কথা নাই এবং কথার মধ্যে খোদা নাই। যদি খোদা কথাই বলতে চান তো আদমের সুরতে কথা বলেন। যদি পাথর অথবা বাঁশি ছুঁড়ে মারতে চান তো আদমের সুরতেই মারতে হবে। ঐ হাত খোদার হাত, ঐ বাঁশি ছুড়ে মারাটাই খোদার মারা। তাই আবার বলতে হচ্ছে, বার বার বলতে হচ্ছে যে, আল্লাহ জাত-রূপে, (ওরিজিনাল) খাস-রূপে থাকেন তিনটি স্থানে : একটি লা মোকাম, অপর দুটি জ্বিন ও মানুষের অন্তরে। সুতরাং আল্লাহ্র জাত-রূপের পরিচয় জানতে চাইলে মানুষ ধরতে হবে। গাছপালা, ইট, পাথর, নদী, সাগর আর পাহাড় পর্বতের পূজা করলে আল্লাহর পরিচয় পাওয়া যায় না। প্রতীক করা এক বিষয়, আর প্রতীকই সব কিছু বলা অন্য বিষয়। বিষয়টা বড় জটিল, বড়ই পিচ্ছিল, তাই সব কিছু মনের অজান্তে গুলিয়ে ফেলি, জগাখিচুড়ি পাকিয়ে ফেলি, লাবড়া বানিয়ে ছাড়ি। ভিত্তির পরিচয় জানা নাই, কেবল ডালপালার লাফালাফি করা। এই বাহারি লাফালাফিতে সমাজ জীবনে সার্বজনীনতার দর্শনটি আর থাকতে চায় না। কেবলই নোংরামি, কাদা ছুড়াছুড়ি আর বলপ্রয়োগের শক্ত পেশী, হাত চালাবার বাহারি শক্তি। অথচ দ্বিনের মধ্যে কোনো বলপ্রয়োগ নাই, নাই কোনো প্রকার জোর জবরদস্তি। ‘আল্লাহু সামাদ’ তথা ‘আল্লাহ হলেন মহানিরপেক্ষ’। মহানিরপেক্ষ আল্লাহর বাণী অবশ্যই মহানিরপেক্ষ। সুতরাং ধর্মনিরপেক্ষতাই ইসলাম। এ বিষয়টা না বুঝার দরুন কত রকম কথা বাজারে চালু হয়ে গেছে। যার যার মতামত সেই বিষয়টাই ধারণ করে নেয়। এক ভুল শত ভুলের জন্ম দেয়। শত ভুল অগণিত ভুলের জন্ম দেয়। আজ ভুলটাই হয়ে গেছে নির্ভুল। আর নির্ভুলটাকেই ভুল মনে করা হচ্ছে। কে বোঝাবে? কে প্রচার করবে? কে জানিয়ে দেবে? মোহমায়ার শক্ত বাঁধনে খান্নাসরূপী শয়তান বেঁধে রাখলে কে এগিয়ে আসবে? তাই আজ দশ অসুরের পাল্লায় পড়ে আসল মানুষটিকেও অসুরের চাচা বা মামা মনে করা হচ্ছে।
সিয়ামটি কোন নতুন বিষয় নয়। বরং সর্বকালের সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য। যারা দেহ মন হতে আপন সত্তার ভেতরে খান্নাসরূপী শয়তানটিকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পেরেছে তারাই কামিয়াব হয়েছেন। ছয় রিপুর মাধ্যমে যাহা মনমগজে বাসা বাঁধতে থাকে উহাই একটি একটি করে হিসাব করে বর্জন করে দেবার সাধনার নামটি হলো সিয়াম। পরিশেষে যদি কেহ সিয়ামের মর্যাদা বুঝতে পেরে সকল প্রকার প্রতিকূল অবস্থা সত্ত্বেও সিয়াম সাধনায় দৃঢ়ভাবে লিপ্ত থাকে তবে উহা তার জন্য অবশ্যই উত্তম। কারণ আপন নফসের সঙ্গে যে-খান্নাসটিকে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে উহাই লোভ, মোহ, মাৎসর্য, কাম, ক্রোধ এবং অহঙ্কার নামক আবর্জনা, যা মানুষকে সঠিক পথ হতে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তাই এই ষড়রিপুর বন্ধনটিকে সম্পূর্ণরূপে উপড়িয়ে ফেলার জন্য সিয়াম একটি উপযুক্ত এবং সুন্দর মাধ্যম।
-কালান্দার বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী
যোগাযোগের ঠিকানাঃ
সুফিবাদ প্রকাশনালয়
প্রযত্নে:বে-ঈমান হোমিও হল
১০৮ নিউ এলিফ্যান্ট রোড(২য় তলা) ঢাকা-১২০৫।
মোবাইলঃ০১৭১৭৬৩৬৩৫৩

Beautyful wor...
ReplyDeleteThank you,share please for knowing someone the truth .
ReplyDeleteকোরআনের ৪টি আয়াত সিয়াম সম্পর্কে
ReplyDelete১) হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্যে সিয়ামের বিধান দেওয়া হলো, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেওয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার। (সূরা বাকারা-২:১৮৩)
২) সিয়াম নির্দিষ্ট কয়েক দিনের। তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে অথবা সফরে থাকলে অন্য সময় এই সংখ্যা পূর্ণ করবে। এটা যাদের সাতিশয় কষ্ট দেয় তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদইয়া-একজন অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদান করা। যদি কেউ স্বা:স্ফূর্তভাবে সৎকাজ করে তবে তা তার পক্ষে অধিক কল্যাণকর। আর সিয়াম পালন করাই তোমাদের জন্যে অধিকতর কল্যাণকর যদি তোমরা জানতে। (সূরা বাকারা-২:১৮৪)
৩) রমাজান মাস, এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কোরআন অবর্তীর্ণ হয়েছে।সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে তারা যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে এবং কেউ অসুস্থ্য থাকলে কিংবা সফরে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্যে যা সহজ তা চান এবং যা তোমাদের জন্যে কষ্টকর তা চান না, এজন্যে যে তোমাদের সংখ্যা পূর্ণ করবে এবং তোমাদের সৎপথে পরিচালিত করার কারণে তোমরা আল্লাহর মাহিমা ঘোষণা করবে এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে। (সূরা বাকারাহ ২:১৮৫)
৪) সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্যে তোমাদের স্ত্রীদের বৈধ করা হয়েছে। তারা তোমাদের জন্যে এবং তোমরাও তাদের জন্যে পরিচ্ছদ। আল্লাহ জেনেছেন যে, তোমরা তোমাদের নিজেদের সাথে খিয়ানত করছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের তাওবা কবুল করেছেন এবং তোমাদেরকে মার্জনা করেছেন, সুতরাং এখন তোমরা তাদের সাথে সংগত হও এবং আল্লাহ তোমাদের জন্যে যা নির্ধারণ করে রেখেছেন (অর্থাৎ সন্তান) তা অন্বেষণ করো। আর তোমরা আহার করো ও পান করো যতক্ষণ তোমাদের জন্যে (রাত্রির) কালো রেখা থেকে ফজরের সাদা রেখা স্পষ্ট হয়ে যায়। এরপর রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো। আর তোমরা মসজিদে ই’তিকাফ অবস্থায় তাদের সাথে সংগত হয়ো না। এগুলো আল্লাহর (নির্ধারিত) সীমা, সুতরাং এর নিকটবর্তী হয়ো না। এভাবেই আল্লাহ মানুষের জন্যে তার আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারে। (সূরা বাকারা ২:১৮৭)
জি ধন্যবাদ ভাইজা.. ❤
Delete