![]() |
| মারেফতের গোপন কথা II ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা ঈমান আল সুরেশ্বরী II সুফিবাদ প্রকাশনালয় |
ইসলামের সাম্যগান
ইসলামের ইতিহাসে আমরা দেখতে পাই, সাম্য-ভ্রাতৃত্বের বাস্তব দৃষ্টান্ত স্থাপন করার পথে দ্রুত তালে এগিয়ে গেলেও চরম আঘাত খেল হজরত মুয়াবিয়ার (রা.) কাছে। অনেকেই হজরত মুয়াবিয়া (রা.)-কে বর্ণচোরা মুনাফেক বলে অভিহিত করেন। যে বায়তুল মালের উপর জনসাধারণের সমান অধিকারকে মেনে নেওয়া হতো, সেই পবিত্র বায়তুল মালের আমানতকে হজরত মুয়াবিয়া (রা.) নিজের ব্যক্তিগত সম্পদ বলে ঘোষণা করতেও বিন্দুমাত্র লজ্জা অনুভব করেন নি। হজরত মুয়াবিয়া (রা.) ধর্মের বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি অতিমাত্রায় জনতার কাছে গুরুত্ব প্রদানের জন্য নিয়োজিত করলেন বেতনভুক্ত কিছুসংখ্যক আলেমদেরকে, যারা ইহাকে নৈতিকতা-বিরোধী কাজ বলে ঘৃণা প্রদর্শন করলেন এবং বহু ক্ষেত্রে বিপ্লব শুরু করার প্রস্তুতি নিতেছিলেন তাদেরকে নির্মমভাবে দমন করা হলো। আর নিযুক্ত করা হলো বেতনভুখ গুপ্তচর। এদের মাধ্যমে রাজ্যের আনাচে-কানাচে কোথাও যদি বিপ্লব দানা বাঁধার লক্ষণসমূহ প্রকাশ পেত তবে সেই সমস্ত সন্দেহসূচক বিপ্লবীদেরকে নির্মমভাবে করা হতো হত্যা। প্রয়োজন হলে ভোজের দাওয়াত দিয়ে ঘরের ভেতর এনে মেরে ফেলা হতো। হজরত মুয়াবিয়া (রা.) সাম্য আর ভ্রাতৃত্বের ফেলে রাখা বাস্তব আদর্শের বুকে বসিয়ে দিলেন ডেগার। কিন্তু আফসোস! কত যুগ পেরিয়ে গেল, কিন্তু সেই আদর্শ আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারলো না।
ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্ঠার তরে যখন হজরত মোহাম্মদ (আ.)-এর নয়নের মণি ইমাম হোসায়েন এগিয়ে এসেছিলেন তখন হজরত মুয়াবিয়ার (রা.) সেই পেশাদারী তিন শত তথাকথিত আলেমর তাঁকে ‘কাফের এবং বাগি’ ফতোয়া দিতেও বিবেকে বাধে নি। তাই তো হজরত মোহাম্মদ (আ.) বিশ্বের মানবকে সাবধান করে দিয়ে বলেছিলেন, ‘এমন দিন আসবে যখন আলেমদের স্বভাব জমিনের উপর সবচাইতে নিকৃষ্ট হবে।’
‘মসজিদ ঘরে ধনী-গরিব সমান আর খাবার সানকিতে একজন পোলাও-কোরমা আর একজন দু’মুঠো বাসি ভাত’এটাই কি হজরত মোহাম্মদ (আ.)-এর সেই সাম্যগান, যে সাম্যগানে অবগাহন করে খলিফা ওমর ফারুক নিজে যতটুকু উটের পিঠে বসে জেরুজালেম গিয়েছিলেন ততটুকু তার চাকরকেও বসিয়ে নিয়েছেন? এটাই কি হজরত মোহাম্মদ (আ.)- এর সেই সাম্যগান, যে গানের সুরে মাতোয়ারা হয়ে হজরত আবু বকর বন্ধুর দেওয়া মধু-মিশ্রিত পানি পান করার পর গলায় আঙুল ঢুকিয়ে বমি করে ফেলে দিয়ে বলেছিলেন, ‘কী জবাব দেব যদি আবু বকরকে প্রশ্ন করা হয়, লক্ষ লক্ষ জনতা কি সেদিন সে বেলায় তৃপ্তির সাথে পানি পান করতে পেরেছিল? সে খবর কি তুমি নিয়েছিলে? তবে কোন অধিকারে পানির সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করেছো?’ এটাই কি হজরত মোহাম্মদ (আ.)-এর সেই সাম্যগান, যে গানে মুগ্ধ হয়ে মাওলা আলি বলেছিলেন, ‘যেদিন প্রতিটি মানুষের এ রকম প্রাসাদে থাকার ব্যবস্থা করতে পারবো সেদিনই এই প্রাসাদে থাকার প্রশ্ন বিবেচনা করা হবে?’
যে ধন-সম্পদের দাম একটি মাছির একটি ডানার সমানও নয় বলে আল্লাহ আমাদেরকে বার বার জানিয়ে দিলেন, যে ধন-সম্পদের দাম একটি মরা-পচা-দুর্গন্ধযুক্ত ছাগলের বাচ্চার চেয়েও মূল্যহীন বলে হজরত মোহাম্মদ (আ.) আমাদেরকে বহুবার বহু রকমে উপদেশের পর উপদেশ দিয়ে গেলেন আর সেই ধন-সম্পদ নিজের অধিকারে রেখে কী করে যে আমরা আল্লাহ এবং নবির আদর্শে বিশ্বাসী বলে জাহির করি সেটা ভাবতেও মন লজ্জা ও ঘৃণায় ভরে ওঠে।
মারেফতের গোপন কথা
ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা ঈমান আল সুরেশ্বরী
>>>ডা:বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী রচিত বইসহ সুফি দর্শনের উপর বাংলায় রচিত বইসমুহ নিম্নোক্ত ঠিকানায় পাওয়া যাচ্ছে...........
ঠিকানা:
সুফিবাদ প্রকাশনালয়
প্রযত্নে:বে-ঈমান হোমিও হল
১০৮ নিউ এলিফ্যান্ট রোড(২য় তলা) ঢাকা-১২০৫
মোবাইলঃ ০১৭১৭৬৩৬৩৫৩

Comments
Post a Comment
JOY GURU.
Thank you for your valuable comment.