Skip to main content


//আমির খসরুর রংবাজি//

[ত্রয়োদশ শতকের ভারতে গুণবান কবি ও সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন হজরত আমির খসরু। ১২৫৩ সালে জন্ম তার। বিভিন্ন রাজদরবারে রাজকবির ভূমিকায় সভাসদ ছিলেন তিনি। আবার তিনি ছিলেন হজরত নিজাম উদ্দিন আউলিয়ার প্রিয় মুরিদ। বলা হয়, তার এক পা থাকত রাজদরবারে, অন্যটি নিজাম উদ্দিনের খানকায়। এই দ্বৈততা বড় বিস্ময়-জাগানিয়া।

সঙ্গীতে আমির খসরুর অবদান বিশাল। কাওয়ালি ও গজল গানের প্রবর্তক তিনি। বহু রাগের স্রষ্টা। তবলা ও সেতার তিনিই উদ্ভাবন করেন। মিশ্রভাষা উর্দুরও তিনিই জনক বলে বর্ণনা আছে। মূলত ফারসি ও হিন্দিতেই অধিকাংশ রচনা তার। তুর্কি, আরবি এইসব ভাষায়ও দখল ছিল তার।

নিজাম উদ্দিনের যেমন তিনি প্রিয় ছিলেন, তেমনি তারও গুরুপ্রেম অবিস্মরণীয়। বিশেষ করে তার কবিতায় ও গানে নিজামপ্রশস্তি ও গুরুবাদ যেভাবে অভিব্যক্ত হয়েছে তা অতুলনীয়।

১৩২৫ সালে সালে তিনি প্রয়াত হন। তার মাজার শরিফ দিল্লিতে তার মুরশিদ নিজাম উদ্দিন আউলিয়ার পাশেই।

তার একটি বিখ্যাত কালাম বড় দরদ দিয়ে গেয়েছেন নুসরাত ফতেহ আলি খান : আজ রাঙ হ্যায় রি। গুরুপ্রেমের অপূর্ব নিদর্শন এটি। এর ভাবটুকু বাংলায় রূপান্তর করা গেল।]

মাটির প্রদীপ ওগো, শোনো অনুরোধ,
আজ রাতে প্রাণনাথ আসবেন নিকটে আমার
জেগে থেকো তুমি আর জ্ব'লো সারারাত।

রঙ ঝলমলাচ্ছে আজ, মা গো,
রঙ ঝলমলাচ্ছে
আমার খাজার ঘরে
রঙ ঝলমলাচ্ছে আজ, মা গো,
রঙ ঝলমলাচ্ছে।

আমার খাজার ঘরে রঙ ঝলমলাচ্ছে,
প্রাণনাথ এসেছে আমার ঘরে আজ।

রঙ ঝলমলাচ্ছে আজ, মা গো,
রঙ ঝলমলাচ্ছে।

রাসুলের পাক বর্ণ এই রঙ,
মাওলা আলির হাতে তৈরি এই রঙ,
এই রঙে ওড়না রাঙবে যার
ভাগ্যবান সেই জন।

রঙ ঝলমলাচ্ছে আজ, মা গো,
রঙ ঝলমলাচ্ছে।

আমার প্রিয়র ঘরে
ওগো সখি, আমার প্রিয়র ঘরে
রঙ ঝলমলাচ্ছে আজ, মা গো,
রঙ ঝলমলাচ্ছে।

পেয়েছি আমার পীর
নিজাম উদ্দিন আউলিয়াকে,
পেয়েছি আমার পীর
সাবির আলাউদ্দিন আউলিয়াকে,
নিজাম উদ্দিন আউলিয়া,
আলাউদ্দিন সাবির।

যখনই তাকাই, দেখি,
আমার সাথেই রয়েছে সে;
মা গো, রঙ ঝলমলাচ্ছে আজ,
রঙ ঝলমলাচ্ছে।

অনেক ঘুরেছি আমি কাছে-দূরে শুধু খুঁজে খুঁজে,
আহা, অনেক ঘুরেছি আমি কাছে-দূরে শুধু খুঁজে খুঁজে;
তোমার রঙেই আমি ধরা খেয়ে গেছি, ওগো নিজাম উদ্দিন,
তোমার রঙেই আমি পুরোপুরি হয়েছি আটক।

অার যতকিছু সব ভুলে গেছি, মা গো,
এমনই রঙ যে এটা, আগে দেখি নাই;
মাহবুবে এলাহি, ওগো, খোদার প্রেমিক,
এমনই রঙ যে এটা, আগে দেখি নাই।

খসরু, বাসর রাত জেগে কাটিয়েছি
প্রিয়তম স্বামীর সাথেই,
আমার শরীর আর আত্মা প্রিয়র
এক রঙে হয়েছে রঙিন;
এমনই রঙ যে এটা, আগে দেখি নাই,
মাহবুবে এলাহি ওগো, খোদার প্রেমিক,
এমনই রঙ যে এটা, আগে দেখি নাই।

গোকুল দেখেছি আমি, মথুরা দেখেছি
পূর্ব দেখেছি আমি, পশ্চিম দেখেছি
উত্তর দেখেছি আমি, দক্ষিণ দেখেছি
কোথাও দেখিনি আমি এই রঙ, যে-রঙ তোমার,
এমনই রঙ যে এটা, আগে দেখি নাই;
মাহবুবে এলাহি, ওগো, খোদার প্রেমিক,
এমনই রঙ যে এটা, আগে দেখি নাই।

ঘুরেছি জগৎজুড়ে, খোদার কসম,
তোমার মতন রূপ দেখিনি কোথাও,
দেখেছি অনেক মুখ অপরূপ, দারুণ সুন্দর,
পাইনি একটাকেও তোমার সঙ্গে তুলনার।

জগৎ জগৎ জগৎ জগৎ
জগৎ করেছে উজ্জ্বল
খাজা নিজাম উদ্দিন
পুরো জগৎ করেছে উজ্জ্বল
আলাউদ্দিন সাবির
পুরো জগৎ করেছে উজ্জ্বল।

বৃষ্টিধারা
বৃষ্টিধারায় মেঘেরা ঝরায় মাধুরিমা
ঝরায় মাধুরিমা
মেঘেরা ঝরায় মাধুরিমা...

খাজেগানদের দরবারে
মেঘেরা আজকে দেখ করুণাধারায় কেমন পড়ছে ঝরে,
মেঘেরা ঝরায় মাধুরিমা...

বৃষ্টিধারায় মেঘেরা ঝরায় মাধুরিমা
খাজা ফরিদ উদ্দিন গঞ্জেশকর
কুতুব উদ্দিন কাকি
খাজা মঈন উদ্দিন চিশতি
খাজা নিজাম উদ্দিন
খাজা নাসির উদ্দিন চেরাগি।

আজ নাসির উদ্দিন চেরাগির বিখ্যাত মাশুক
আমার প্রেমিক হয়েছে
নিজাম উদ্দিন আউলিয়া জগৎকে উজ্জ্বল করেছে
পুরো জগৎকে উজ্জ্বল করেছে
সারা জাহানকে উজ্জ্বল করেছে।

তোমার চেহারা মেলে এরকম আর কেউ নাই
তোমার মুখের ছবি নিয়ে যাই সকল জায়গায়
এমনই রঙ যে এটা, আগে দেখি নাই;
মাহবুবে এলাহি, ওগো, খোদার প্রেমিক,
এমনই রঙ যে এটা, আগে দেখি নাই।

নিজাম উদ্দিন আউলিয়া জগৎকে উজ্জ্বল করেছে
সারা জাহানকে উজ্জ্বল করেছে
যেটাই সে চায় সেটা পূর্ণ হয়ে যায়
মা গো, রঙ ঝলমলাচ্ছে।

#সৈয়দতারিক

Comments

Popular posts from this blog

বাবা জাহাঙ্গীর এর বইয়ের তালিকা..

  বাবা জাহাঙ্গীর এর বইয়ের তালিকা  সুফিবাদ প্রকাশনালয় হতে প্রকাশিত ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী ও অন্যান্য  লিখকের বইগুলোর নামঃ   ১ ।মারেফতের গোপন কথা ২।মারেফতের গোপন আলাপ ৩।মারেফতের বানী ৪।সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের একমাত্র পথ-১ম খন্ড ৫।সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের একমাত্র পথ-২য় খন্ড ৬।সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের একমাত্র পথ-৩য় খন্ড ৭।ইতিহাস নয় সুফিবাদের রহস্য ৮।নিহ্নবে চিত্তদাহ সুফিবাদ সার্বজনীন ৯।শরিয়তি শয়তান মারেফতি শয়তান ১০।কোরানের দৃষ্টিতে নামাজ ৮২ বার ১১।গান বাজনার দলিল ১২।ফকিরির আসল কথা ১৩।ফকিরির গোপন কথা ১৪।শরিয়তি সেজদা মারেফতি সেজদা ১৫।কোরানুল মাজিদ ১৫ পারা (হুবহু অনুবাদ ও কিছু ব্যাখ্যা) ১৬।মারেফতের গোপন দর্শন অনেকের অজানা ১৭।মারেফতের গোপন ভেদ-রহস্য ১৮।মারেফতের গোপন আলোচনা ১৯।রোজা ইফতার হজ্জ জাকাত ও কোরবানী ২০.মারেফতের গোপনেরও গোপন কথা ২১.সুফিবাদের গোপনেরও গোপন কথা [উক্ত তালিকার   ১২,১৩,১৬,১৭ও ১৮ নং এই পাঁচটি বই একসাথে ] ২২.ফকিরির গোপনেরও গোপন কথা [সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের একমাত্র পথ ১,২,৩ ও ৪ খন্ড একসাথে] ২৩. আল্লাহ কোথায় থাকেন? ২৪....
Mystery of unknown |Baba Jahangir    অন্ধকারের রহস্য   আমি অন্ধকারকে দেখতে চেয়েছিলাম। অন্ধকার দেখা যায় না। অন্ধকার কেউ দেখতে পারে না। পারে তারাই যাদের একাগ্র ব্যাকুলতা থাকে। অন্ধকার জগতের আসল রূপ। আলাে ক্ষণিকের তরে। আলােতে রহস্য নাই। রহস্য অন্ধকারেই থাকে। যে বিষয়গুলাে বলা যায় না ইহা অন্ধকার। একদম বলা যায় না উহাই অন্ধকার। ঐ অন্ধকারের সন্ধান পায় অন্ধকার খোঁজার জীবনগুলাে। সব প্রাণীকুল একেরই ভিতর নাচানাচি করে।  একেরই বহুরূপ তুলে ধরে। অন্ধকারের প্রাচীরের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন আইনস্টাইন , নিলস বাের , নিউটন , ম্যাক্স প্লংক , লুই পাস্তুর , রঞ্জন , বেয়ার্ড , ফ্লেমিং আরাে অনেক অনেকেই।   এই অন্ধকারের দেয়াল ভেঙ্গে অন্ধকারের গােপন রহস্যগুলাে যখন আলাের সামনে নিয়ে এলাে তখনই অন্ধকার ধরা পড়ে গেল। অন্ধকার থেকে গ্রাহাম বেল কান ধরে টেনে আনলেন টেলিগ্রাম আর টেলিফোন।  প্রিয়তমা স্ত্রী হ্যালােকে প্রথম ফোনে বলেছিলেন হ্যালাে। আলােতে বাস করা পৃথিবীর মানুষগুলাে ফোনে প্রথম উচ্চারণ করে হ্যালাে। প্রেয়সী হ্যালাে মনের অজান্তে সবার মনে অমর হয়ে রইল।  আবিষ্কার শব্দটির মান...
কোরান-এ সালাতের উল্লেখ : ৬ কোরান-এর ২ নম্বর সুরা বাকারার ১২৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে এবং যখন আমরা ঘরটিকে (কাবাকে) মানুষদের জন্য ঘাঁটি (মিলনকেন্দ্র) এবং নিরাপত্তার স্থানরূপে নির্বাচন করিলাম (ওয়া ইজ জাআলনাল বাইতা মাসাবাতান লিন্নাসে ওয়া আমনান) এবং মাকামে ইব্রাহিমকে মুসাল্লা (সালাতের স্থান) রূপে গ্রহণ করিতে বলিলাম (ওয়াত্তাখেজু মিন মাকামে ইব্রাহিমা মুসাল্লা) এবং আমরা ইব্রাহিম এবং ইসমাইল হইতে তওয়াফকারী এবং এতেকাফকারী এবং রুকু সেজদাকারীদের জন্য আমার ঘরটিকে পবিত্র রাখার জন্য অঙ্গীকার গ্রহণ করিলাম (ওয়া আহেদনা ইলা ইব্রাহিমা ওয়া ইসমাঈলা আন তাহহেরা বাইতিয়া লিতায়েফিনা ওয়াল আকেফিনা ওয়ার রুক্‌কে ইসসুজুদে)। ব্যাখ্যা কোরান-এর এই আয়াতটি দিয়ে প্রথমেই একটি বিষয় প্রমাণিত করা যায় যে, দুনিয়ার সমস্ত সাহিত্যকর্ম একত্রিত করলেও এই আয়াতটির ভাষা ও শৈলীর ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারবে না। উর্বর মস্তিষ্কের অধিকারীরা এবং দুনিয়ার বৈষয়িক জ্ঞানের অধিকারীরা আমার এইরূপ মন্তব্যে হয়তো মুচকি হেসে যা-তা একটা কিছু বলতে চাইবে এবং এ রকম কিছু একটা যে বলতে চাইবে ইহা বিদ্যাশিক্ষার কর্মফল হতেই অভিজ্ঞতাটি অর্জন করেছি। ভূত...