Skip to main content

কোরানে নামাজের উল্লেখসমূহ-০১

 কোরানে নামাজের উল্লেখসমূহ-০১

Baba Jahangir | Salat


কোরান-এ সালাতের উল্লেখসমূহ

এখন আমরা কোরানুল করিম হতে সালাত তথা নামাজ বিষয়টি যেখানে যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে তার সামান্য কিছু নমুনা তুলে ধরতে চাই।

কোরান-এ সালাতের উল্লেখ : ১

কোরান-এর ২ নম্বর সুরা আল বাকারার ৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে যাহারা গায়েবের (অদেখার) প্রতি বিশ্বাস করে (আল্লাজিনা ইউমেনুনা বিল গায়েব) এবং সালাত কায়েম করে (ওয়া ইউকিমুনাস সালাতা) এবং আমরা (এখানে আল্লাহ 'আমি' বলেন নি, তাই হুবহু রাখলাম) তাহাদেরকে যে রেজেক দিয়াছি (ওয়া মিমা রাজাকনাহুম), তাহা ব্যয় করে (ইউনফেকুনা)।

ব্যাখ্যাঃ

এই আয়াতে সালাত কায়েমের আগের শর্তটি হলো, যারা বিল গায়েবের উপর ইমান আনে। বিল গায়েব শব্দটির বাংলা অনুবাদ করা হয় অদৃশ্য। এই অদৃশ্য বলতে কী বুঝায়? বিজ্ঞানীর দৃষ্টিতে দৃশ্য এবং অদৃশ্যের বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ অনেক জটিল। আমরা ইচ্ছা করেই সেইসব জটিল পথে অগ্রসর না হয়ে সোজা কথায় বলতে চাই, আল্লাহ তথা সমস্ত সৃষ্টির সেফাত-সমূহ এবং জাত-সমূহের একত্রিত রূপটির নাম হলো আল্লাহ। সেই আল্লাহ তথা রুহ তথা 'আমরা'-রূপী রুহ, ফেরেশতা, আখেরাত, বেহেশত, এবং দোজখের উপর না দেখেই বিশ্বাস স্থাপন করাটাকেই বিল গায়েবে বিশ্বাস করা তথা অদৃশ্যে বিশ্বাস বলতে চাই। এইসব বিষয়গুলো তথা বিল গায়েবগুলো দেখবার কোনো যন্ত্র বা উপায়- উপকরণ এই সর্বাধুনিক বিজ্ঞানও আবিষ্কার করতে পারে নি। অথচ অবাক হবার কথাটি হলো, এই আল্লাহই 'নাহনু আকরাবু'-রূপে, রুহরূপে প্রতিটি মানুষের সঙ্গেই তথা জীবন-রগের নিকটেই অবস্থান করছেন। এই অবস্থানটির ঘোষণা কোরান দেবার পরও আমরা কিছুই বুঝতে পারি না। তাই এটা বিল গায়েবের জ্ঞান। তারপর যে ফেরেশতাদের কথা বলা হয়েছে উহা প্রতিটি মানুষের ভিতরেই থাক আর বাহিরেই থাক, আমরা দেখতে পাই না। এই দেখতে না-পাওয়া বিষয়টিকেই বিল গায়েব বলা হয়। আখেরাত আর কেয়ামত শব্দ দু'টো যদিও পাশাপাশি চলে তবু এখানে মৃত্যু ঘটনাটির কথাকেই আখেরাত বলা হয়েছে। এবং ইহাও প্রতিটি মানুষের সঙ্গেই জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপর আসে জান্নাত এবং জাহান্নামের কথাটি। জান্নাত ও জাহান্নাম কথা দু'টো বলতে গেলে মেজাজি এবং হাকিকির কথাটি এসে পড়ে। মেজাজি জান্নাত ও জাহান্নাম সম্ভবত বাহিরে থাকে (অধম লিখকের জানা নাই)। কিন্তু হাকিকি জান্নাত ও জাহান্নাম যে প্রতিটি মানুষের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ইহাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নাই। তাই বলা হয়ে থাকে, যিনি জান্নাতে অবস্থান করেন তার কাছে সব কিছুই জান্নাত আর যে জাহান্নামে অবস্থান করে তার কাছে সব কিছুই জাহান্নাম। এই বিষয়গুলোর উপর তথা বিল গায়েবের উপর দৃঢ় আস্থা যারা রাখতে পারবেন তাদেরকে এর আগেই বলা হয়েছে মুত্তাকি। আল্লাহ যেমন সবরকারীর সঙ্গে তথা যারা ধৈর্যধারণ করে তাদের সঙ্গে থাকবার কথাটি কোরান-এ ঘোষণা করা হয়েছে, তেমনি যারা মুত্তাকি তাদের সঙ্গেও আল্লাহ আছেন বা থাকেন বলে ঘোষণাটি কোরান দিয়েছে। সুতরাং মুত্তাকি বলতে তাদেরকেই বোঝানো হয়েছে যারা দায়েমি সালাতের মধ্যে তথা চিরস্থায়ী যোগাযোগ স্থাপন করাটির প্রশ্নে ধ্যানসাধনা ও মোরাকাবা-মোশাহেদার অবিরাম সাধনা চালিয়ে যান। এই অবিরাম ধ্যানসাধনা ও মোরাকাবা-মোশাহেদাটি এ জন্যই মুত্তাকিরা করে যান যাতে বিল গায়েবের বিষয়গুলো তথা অদৃশ্যের বিষয়গুলো মুত্তাকির ভেতর গোপনে প্রকাশিত হয়ে পড়ে। যদি সবার জন্যই প্রকাশিত হয়ে যাবার বিধানটি দেওয়া হতো তা হলে দুনিয়াতে আল্লাহ যে আমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য পাঠিয়েছেন সেই কথাটির আর কোনো মূল্য থাকতো না। তা হলে সবাই মুসলমান হয়ে যেত। আর সবাই মুসলমান হয়ে গেলে আল্লাহ্র এই জটিল খেলাগুলোর কোনো মূল্যায়ন থাকতো না। এই কথাগুলো কোরান-এর অনেক আয়াতে অনেক রকম ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই মুত্তাকি নামক সাধকেরাই ধ্যানসাধনা এবং মোরাকাবা-মোশাহেদার মাধ্যমে বিল গায়েবের তথা অদৃশ্যের ঘটনাগুলো জেনে নেবার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যান। তাই আল্লাহ এই মুত্তাকিদের সঙ্গে সব সময় আছেন বলে কোরান ঘোষণা দিয়েছে। মুত্তাকি বলার প্রশ্নেও মেজাজি মুত্তাকি এবং হাকিকি মুত্তাকির কথাটি এসে পড়ে। মেজাজি মুত্তাকিরা বিল গায়েবের দৃশ্যগুলোর প্রতি ইমান এনেও, ধ্যানসাধনা করেও, এইসব বিষয়ের রহস্য উদঘাটন করতে পারে না। তারাও মুত্তাকি, তবে তারা মেজাজি মুত্তাকি। তারা মোটেও হাকিকি মুত্তাকি নয়। কারণ হাকিকি মুত্তাকি হবার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাক হয়ে যান। নিরাকার আল্লাহ যেমন সাকার মানুষ ছাড়া কথা বলার বিধানটি রাখেন নি, তেমনি হাকিকি মুত্তাকিদের মাধ্যমেই আল্লাহ কথা বলে যান। তাই আমরা হাদিসে দেখতে পাই, মহানবি বলেছেন, আল্লাহ্ খাস বান্দা নফল এবাদত-বন্দেগি করতে করতে এমন একটি পর্যায়ে এসে পড়েন যখন ওই খাস বান্দা, ওই খাস মুত্তাকির মুখেই আল্লাহ কথা বলেন, ওই খাস বান্দা ও হাকিকি মুত্তাকির চোখে আল্লাহ দর্শন করেন ইত্যাদি। (হাদিসটি হুবহু উদ্ধৃত নয়)। তাই মুত্তাকিরা বিল গায়েবের উপর ইমান আনে তথা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সালাত কায়েম করে তথা আল্লাহ্র সঙ্গে যোগাযোগ করার অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়ে যায় এবং তাদেরকে যে রেজেক দান করা হয়েছে উহা হতে ব্যয় করে রেজেকের বেলাতেও মেজাজি এবং হাকিকি কথাটি এসে পড়ে। মেজাজি রেজেক দান করাটি তথা ব্যয় করাটির কথা দ্বারা আমরা মোটামুটিভাবে দুনিয়ার ধনসম্পদ ব্যয় করার কথাটি বুঝে থাকি। দুনিয়ার ধনসম্পদ নামক রেজেক কথাটির সঙ্গে বেহিশাব কথাটি মোটেই খাটে না, কারণ আধুনিক বিজ্ঞান দুনিয়াতে চাউল, গম, কাসাভা, আলু, ডাল, পিঁয়াজ, রশুন, আদা এবং ইত্যাদি ধনসম্পদ বিষয়ের রেজেকগুলোর পরিমাণটুকু অনায়াসে বলে দিতে পারে। তা হলে বেহিশাব কথাটি দুনিয়ার ধনসম্পদের প্রশ্নে অধম লিখকের মনে হয়, খাটে না। কিন্তু যেটি হাকিকি রেজেক, যেটি অসীম রেজেক, যেটি নুরানি রেজেক, যেটি রহস্যের রেজেক উহা মাপার যন্ত্রটি আধুনিক বিজ্ঞানও আবিষ্কার করতে পারে নি এবং কেয়ামত পর্যন্ত তা না পারারই কথা। একজন হাকিকি মুত্তাকি আরেকজন মেজাজি মুত্তাকিকে যখন রহস্যের রেজেক দান করেন তখনই সঙ্গে সঙ্গে মেজাজি মুত্তাকিটি হাকিকি মুত্তাকিতে পরিণত হয়ে যান। তাই কোরান সর্বপ্রথম একটি প্রচণ্ড চপেটাঘাত করছে এই বলে যে 'আলিফ-লাম-মিম ওইটাই কেতাব। এখানে দাঁড়ি দেওয়া হয়েছে তথা বাক্যটি শেষ করে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই এই বিষয়টি বুঝতে না পেরে কত রকমের যে ধানাইপানাই করতে থাকে এবং সেই ধানাইপানাইয়ের একেক রকম রূপ ও রঙ দেখে সরল পাঠকেরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। অনেক শ্রদ্ধেয় ধানাইপানাই করনেওয়ালা পাঠকেরা তথা লিখকেরা কিছু বুঝতে না পেরে ইহার উপর একটি বিশেষণ তথা টাইটেল জুড়ে দেয় আর সেই টাইটেলটির নাম হলো 'হুরুফ আল মুকাত্তায়াত' তথা বিচ্ছিন্ন অক্ষরসমূহ। পাঠকদের অবগতির জন্য জানানো হচ্ছে যে বিচ্ছিন্ন অক্ষরসমূহকেই হুরুফে মুকাত্তায়াত বলা হয়।

কী চমৎকার টাইটেলটি আলিফ-লাম-মিমের মাথার উপরে টুপি পরানোর মতো পরিয়ে দিয়ে আবার গুরুগম্ভীর ভাষায়, শব্দচয়নের অলঙ্কারে সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে দেয় যে, ইহার তাৎপর্য তথা ব্যাখ্যা একমাত্র আল্লাহই জানেন। এই কথাগুলো বলেই গবেষকেরা খালাস পেতে চায়, মুক্তি পেতে চায়। কিন্তু কোরান বলছে আল্লাহ পাক কোনো কিছুই কারণ ছাড়া তথা অকারণে বলেন না, তথা মানুষকে বুঝিয়ে দেবার জন্যই কোরান-এর কথাগুলো। অথচ না বুঝে, না শুনে, না গবেষণা করে, না ধ্যানসাধনা করে, “এই বিষয়গুলো আল্লাহই ভালো জানেন' বলে একখানা খাসা বাক্য লিখে খালাস পেতে চায়। আফসোস! এইসব গবেষকেরা মনের ভুলেও একটি কথা লিখতে জানে না, আর সেই কথাটি হলো কোরান-এর এই কথাগুলোর অর্থ আমাদের জানা নাই। আমাদের জানা নাই' কথাটি লিখলে তথাকথিত ইসলাম গবেষকদের মান-ইজ্জত আর থাকে না। তাই নরওয়ের বিখ্যাত দার্শনিক সোরেন কিয়ের্কেগার্দ বার বার তার শিষ্যদেরকে একটি কথা বলেছিলেন আর সেই মহামূল্যবান কথাটি হলো : হে আমার শিষ্যরা, জেনে রাখো, যে মানুষটি সব প্রশ্নের উত্তর গরগর গরগর করে দিতে পারে সে একজন বিপদজনক মানুষ। তার থেকে দূরে থেকো। কারণ তার থেকে জ্ঞান যতটুকু অর্জন করতে পারবে তার চেয়ে বেশি অহঙ্কার তোমাদেরকে গ্রাস করে ফেলবে। (হুবহু উদ্ধৃত নয়)।

মহানবি বলেছেন, আগুন যেমন কাঠ খেয়ে ফেলে, অহঙ্কার সে রকম মানুষের মানবিক গুণগুলোকে খেয়ে ফেলে। অধম লিখক হয়তো কিছু লেখাপড়া করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, অনেক ইসলাম গবেষক, অনেক ধর্মের ধ্বজধারী, অনেক কোরান অনুবাদক, অনেক কোরান-এর তফসিরকারক আপন প্রবৃত্তির বেষ্টনীর দ্বারা বুঝতে না পেরে কত রকম ডিজাইনের যে গুল-মারা বিদ্যা লিখে গেছেন তার ইয়াত্তা নাই। একটি বারের তরেও গুল-মারা বিদ্যাটি ফেলে দিয়ে অকপটে বলে দিতে পারলো না যে, কোরান-এর এই আয়াতগুলো ব্যাখ্যা করার মতো জ্ঞান আমার নাই। অথবা, কোরান-এর এই আয়াতের মর্মার্থ উদ্ধার করতে পারলাম না।

‘জালিকাল কেতাব' অর্থাৎ 'ওইটাই কেতাব।' বলা হয় নি, 'হাজাল কেতাব' তথা 'এইটাই কেতাব।' 'ওইটাই কেতাব।' কোনটা কেতাব? বলা হয় নি জালিকাল কোরান, বলা হয় নি জালিকাল ফোরকান বলা হয়েছে জালিকাল কেতাব তথা ওইটাই কেতাব। খাস নিয়তে, পবিত্র মন নিয়ে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও ভয় রেখে আলিফ-লাম-মিম নামক আয়াতটির গবেষণা করে যান। অবশ্য অনেকেই আলিফ-লাম-মিমের রহস্যটি মোটামুটিভাবে লিখে গেছেন। সেই লেখা ভুল হোক, কিন্তু আন্তরিকতার প্রশ্নে পুরস্কার অবধারিত।

কোরান কোথাও কোরান-কে কেতাব বলেছে, আবার কেতাব শব্দটি দিয়ে আল্লাহর সৃষ্টিরাজ্যের প্রকাশ ও বিকাশের চলমান ধারাটিকে বুঝানো হয়েছে। ওইটাই কেতাব। কোনটা? আলিফ-লাম-মিমটাই কেতাব। বাক্যটি এখানেই শেষ। তাই কোরান-এর সর্বপ্রথমেই রহস্যলোকের রহস্যময় কথার একটি মাত্র বাক্য মানবজাতির গালের উপরে প্রচণ্ড চপেটাঘাত হজরত শাহ সুফি সদর উদ্দিন আহমদ চিশতি এই আলিফ-লাম-মিমের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণটি করেছেন। সেই ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণটি ভুলই হোক আর শুদ্ধই হোক, কিন্তু আন্ত রিকতার প্রশ্নে নিজের বিবেককে ফাঁকি দেবার অবকাশটি রাখেন নি।

এই মহান আল্লাহর ওলি সুফি সদর উদ্দিন আহমদ চিশতি আলিফ লাম মিম বিষয়টির উপর যে ব্যাখ্যাটি দিয়ে গেছেন উহাই হুবহু তাঁর ভাষায়, তাঁর কোরান দর্শন নামক কোরান-এর তফসির হতে তুলে ধরলাম:

“আলে মিম (অর্থাৎ মোহাম্মদের বংশধর)

"আল এবং মিম অক্ষরের উপর চিরস্থায়ী মদ রহিয়াছে। তাহা ছাড়া মিমের উপর তসদীদ রহিয়াছে। মোহাম্মদ (আ) তাঁহার আল সহকারে সৃষ্টির মধ্যে জাহেরে এবং বাতেনে চিরন্তন হইয়া বিরাজমান রহিয়াছেন। এখানে 'আল' অর্থ নূরের বংশধর। আদিতে মোহাম্মদ ও অন্তে মোহাম্মদ, মধ্যে মোহাম্মদ, তাঁহাদের সবাই মোহাম্মদ। সৃষ্টির আদি-অন্তে আল্লাহ্র প্রতিনিধি হিসাবে সর্বত্র তাঁহারাই কর্তাব্যক্তি। মীমের উপর তসদীদ রহিয়াছে। ফলত: ইহার উচ্চারণে মীম দ্বিগুন হইতেছে অর্থাৎ মোহাম্মদই মোহাম্মদ।

“এই সংকেতটি ৬টি সুরার উদঘাটিকারূপে বা প্রারম্ভিক সংকেতরূপে বর্ণিত হইয়াছে। যথা সুরা বাকারা, আলে ইমরান, আনকাবুত, রুম, লোকমান এবং সেজদা।
“অনুবাদ : (২ : ১-৩) - আলে মোহাম্মদ, উহা আল কেতাব, নাই তাহাতে সন্দেহের কোন অবকাশ উহা একটি হেদায়েত সেই সকল মোত্তাকিদের জন্য যাহারা গায়েবের সহিত ঈমানের কাজ করে এবং সালাত দাঁড় করে এবং আমরা যে রেজেক দিয়াছি তাহা হইতে ব্যয় করে।

"ব্যাখ্যা : স্রষ্টার বিকাশ বিজ্ঞানকে কেতাব বলে। স্রষ্টার সকল প্রকার বিকাশ বিজ্ঞানের মধ্যে অর্থাৎ তাঁহার কেতাবসমূহের মধ্যে

মোহাম্মদের (আ) বংশধর হইলেন বিশিষ্ট একটি মহান কেতাব। “অনুবাদ : (৩১ : ১-৩)- আলে মোহাম্মদ তাঁহারা বিজ্ঞানময় আল কেতাবের পরিচয়, (তাঁহারা) সৌন্দর্যের অনুশীলনকারীদের জন্য

(বা সৎকর্মশীলদের জন্য) একটি হেদায়েত ও রহমত। “অনুবাদ : (৩২: ১-২)- আলে মোহাম্মদ রাব্বিল আলামীন হইতে আল কেতাবের নাজেল, তাহাতে কোন সন্দেহ নাই।"

অধম লিখকের মতে, আলিফ-লাম-মিমের রহস্যময় ব্যাখ্যাটি তিনি যে অতি সংক্ষেপে দিয়েছেন উহা একটি চমৎকার ব্যাখ্যা। তা ছাড়াও এই আলিফ-লাম-মিম বিষয়টির উপর অনেক ইসলাম গবেষক অনেক রকম ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে গেছেন। যে গবেষক যতটুকু বুঝতে পেরেছেন ততটুকুই ব্যাখ্যা লিখে গেছেন। অনেক গবেষক তো আবার ভেটো-মারা বিদ্যার সিলমোহরটি মেরে দিয়েছেন। বলেছেন, এই আলিফ-লাম-মিমের অর্থটি আল্লাহই ভালো জানেন। এটা কোনো যুক্তিসঙ্গত কথা হলো? আল্লাহ তো সবই জানেন, এটা একটা অতি সাধারণ মানুষও জানে। যেহেতু আল্লাহ কথাটি বলেছেন এবং আল্লাহ বলেছেন কোনো কিছুই আমি অনর্থক বলিও না, সৃষ্টিও করি না

এরপরেও আল্লাহ্র উপর বিষয়টি চাপিয়ে দিয়ে নিজেকে খালাস করার প্রচেষ্টাটি কতটুকু গ্রহণযোগ্য তা পাঠকেরাই বিচার করবেন। গবেষণায় ভুল হোক এতে আপত্তি নাই, কিন্তু আপত্তিটি তখনই করা যাবে যখন আন্তরিকতার প্রশ্ন নিয়ে বিতর্কিত হতে হয়। অবশ্যই আল্লাহ প্রতিটি মানুষের অন্তরের আন্তরিকতাটি বুঝেন। কেবলমাত্র একটি দুঃখই থেকে যায় আর সেই দুঃখটি হলো এই আলিফ-লাম মিমের রহস্যটি ‘আমি বুঝতে পারলাম না' বলে অকপটে স্বীকার না করা।

এই কেতাবের সব কিছু বোঝা যে একটি অসম্ভব ব্যাপার, বিশেষ করে একজনের পক্ষে, তা কোরান-এর সুরা লোকমানের ২৭ নম্বর আয়াতেই বলে দেওয়া হয়েছে। অতি সংক্ষেপে বলছি দুনিয়ার সব পানি যদি কালি হয়, এবং গাছগুলো যদি কলম হয়, তবুও কেতাবের ব্যাখ্যা করাটি সম্ভবপর হবে না। শুধু তাই নয়, বরং আরও জোর দিয়ে কোরান বলছে, এ রকমভাবে দুনিয়ার সব পানি যদি সাতবার পানিও হয়, দুনিয়ার সবগুলো গাছ যদি সাতবার কলমও হয়, তবু কেতাবের ব্যাখ্যা লিখে শেষ করা যাবে না। যেখানে দুনিয়ার সামান্য কালি-কলম এবং ছাপাখানার মেশিন দিয়েও শেষ করা যাচ্ছে না সেখানে দুনিয়ার সমস্ত পানির তুলনায় এই কালির অবস্থানটি কতটুকু হতে পারে তা বিচারের ভারটি পাঠকের হাতেই তুলে দিলাম।

আমরা অজ্ঞানতার কারণে একে অপরকে এইসব বিষয় নিয়ে কাদা ছোড়াছুঁড়ি করি। অথচ যাকে যতটুকু বুঝবার জানবার রহমত

আল্লাহ দান করেছেন, সে ততটুকুই বুঝতে এবং জানতে পারবে। সুতরাং কটাক্ষ করাটা সমীচীন মনে করি না।

পরম শ্রদ্ধেয় ইমাম কুরতুবি তাঁর তফসিরে বলেছেন: এই আলিফ-লাম-মিমের অর্থটি একমাত্র আল্লাহই জানেন। সুতরাং ইহার অর্থ আল্লাহ্র হাতেই থাকবে, কোনো মানুষ উহার ব্যাখ্যা প্রদান করবে না। ইমাম কুরতুবির মতে, এই আলিফ-লাম-মিমের ব্যাখ্যাটি কোনো মানুষের লিখা উচিত নয়।

আল্লাহ্র এই রহস্যময় জ্ঞানের গাট্টিটি যদি তাঁর কাছেই থাকতে দেওয়া হোক বলে উপদেশ দেন তা হলে প্রশ্নটি আসে, এই গাট্টিটি আল্লাহ কেন কোরান-এ প্রকাশ করলেন? শুধু প্রকাশই নয়, বরং সোজা আল্লাহ প্রথমেই বলে ফেলেছেন, 'ওইটাই কেতাব।' অথচ কোরান পড়লে আমরা দেখতে পাই, কেবল নবি-রসুলদেরই নয়, বরং আল্লাহ্র আবদালদেরকেও কেতাব দান করার কথাটি বলা হয়েছে। ‘ওইটাই কেতাব' তথা উপরের আলিফ-লাম-মিমটাই কেতাব। এখানে 'জালিকাল' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, 'হাজাল কেতাব' শব্দটি ব্যবহার করা হয় নি। তা হলে আমরা দেখতে পাই, একদিকে নবি-রসুল এবং আবদালদের কেতাব দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে পরম শ্রদ্ধেয় কুরতুবি সাহেব আল্লাহ্র হাতেই বিষয়টি রেখে দেবার উপদেশটি দান করেছেন। ইহাতে কি স্পষ্ট আত্মবিরোধটি দেখতে পাওয়া যায় না?

কেতাবের জ্ঞানটি তো আল্লাহই দান করার কথাটি বলেছেন বার বার। অথচ 'ওইটাই কেতাব বলে বাক্যটিকে শেষ করা হয়েছে তথা ‘আলিফ-লাম-মিম জালিকাল কেতাব' তথা 'আলিফ-লাম-মিম ওইটাই কেতাব' বলে বাক্যটি শেষ করে দেওয়া হলো। তারপরেই কিন্তু বলা হয়েছে : এই কেতাবের রহস্যটি কেবলমাত্র মুত্তাকিরাই বুঝতে পারবে তথা পথের সন্ধান পাবে তথা রহস্যলোকের রহস্যময় কথাগুলো বুঝতে পারবে। আবার মুত্তাকি হবার শর্তটি তার পরের আয়াতে দেওয়া হয়েছে। শর্তটি একটি একটি করে দেওয়া হয়েছে। প্রথম শর্তটি হলো: মুত্তাকিদেরকে বিল গায়েবের উপর তথা অদৃশ্যের উপর ইমান আনতে হবে তথা বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। দ্বিতীয় শর্তটি হলো : সালাত কায়েম করতে হবে, তথা আল্লাহ্র সঙ্গে কেমন করে যোগাযোগ করতে হবে সেই যোগাযোগের পদ্ধতিটি ফর্মুলাটি জেনে নিতে হবে- তা সেটা মেজাজি সালাতের মাধ্যমেই হোক আর হাকিকি সালাতের মাধ্যমেই হোক, তা সেটা ওয়াক্তিয়া সালাতের মাধ্যমেই হোক আর দায়েমি সালাতের মাধ্যমেই হোক। যদিও মহানবি বলে গেছেন 'আস্ সালাতুল্ দায়েমি আফজালুম মিনাল সালাতিল ওয়াক্তি তথা ওয়াক্তিয়া নামাজ হতে দায়েমি সালাতের মর্যাদা অনেক বেশি উন্নত। এই কথাটি কেবল হাদিসেই বলা হয় নি, বরং কোরান-এর ৭০ নম্বর সুরা আল মারেজের ২৩ নম্বর আয়াতেও আল্লাহ বলছেন : 'আল্লাযিনাহুম আলা সালাতিহিম দায়িমুনা' অর্থাৎ 'যারা দায়েমি সালাতের উপর দণ্ডায়মান।
ঢাকাইয়া ভাষায় বলে : 'কচু কাটতে কাটতেই ডাকাইত হয়। আমরাও বলতে চাই, এই ওয়াক্তিয়া সালাতের অনুশীলনের মাধ্যমেই একদিন দায়েমি সালাতের অধিকারী হয়। তারপরের শর্তটি হলো : রেজেক বণ্টন করতে হবে, যে-রেজেক আল্লাহ কর্তৃক দেওয়া হয়েছে। বিষয়সম্পদের রেজেকটি মেজাজি রেজেক আর আধ্যাত্মিক রহস্যময় জ্ঞানগুলোকে বিতরণ করার নামটি হলো হাকিকি রেজেক। আমরা অনেকেই মেজাজি আর হাকিকির বিষয়গুলোকে এক করে মহা লাবড়া পাকিয়ে ফেলি আর এই লাবড়া পাকানোর ফলেই মোহাম্মদি ইসলামের (?) ৭৩টি ফেরকা দেখতে পাই। এটা খুব বেশি একটা নতুন কিছু নয়, এটা খুব বেশি একটা অবাক হবার বিষয়ও নয়। কেন? কারণ ইহুদিদের আমলে ইব্রাহিমি ইসলামকে (?) ৭১টি ভাগে ভাগ করে ফেলেছিল এই মতভেদ এবং বিভিন্ন রকম ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের কারণে। তারপর আমরা দেখতে পাই, ইসায়ি ইসলামের (?) মতভেদটিও আরও এক ডিগ্রি উপরে উঠে গেল। ইসায়ি ইসলামের (?) মাঝেও মতভেদ বিভিন্ন রকম ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের ফলে তা ৭২ ফেরকায় বিভক্ত হয়ে গেল। পাঠকদেরকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে এই কথাগুলো অধম লিখকের কথা নয়, বরং মহানবির কথা তথা হাদিস। (হুবহু উদ্ধৃত নয়)।

সুফিয়ান আসসাওয়ারির মতে মুজাহিদ হতে ইবনে আবু নজিহ বলেছেন যে তিনি বলেছেন: আলিফ-লাম-মিম, হা-মিম, আলিম-লাম মিম সোয়াদ- এইগুলো হলো কোরানুল হাকিম-এর চাবি। বন্ধ দরজার তালা খুলতে যেমন চাবির প্রয়োজন হয়, এই শব্দগুলিও কোরান এর দরজা খোলার চাবি। মুজাহিদ হতে আরও বড় বড় ইসলাম গবেষকেরা একই রকম মন্তব্য করেছেন। আবার মুজাহিদের আরেক রকম কথায় ইবনে আবু নজিহ হতে শিবলি ও তার নিকট হতে আবু হুজায়ফা, মুসা ইবনে মাসউদ তারাও সবাই একবাক্যে বলেছেন যে, আমরা গবেষণা করে দেখলাম, আলিফ-লাম-মিম কোরান-এর অন্যতম নাম। প্রশ্ন থেকে যায়, এই কালির অক্ষরের ছাপার কাগজে লেখা কোরান-এর নাম, নাকি কোরান যে হাকিকতে তথা মূলে নুরময় সে কোরান-এর নামটি আলিফ-লাম-মিম তারা বলেছেন? এই কথাটি উল্লেখ করা হয় নি যে, আলিফ-লাম-মিমটি কি মেজাজি কোরান-এর অন্যতম নাম, নাকি নুরি কোরান-এর অন্যতম নাম। এদের কথার সঙ্গে একমত হয়ে ইসলাম গবেষক কাতাদাহ এবং জায়েদ ইবনে আসলামও ওই একই কথাই বলেছেন তথা পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন।

দামি ক্যামেরায় বাঘ-সিংহের সুন্দর এবং স্পষ্ট দু'টি বড় ছবি দেখলে সবাই বাঘ আর সিংহই বলবে, কিন্তু এই বলাটা মোটেই মিথ্যা নয়, যদিও হাকিকতে মিথ্যা এবং মেজাজিতে একদম সত্য। বুকে হাত রেখে বলুন তো, ওই বাঘ আর সিংহের ছবি দুটো কি আসলেই বাঘ-সিংহ নাকি তাদের মেজাজি রূপ? তা হলে হাকিকতের বাঘ আর সিংহ তথা আসল বাঘ আর সিংহ দেখতে হলে আপনাকে অবশ্যই চিড়িয়াখানায় যেতে হবে। কাগজ-কালির আঁচড়ে লেখা মেজাজি কোরান-টির ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দুনিয়ার বড় বড় মাদ্রাসায় করা হয়। আবার নুরি কোরান-এর তথা হাকিকি কোরান-এর তথা আসল কোরান-এর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণটি করার যদি কারও প্রবল ইচ্ছা থাকে তা হলে পীরের আদেশ মতো হেরাগুহার মতো নির্জন স্থানে দশ-পনের বছর অবিরাম ধ্যানসাধনা ও মোরাকাবা-মোশাহেদা করতেই হবে। কারণ নুরি কোরান-এর কোনো অক্ষর নাই : মেজাজি কোরান-এর অক্ষর আছে, শব্দ আছে, বাক্য আছে। অবশ্য নুরি কোরান-এর শিক্ষালাভ করার তরে নির্জনে ১০/১৫ বছর ধ্যানসাধনা করাটি হাতে গোনা কিছু গবেষক করে যান। এই জাতীয় গবেষকদের গবেষক না বলে পীর, মুরশিদ, ওলি, গাউস, কুতুব, আবদাল এবং আরিফ বলাই উচিত। তাঁদের মতো হাকিকি কোরান-এর জ্ঞানে যারা জ্ঞানী তাদের কাছে প্রথমে মুরিদ হতে হবে। মেজাজি কোরান জানতে হলে যেমন মাদ্রাসায় গিয়ে মাদ্রসার গুরুদের কাছে শিখে নিতে হয়, জেনে নিতে হয়, বুঝে নিতে হয় এবং অনেক রকম ফেরকাবাজির ব্যাকরণের ঘোরপ্যাচ শিখে নিতে হয়। মাদ্রাসার গুরুরা মেজাজি কোরান-এর পীর আর হাকিকি কোরান-এর তথা নুরি কোরান-এর রহস্য জানতে হলে নুরি কোরান-এর রহস্য যিনি জেনেছেন তাঁর কাছে মুরিদ হতেই হবে। সুতরাং মাদ্রাসায় মেজাজি কোরান-এর শিক্ষাদানকারী পীর বা গুরুকে যেমন কোনোক্রমেই অবহেলা অথবা অবজ্ঞা প্রদর্শন করা যায় না, হাকিকি কোরান তথা নুরি কোরান-এর বেলাতেও ওই একই কথা প্রযোজ্য।

ইসলাম গবেষক কাতাদাহ এবং জায়েদ ইবনে আসলামের মতামতের সঙ্গে আর এক ইসলাম গবেষক আবদুর রহমান ইবনে জায়েদ ইবনে আসলামের মতামতটি প্রায় একই রকম দেখতে পাই। অবশ্য কোরান-এর নাম এবং সুরার নাম এই দু'টি মতের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখতে পাই না। কারণ কোরান-এর সুরাগুলো কোরান-এর ভেতরেই অনেক রকম নামে অভিহিত হয়েছে।

আবার অন্য একটি ইসলাম গবেষকের দল বলেছেন যে এই মতটি অবাস্তব। এই অবাস্তব হবার কারণটি তারা দেখিয়েছেন এই বলে যে আলিফ-লাম-মিম-সোয়াদ বলতে কখনই পূর্ণ কোরান বোঝায় না, বরং সুরা আরাফকেই বোঝায়। এই জাতীয় গবেষকেরা বলেন, সুরার নাম আর কোরান-এর নাম এক কথা নহে। অধম লিখক একজন পচা ইসলাম গবেষক। আমি এই পরম শ্রদ্ধেয় গবেষকদের সঙ্গে একমত হতে পারলাম না। কেননা সমগ্র কোরান-এর কথা ও দর্শন মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি ফর্মুলার মধ্যেই নিরন্তর ঘূর্ণায়মান। অবশ্য এই পরম শ্রদ্ধেয় গবেষকদেরকে একদম ফেলে দেওয়া যায় না। কারণ সুন্দর বনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার আর দুনিয়ার তাবৎ জঙ্গলের টাইগারদের নকশা-পড়চা, দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বরে সামান্য কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু হরিণ শিকার করার প্রশ্নে এরা সবাই ভয়ঙ্কর চালাক চতুর। অবশ্য এই গবেষকেরা এই মতামতগুলো জানিয়ে দেবার পরও পরিতৃপ্ত হতে পারেন নি। সংশয় তথা নিহ্নবে চিত্তদাহ হওয়াতে অকপটে বলে ফেলেছেন যে, আল্লাহই সবচাইতে ভালো জানেন, তথা ভেটো মারার বিদ্যাটি জাহির করে ফেললেন, তথা আল্লাহ্র স্কন্ধে বিষয়গুলোর রহস্য ছেড়ে দিলেন। অবশ্য যে গবেষক যে রকমভাবে বুঝতে পেরেছেন, সেই গবেষক আন্তরিকতার সহিতই ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করে গেছেন। ইহাতে সন্দেহের অবকাশ থাকার কথা নয়।আবার আরেক দল ইসলামের গবেষক বলে থাকেন, আলিফ-লাম-মিম ইহা আল্লাহ্রই নাম। ইসলাম গবেষক শাদ শাবি বলেন আল্লাহ জাল্লা শানাহু-র ইশারা ইঙ্গিতের নামে সুরা শুরু করা হয়েছে। এই গবেষকের সঙ্গে আরও দুইজন ইসলামের গবেষক সালেম ইবনে আবদুল্লাহ এবং ইসমাইল ইবনে আবদুর রহমান এই রকম কথাই বলেছেন। আবার অন্য এক ইসলাম গবেষক আল শুদ্দি হতে শুবা বিবরণ দিয়েছেন, 'আমার নিকট এই রকম একটি খবর জানতে পেরেছি যে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন: আলিফ-লাম-মিম আল্লাহ জাল্লা শানাহুর একটি প্রধান নাম।' অধম লিখকের মতে হজরত ইবনে আব্বাসের এই কথাটি খুবই সুন্দর এবং রহস্যময়। কিন্তু ইহার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণটি বিস্তারিত দেওয়া তো দূরে থাক, একটি কথাও লিখে যান নি।

শুবা-র বর্ণিত হাদিসটিকে সমর্থন দিয়ে ইসলাম গবেষক ইবনে জারির বিন্দার হতে তিনি ইবনে মাহদি হতে এবং তিনি শুবা হতে বর্ণনা করেছেন যে, শুবা বলেছেন, 'আমি শুদ্দিকে হা-মিম, তোয়া-হা-মিম ও আলিফ-লাম-মিম সম্পর্কে প্রশ্ন করাতে তিনি বলেছেন : হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন উহা আল্লাহরই বিশেষ নাম।' হজরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর এই বর্ণনাটিকে ইবনে জারির বলেছেন, 'আমাকে মোহাম্মদ ইবনুল মুসনি, আবু নুমান ও শুবা ইসমাইল আল শুদ্দি হতে তিনি মোাহ আল হামদানি হতে এই বর্ণনা শোনান যে, মোররাহ আল হামদানি বলেছেন এবং আবদুল্লাহ বলেছেন, মাওলা আলি (আ.) ও হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতেও একই রকম বর্ণনা পাওয়া যায়।'

কেন এতগুলো ডকুমেন্ট তথা দলিল-দস্তাবেজ পাঠকদের কাছে তুলে ধরলাম? তুলে ধরলাম এ জন্য যে, হজরত শাহ সুফি সদর উদ্দিন আহমদ চিশতি যে আলিফ-লাম-মিম দ্বারা আলে মিম তথা মোহাম্মদের বংশধরদেরকেই বোঝানো হয়েছে তার সুন্দর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণগুলো দিয়েছেন তা সুন্দরভাবে প্রমাণিত হয়ে গেল। আবার আলি ইবনে আবু তালহা বলেছেন: উহা কসম বিশেষ। আল্লাহ ইহার দ্বারা কসম করেছেন। আসলে উহা আল্লাহর নাম। আবার হজরত ইকরামা হতে খালিদ আল হিজাহ, ইবনে আলিয়া, ইবনে জারির ও ইবনে আবু হাতিম বলেছেন যে হজরত ইকরামা বলেছেন: আলিফ-লাম-মিম একটি শপথবাক্য। অধম লিখক এইখানে একমত হতে পারলাম না। কারণ আলিফ-লাম-মিম-এর পরেই বলা হয়েছে জালিকাল কেতাব তথা আলিফ-লাম-মিম ওইটাই হলো কেতাব। কেতাব কী করে শপথ হতে পারে ইহা আমার জানা নাই। কারণ আল্লাহ কোরান-এর আরও অনেক স্থানে কসম খেয়েছেন, কিন্তু এইখানে কসম খাবার নামগন্ধটিও নাই। তা হলে ইহা কেমন করে কসম হয়? কারণের মাধ্যমেই কার্যের প্রতিফলন ঘটে। কারণের মাধ্যমেই কর্মের বিকাশ ঘটে। সেই বিকাশটি চলমানই হোক, আর স্থিরই হোক, আর আপেক্ষিকতার অবগুণ্ঠনেই থাক, আর বিবর্তনবাদের ক্রমান্বয়ে ধাপে ধাপে আল্লাহ্র শান-মান- জালুয়াগুলোর প্রকাশই হোক। কারণ আল্লাহ্র আরেক নাম জুলজালাল। ইহার ভাবার্থটি হলো পৃথিবী নামক গ্রহে এক সেকেন্ডে ৬০০ কোটি মানুষের চালচলন, প্রকৃতির জলবায়ুর রূপবদল, খাল-বিল-নদী-নালা সাগরের গহীনে মৎস্য নামক জীবদের চালচলন ইত্যাদি এক সেকেন্ডে, ধরে নিলাম ১০ হাজার কোটি, একেক রকম রূপ-রঙ-ঢং দেখানোর পর আর কোনোদিন কোনো কালেও সেই রূপটি দেখানো হয় না। তাই তিনি কারামতওয়ালা জুলজালাল। সম্ভবত সমগ্র কোরান-এ এটাই আল্লাহ্র সবচাইতে বড় অহঙ্কার (আল্লামা ইকবালের মতে)।

আবার অন্যত্র হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) এ রকম কথাও বলেছেন যে আলিফ-লাম-মিমের অর্থটি হলো, 'আনাল্লাহু আলামু' তথ্য

'আমি আল্লাহ অধিক জানি।' এই কথার সঙ্গে ইসলাম গবেষক সাঈদ ইবনে জুবায়েরও একমত পোষণ করেন। এই কথাটিতে অধম লিখক

মোটেই একমত হতে পারলাম না, কারণ আল্লাহই সব জানেন, এটা সাধারণ মুসলমান তো বটেই, অন্য ধর্মের অনুসারীরাও একমত।

সূর্যের সাক্ষ্য এবং চাঁদের সাক্ষ্য দেবার মতো এই গ্রহে আর দ্বিতীয় সাক্ষীটি পাওয়া যায় না। ইহা বললেও যা, না বললেও তা। কিন্তু এই

কথাটি কিছুটা হলেও মেনে নেওয়া যেত, যদি 'জালিকাল' কেতাব তথা ওইটাই কেতাব কথাটি না থাকতো। 'জালিকাল কেতাব' কথাটি

কোরান-এ থাকাতেই বিশ্বমানবকে কেতাবের রহস্যটি উদঘাটন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। যেমন— 'লা তাকরাবুস সালাতা' তথা

নামাজের ধারে কাছেও যেয়ো না বলে বাক্যটি শেষ করা হয় নি, বরং পরের অংশটিতে বলা হয়েছে, 'ওয়া আতুম শুকারা' তথা

'নেশাগ্রস্ত অবস্থায়' তথা মাতাল অবস্থায়। এই শেষের বাক্যটি না উল্লেখ করা হলে নামাজের বিষয়টি যে কোরান-এ ৮২ বার বলা হয়েছে

উহার মূল্যায়নটি আর থাকছে কোথায়? সুতরাং আলিফ-লাম-মিম দিয়ে যদি বাক্যটি শেষ করা হতো তবে অধম লিখকের বলার কিছুই

থাকতো না, কিন্তু চিন্তা করার প্রশ্নটি ভেবে দেখার বিষয়টি তখনই আসে যখন বলা হলো : ওইটাই কেতাব। নবি-রসুলদের কেতাব দান করা হয়েছে, কিন্তু আবদালদেরও যে কেতাব দান করা হয়েছে সেই কথাটি কোরান-এর বেশ কয়েকটি সুরাতে আমরা দেখতে পাই। হ্যা, অবশ্যই মেনে নেব, আল্লাহ্র এই কেতাবে জ্ঞানের গভীরতার প্রশ্নে, ব্যাপকতার প্রশ্নে ছোট-বড় থাকতে পারে। যেমন,পাঁচ কেজি ওজনের মোমবাতি জ্বালালে যে আলো ছড়ায়, পাঁচ টাকা দামের মোমবাতিতে সে রকম আলো ছড়ানোর প্রশ্নই আসে না- অথচ উভয়টির উৎসই আলো, কিন্তু প্রকাশের প্রশ্নে, ব্যাপকতায় অনেক বড় হেরফের দেখতে পাই।

সুরা কাহাফে খিজিরের তিনটি ঘটনা জাঁদরেল নবি মুসা কালিমুল্লাহ (আ.), যার নামটি কোরান-এ সম্ভবত ১৩৫ বার উল্লেখ করা হয়েছে, সেই নবি খিজির নামক ওলির জ্ঞানের মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারলেন না, বরং উল্টা-পাল্টা লাইন ছাড়া ঘটনাগুলোর অবতারণা দেখে তিনবারই প্রশ্ন করে ফেলেছিলেন। শর্তও ছিলো, তিনবার যদি ধৈর্যধারণ করতে না পারেন তা হলে বিদায় নিতে হবে। তাই নবি মুসা (আ.) বিদায় নিতে বাধ্য হলেন। এখানে কয়েকটি বিশেষ রহস্যপূর্ণ কথা বলতে হয়। প্রথমেই বলতে হয়, সুরা কাহাফের কোথাও খিজির নামটি নাই, আছে 'আবদুহু'। এই আবদুহুরাই আধ্যাত্মিক জ্ঞানের চরম পর্যায়ের সদস্য। এই আবদুহুদের উপর আল্লাহ আর কোনো জ্ঞানী তৈরি করেন নাই। সুরা বনি ইসরাঈলের প্রথম আয়াতটি ভালো করে বার বার পড়ে দেখুন তো! উহাতে কি নবি-রসুলের কথাটি বল হয়েছে, না ‘আসরা বে আবদিহি লাইলান' কথাটি বলা হয়েছে? তা হলে খিজির কথাটি কোথা হতে এল? খিজির শব্দের অর্থ হলে চিরস্থায়ী, চিরসবুজ। এই সবুজ কখনই বিবর্ণ রূপধারণ করে না।

তারপরের প্রশ্নটি হলো, মুসা (আ.)-র মতো জাঁদরেল নবির শুরু হয়ে যাচ্ছেন আল্লাহ্র ওলি। আর সেই আল্লাহ্র ওলিদেরকে ওহাবি এবং বাটালভি ফেরকার অনুসারীরা বেমালুম অস্বীকার করে যায়। মুসা নবির সামনে খিজির নামক আবদুহুর মর্যাদার স্থানটি ক উঁচুতে তা-ও কি বলে দিতে হবে? হাতের আঙুল কি কেউ আয়না দিয়ে দেখে? মানুষের শেষ সম্বলটির নাম হলো বিবেক। সেই বিবেকটিকে নিরপেক্ষ না রেখে অহঙ্কারের বানানো অন্ধকার গর্তে যারা মাটিচাপ

দিয়ে ফেলে তারা যেন নিজেরাই নিজেদের ডায়েরিতে লিখে রাখেন : আজ আমি পশুর চেয়েও অধমে পরিণত হয়ে গেলাম। এখানে এসেই দার্শনিক সোরেন কিয়ের্কেগার্দের কথাটি বার বার মনে পড়ছে, আর সেই কথাটি হলো 'যিনি সব প্রশ্নের উত্তরগুলে গরগর গরগর করে দিয়ে ফেলেন, তিনি একজন বিপদজনক মানুষ। তার থেকে দূরে থেকো।' কেন এই কথাটি দার্শনিক সাহেব বললেন বললেন এই জন্য যে, এরা জ্ঞানের নামে অনেক রকম কথার নমুনা তুলে সরল মানুষদেরকে বিভ্রান্ত করে, দিশেহারা করে তোলে, সিদ্ধা হীনতার বিষণ্ণতা নামক সাইকোলজিকাল রোগে ভোগায়। কারণ যে বা যিনি সব কিছু বুঝে গেছেন, জেনে গেছেন তাকে আর বোঝানো

যায় না, জানানোও যায় না। মনে হয় এদের অন্তরেই অজ্ঞতার অন্ধকারের অহঙ্কারের সিলমোহরটি আল্লাহ মেরে দিয়েছেন।

ইসলাম গবেষক আস্ শুদ্দি আবু মালেক এবং আবু সালেহ হতে ইবনে আব্বাস (রা.)-এর এক বর্ণনা এবং মুর্রাতুল হামদানি ইবে মাসউদ-এর এবং অন্য এক সাহাবির বর্ণনাটি তুলে ধরেছেন। উহাতে বলা হয়েছে: 'আলিফ-লাম-মিম তিনটি বর্ণ আল্লাহ্র নাম।'

ইসলাম গবেষক আবু জাফর আর রাজি রবি ইবনে আনাস এবং তিনি আবুল আলিয়া হতে বর্ণনা করেন : আল্লাহ্র কালামে আলিফ লাম-মিম তিনটি অক্ষর আরবি ২৯টি অক্ষরের মধ্যেই অবস্থান করে। তবে উহাতে সব রকম রহস্যই লুকিয়ে আছে। আল্লাহর রহস্যে দরজা কেউ যদি খুলতে চায় তা হলে প্রতিটি অক্ষরই তালা লাগানো দরজায় চাবি। এই তিনটি অক্ষর বিশেষ চাবি। আবার, ইসলা গবেষক ইবনে আবু হাতিম বলেছেন। 'আলিফ আল্লাহ্র নামের প্রথম অক্ষর, লাম আল্লাহ্র লতিফ তথা মেহেরবান নামের এবং মি আল্লাহ্র মজিদ তথা মহিয়ান নামের প্রথম অক্ষর। আলিফ দিয়ে আলাউল্লাহ তথা আল্লাহর নিয়ামত, লাম দিয়ে লুৎফুল্লাহ তথা আল্লাহ্

করুণা ও অনুকম্পা এবং মিম দিয়ে মাজুদউল্লাহ তথা আল্লাহ্র মহিমান্বিত উদারচিত্ততা প্রকাশ পায়। তিনি আরও একটি বিষয়ে অবতারণা করেছেন, যে বিষয়টির আগা-মাথা অধম লিখক কিছুই বুঝতে পারি নি। আর তা হলো আলিফ দিয়ে এক বছর, লাম দিয়ে তিরিশ বছ এবং মিম দিয়ে চল্লিশ বছর বোঝাতে চেয়েছেন।

এই যে 'আলিফ-লাম-মিম জালিকাল কেতাব' বাক্যটির একেক ইসলাম গবেষক একেক রকম ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ প্রদান করেছেন

ইহাই গবেষণার প্রশ্নে চিন্তার স্বাধীনতার পরিচয় বহন করে। এমনকি মহানবির মহান কয়েকজন সাহাবার ব্যাখ্যাটিও তুলে ধরলাম। তুলে ধরলাম এই জন্য যে, যদি পাঠকেরা একটু খেয়াল করে দেখেন তা হলে দেখতে পারেন যে এই কথাগুলোর একটিও মহানবির বর্ণিত হাদিস নয়। এই জন্য ইসলাম গবেষকদের এবং কয়েকজন মহান সাহাবাকে আমরা আন্তরিক মোবারকবাদ জানাই। আমরা আর মোবারকবাদ জানাই এই জন্য যে, কোনো গবেষকই মহানবির হাদিস বলে উল্লেখ করেন নি, বরং নিজেদের আন্তরিক গবেষণার ফলটি অকপটে প্রকাশ করে গেছেন। সুতরাং যে যতটুকু আল্লাহ্র জ্ঞানের বোঝা বইবার উপযুক্ত, সে বা তিনি ততটুকুই বর্ণনা করতে পারেন। পরিশেষে আরও একটু কথা থেকে যায় বলে পুনরায় বাধ্য হয়ে লিখতে হলো, আর সেটা হলো হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণন

করেছেন, 'আলিফ-লাম-মিম আলিফ অর্থ আল্লাহ, লাম অর্থ জিবরাইল এবং মিম অর্থ মোহাম্মদ। আবার এ-ও বলা হয়েছে যে, আলিয়

দিয়ে আল্লাহ্র দানসমূহ, লাম দিয়ে তাঁর দয়া এবং মিম দিয়ে আল্লাহ্র প্রভুত্ব বুঝানো হয়েছে। আবদুল্লাহ ইউসুফ আলি তাঁর ইংরেজি ভাষায় রচিত বিশ্ববিখ্যাত দ্য হোলি কোরান-এ বলেছেন 'বাহ্যিক জ্ঞান দিয়ে রহস্যময় জ্ঞানে অর্থটি বোঝা যায় না, যদিও কোরান নিজেই ঘোষণা করেছে একটি প্লেইন বুক তথা সহজবোধ্য কেতাব হিশাবে। যদিও সহজবোধ কেতাব আল্লাহ বলেছেন তারপরেও একটি কথা থেকে যায় আর সেটা হলো, কত অল্প লোকেই না এটা বুঝতে পারে।' তিনি আর বলেছেন, 'যিনি যতটুকু বুঝবার শক্তি অর্জন করেছেন, তার উপলব্ধির ব্যাপকতাও ততটুকু।'

পরম শ্রদ্ধেয় আবদুল মজিদ দরিয়াবাদি তাঁর কোরান-এর তফসিরে আলিফ-লাম-মিম বিষয়টিতে কিছু নূতন কথা যোগ করেছেন ঊনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, মিস্টিসিজম তথা রহস্যবাদের দিকে অগ্রসর হবার জন্য আলিফ-লাম-মিম এই তিনটি অক্ষর সংকেত স্বরূপ কোরান যদিও একটি সম্পূর্ণ জীবন-বিধান এবং একটি জীবন-দর্শন, তারপরও বলতে হয় যে কোরান-এ যে একটি রহস্যলোকের দর্শ রূপক ভাষায় দেওয়া হয়েছে উহাই সর্বপ্রথম বলা হয়েছে। পরম শ্রদ্ধেয় আবদুল মজিদ দরিয়াবাদি আরও একটি চমৎকার উদাহরণ টেে বলেছেন যে, ওল্ড টেস্টামেন্ট তথা পুরাতন নিয়ম যে ভাষায় নাজেল হয়েছিল সেই ভাষাতেও এই রকম অক্ষরের সমাহার ছিলো হিন্দুধর্মের বেদ-পুরাণ এবং গীতা-তে সংস্কৃত ভাষায় এই রকম অক্ষরসমূহ আছে কি না অধম লিখকের তা জানা নাই। যদি এই রক সাংকেতিক অক্ষরের সমাহার থেকেই থাকে তা হলে কোনো হিন্দুধর্ম বিশেষজ্ঞ জানিয়ে দিলে কৃতার্থ হবো। তবে হিন্দু একজন মহাপুরু মহাদেব বলেছেন যে, যে-ধর্মে রহস্যলোকের কথা নাই তথা অধ্যাত্মবাদের শিক্ষা নাই, উহা কোনো ধর্মই নহে। উহা উদ্দেশ্যবিহীন সৈনি ধর্ম পালন করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

একটি কথা যদিও এই বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত নহে, তবু তিনটি ধর্মে এক রকম কথা পাবার মিলটি পাওয়া যায়, উহা আমার রচিত সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের একমাত্র পথ-এর ৪র্থ খণ্ডে বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ বলা হয়েছে। সেই কথাটি অতি সংক্ষেপে বলছি আর তা হলো, মহানবির কাছে নাজেল হওয়া কোরান-এর সর্বশেষ আয়াতটি: যদিও এই সর্বশেষ আয়াতটি একটি

বিরাট সুরার চিপি-র ভেতর রেখে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে: 'আজ তোমাদের ধর্মটিকে পরিপূর্ণ করে দিলাম। ঠিক এই রকম কথাটি ভগবান শ্রীকৃষ্ণও বলেছেন এবং ইসায়ি মুসলমান ধর্মের নবি হজরত ইসা (আ.) তথা যিশুখ্রিস্ট একই রকম কথা বলেছেন। যেহেতু সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের একমাত্র পথ-এর চতুর্থ খণ্ডে এই বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ দেওয়া হয়েছে তাই এখানেই শেষ করলাম।

'আলিফ-লাম-মিম' সম্বন্ধে যত গবেষকেরা গবেষণা করে কিছু একটা লিখে গেছেন তার সামান্য কিছু নমুনা তুলে ধরার পর এবার অধম লিখকের গবেষণার ফলটি লিখছি। আলিফ অর্থ হলো পুরুষশক্তি, লাম হলো মিলন এবং মিম হলো নারীশক্তি। পুরুষ শক্তি এবং নারীশক্তির মিলনেই সৃষ্টিজগত প্রকাশিত ও বিকশিত হয়ে ছুটে চলছে। জিন, মানুষ, জীব-জন্তু, পাখি, মৎস্য ইত্যাদি সবই এই উভয় শক্তির মিলনের মাধ্যম দিয়ে প্রকাশিত ও বিকশিত হয়ে ছুটে চলছে। এমনকি উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরাও বলে থাকেন যে, নর-নারী শক্তির মিলন ছাড়া উদ্ভিদের প্রকাশ ও বিকাশটি অসম্ভব। অধম লিখক নিজের চোখে দেখেছি, কাঁকরোল নামক একটি তরকারিতে কৃষক পুরুষ-পরাগটি দিয়ে প্রতিটি নারী-পরাগে স্পর্শ করাচ্ছে। প্রশ্ন করলাম এ রকমটি কেন করা হচ্ছে? কৃষক বললেন পুরুষ-পরাগের স্পর্শ ব্যতীত কাঁকরোল নামক তরকারিটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম থাকে। যদিও বা কিছুটা হতে থাকে, কিন্তু পরে একদম পচে গিয়ে ঠাস করে মাটিতে পড়ে যায়।

আবার, বস্তুজগতের প্রশ্নেও দেখতে পাই, পজিটিভ আর নেগেটিভের খেলা, যেটাকে অনেক গবেষকই দ্বান্দ্বিক দর্শন বলে থাকেন। বিবর্তনবাদের মধ্য দিয়ে নূতনের সমাহার আমরা দেখতে পাই, কিন্তু উহা কি উভয় শক্তির ফলেই হচ্ছে, নাকি দ্বান্দুিক দর্শনের কিছু একটা আছে, অধম লিখকের জানা নাই। তবে 'জালিকাল কেতাব তথা ওইটাই কেতাব যাহা চলমান গতিতে ছুটে চলছে। কেতাবটি এখানে আল্লাহ্র সেফাত তথা গুণাবলি। কেতাব কখনও আল্লাহ্র জাত নয়; যদিও আল্লাহর জাত-রূপটি সমগ্র সৃষ্টিরাজ্যের মাত্র তিনটি স্থানে দেখতে পাই : একটি লা-মোকাম, অন্যটি জিনের অন্তর এবং অপরটি মানুষের অস্তর। তাই আল্লাহ জিন এবং মানুষের শাহারগের নিকটেই অবস্থান করেন। আল্লাহ্র এই অবস্থানটি সেফাত-রূপে নয়, বরং জাত-রূপে অবস্থান। কারণ সৃষ্টির আর কোনো জীবের সঙ্গে 'শাহারগের নিকটেই আছি' কথাটি পাওয়া যায় না।

আবার যদি ‘আলিফ-লাম-মিম' দিয়ে 'আলে মিম' তথা মোহাম্মদের বংশধরদের বোঝায়, তা হলে ইহা নুরের বংশ। এই বংশ বলতে দেহধারী নবির বংশটি যদি কেউ বোঝাতে চায়, তা হলে ইহা নিছক মেজাজি বংশ। মোহাম্মদের নুরের বংশের পরিচয়টি আমরা সীমিত আকারে দেখতে পাই। দেহধারী আবু লাহাব যদিও রক্তের বংশধর, কিন্তু আমরা ভুলেও আবু লাহাবকে নবিবংশের বলে মেনে নেই না। একটি রুটিকে দুই টুকরো করলে দুই ভাগ হয় সত্যি, কিন্তু মূলে একই রুটি। আল্লাহ্র জাতনুর নিয়ে মহানবির অবস্থান। কারণ লা মোকামে সৃষ্টিরাজ্যের কাউকে প্রবেশ করার অধিকারটি দেওয়া হয় নি। এমনকি মহাশক্তিশালী রুহুল আমিন নামক জিবরাইল ফেরেশতাটিও যাবার অনুমতি পান নি। জিবরাইল ফেরেশতা সিদরাতুল মুনতাহা তথা সৃষ্টি শেষ সীমায় গিয়ে থেমে যান, কিন্তু মহানবি লা-মোকামে প্রবেশ করলেন। এই প্রবেশটাই বুঝিয়ে দেয় যে মহানবি আল্লাহ্র জাতনুরে তৈরি। মাহবুবে এলাহি নিজাম উদ্দিন আউলিয়ার প্রধান খলিফা হজরত আমির খসরুর লা মোকামে যাবার ঘোষণাটি জানতে পারি। আল্লাহ্র সঙ্গে মহানবির মিলনটি হয়েছে দুই ধনুকের ব্যবধানে অথবা আরও নিকটে। একটি ধনুক দেখতে একটি বৃত্তের অর্ধেকের মতো, দুইটি ধনুক দুইটি অর্ধবৃত্ত। দুইটি অর্ধবৃত্ত সমান-সমান একটি বৃত্ত। এই বৃত্তটি সম্পূর্ণ একত্র করার জন্য বলা হয়েছে, 'আও আদনা’, তথা আরও নিকটে। দুইটি সেমি সার্কল সমান সমান একটি সার্কল। সুতরাং অপ্রকাশিত রূপটির নাম আল্লাহ এবং প্রকাশিত রূপটির নাম নুরে মোহাম্মদ। সুতরাং হজরত আবদুল্লাহ আলাইহেস সালাতুস্ সালাম এবং হজরত আমেনা আলাইহেস সালাতুস্ সালামের মিলনে যে মহানবির আগমনটি ঘটেছে উহা আল্লাহ্র জাতের একটি মেজাজি রূপ। তাই আমরা দেখতে পাই যে, বিশ্বের বড় বড় আল্লাহ্র ওলিরা বলে থাকেন ‘দোনো হিকা শেকেল এক হ্যায়, কিস কো খোদা কাহু?' তথা 'দুইজনেরই চেহারা-সুরত একই, তা হলে কাকে খোদা বলবো? বাউল সম্রাট লালন ফকির তো

আরও এক ধাপ নিচে নেমে বলেছেন: 'যিনি মুরশিদ তিনিই রসুল খোদাও তিনি হন।' (হুবহু উদ্ধৃত নয়)। আফসোস! আরবি ভাষা জানা আলেম-উলামারা (সবাই নন এবং আহলে সুন্নাতুল জামাতের অনুসারী আলেম-উলামারা নন) এত লেখাপড়া করেও অশ্বডিম্বটি প্রসব করেন আর বাউল সম্রাট লালন ফকির ধ্যান-সাধনার মাধ্যমে তথা মোরাকাবা-মোশাহেদার মাধ্যমে সত্যকে পরিষ্কার বুঝতে পারলেন।

আল্লাহ এবং মহানবি যে এক ও অভিন্ন নুর সেই বিষয়টি কোরান-এর ৪ নম্বর সুরা নেসার ১৫০ আয়াতে পরিষ্কার দেখতে পাই। 'ইন্‌নাল্লাজিনা' : নিশ্চয়ই যাহারা, ‘ইউক্ফুরুনা' : কুফরি করে, 'বিল্লাহে' আল্লাহ্র সহিত, ‘ওয়া রসুলিহি এবং রসুলদের সাথে, ‘ওয়া ইউরিদুনা' এবং যাহারা এরাদা করে, 'আইউফারিক্রু' ভাগ করিতে চায়, 'বাইনাল্লাহে' আল্লাহ্র মধ্যে, 'ওয়া রাসুলেহি' এবং রসুলদের মধ্যে...... ‘উলাইকা’: উহারাই, 'হুমুল কাফেরুনা' হইল কাফের, 'হাক্কান' পরিপূর্ণ তথা ১০০%

(নিশ্চয়ই যাহারা কুফরি করে আল্লাহ্র সহিত এবং রসুলদের সাথে এবং যাহারা এরাদা করে ভাগ করিতে চায় আল্লাহ্র মধ্যে এবং রসুলদের মধ্যে উহারাই হইল পরিপূর্ণ তথা ১০০% কাফের)। (একদম হুবহু অনুবাদ, যাহা সবাই করেন না)।
কোরান-এর ৪ নম্বর সুরা নেসার ১৫০ নম্বর আয়াতটিকে একমাত্র আহলে সুন্নাতুল জামাতের অনুসারীরা ছাড়া হুবহু অনুবাদটি করেন না। দলের তথা ফেরকার সাইনবোর্ডটি কাঁধে নিয়ে এই রকম হুবহু অনুবাদ করতে গেলে থলি হতে আসল বিড়ালটি বেরিয়ে যাবার বিপদজনক অবস্থাটি দাঁড়িয়ে যেতে পারে। এই আয়াতে পরিষ্কারভাবে বলে দেওয়া হয়েছে, যারা কেবল মনে মনে এইটুকু ইচ্ছা পোষণ করলো যে, আল্লাহ আলাদা এবং রসুলেরা আলাদা, তারাই কাফের। কাফের বলেই শেষ করা হয় নি, বরং কাফেরের শেষে একটি বিশেষণ দেওয়া হয়েছে, তথা 'হাক্কান' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, তথা ১০০% কাফের তথা একদম খাঁটি কাফের তথা পরিপূর্ণ কাফের এবং এই রকম কাফের নামধারীদের উপাসনাগুলো করা আর না করা সমান কথা, কারণ সেটা গাছের ভিত্তি তথা মূল শেকড় কেটে দিয়ে গাছের মাথায় পানি ঢালার মতো।

আজ পৃথিবীর বুকে ৫৭টি মুসলিম দেশের চেহারা-সুরত, নকশা পড়চা, দাগ নম্বর-খতিয়ানগুলো দেখলেই বোঝা যায় যে, কোন পতনের বিন্দুতে দাঁড়িয়ে পরাশক্তিগুলোর ধাবমান কুত্তা হয়ে গেছে। সব বাল্বেই একই আলো, তবে বাল্বের রঙ যদি লাল-নীল-সবুজ বেগুনি-মার্কারি ইত্যাদি হয় তা হলে বাল্বের রঙেই আলোটি প্রকাশিত হয়। লাল বাল্বে লাল আলো, নীল বাল্বে নীল আলো, হলুদ বাল্বে হলুদ আলো, মার্কারি বাল্বে মার্কারির আলো, আবার আধুনিক এনার্জি সেভিং লাইটের আলো ইত্যাদি অনেক রঙের আলো দেখতে পাই আসলে মূলে একই আলো।

অধিকাংশ গবেষক মনের অজান্তে বিরাট একটি ভুল করে বসেন আর সেই ভুলটি হলো রুহের মাগফেরাত চাওয়া। রুহ মারা যায় না, কারণ রুহ ‘জন্মগ্রহণ করে না এবং জন্ম দেয়ও না। রুহ ঘুমায় না, খাদ্য-পানি গ্রহণ করে না, ক্লান্ত হয় না, যৌনক্রিয়া করে না— তাই রুহের মাগফেরাত চাওয়াটা যে কত বড় এবং মারাত্মক ভুল ইহা হয়তো জেনেও না জানার ভান করে অথবা রুহের রহস্য বিষয়টি একেবারেই জানে না। যেখানে আদমকে রুহ ফুৎকার করা হলো সেখানে জানোয়ারের কাছে তথা হায়ওয়ানের কাছে রুহ কেমন করে ফুৎকার করা হলো ভেবে অবাক হই।

নাটোরের এক পীর সাহেব দুই খণ্ডে রুহ আর নফসের কথাটি লিখতে গিয়ে জানোয়ারের রুহ তথা রুহে হায়ওয়ানির ব্যাখ্যাটিও মাসাল্লাহ লিখে ফেলেছেন। এদের কাছে ভক্ত মুরিদেরা কী শিখবেন, কী জানবেন? কারণ উনি নিজেই তো রুহ বিষয়টিতে একেবারেই অন্ধ। তাই এই অন্ধ পীর সাহেব যখন অন্ধ মুরিদদেরকে পথ দেখাতে শুরু করবেন তখন গর্তে পড়ে যাবার প্রচুর সম্ভাবনা থেকে যায় এবং আত্মপরিচয়ের হাত-পা ভেঙে মরে যাবার সম্ভাবনাটি থেকে যায়, নতুবা মর্গে নিয়ে সুরতহাল তথা পোস্টমর্টেম করতে হয়। হায় রে পীর সাহেব, আর হায় রে মুরিদান! এ জন্যই বোধ হয় এই রকম পীরের চেহারা সুরত ও লিখনি পড়ে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তবলিগের গাট্টি নিয়ে আরামসে তবলিগ করে বেড়ায়। পাঠক, বুকে হাত রেখে বলুন তো, কাদেরকে দোষ দেবেন?

মরার স্বাদ গ্রহণ করে নফ্স। মোটা কথায় নফ্স মারা যায়। যে নফস মারা যায় সেই নফসের জন্য মাগফেরাত চাইতে হয়। ডাক্তারের কাছেই রোগী যায়, কোনো সুস্থ মানুষ নয়। বাদী-বিবাদীই উকিলের কাছে যায়, আর যিনি বাদীও নন, বিবাদীও নন তার জন্য উকিলের প্রয়োজন নাই। প্রয়োজনের আধিক্য যে রকম প্রয়োজনীয় সভ্যতার বিকাশ ঘটায়, সেই রকম রোগীর ভালো চিকিৎসার প্রশ্নে প্রতিনিয়ত আধুনিক যন্ত্রপাতি আবিষ্কার হচ্ছে। এই সমস্ত কথা, এই সমস্ত শাহা (বিস্তারিত) প্যাচাল সবই একমাত্র নফ্‌সের জন্য। রুহ এইসব বিশাল ঝামেলার ধারে কাছেও নাই। সুতরাং নফ্‌সের জন্য মাগফেরাতটি না চেয়ে রুহের জন্য মাগফেরাত চাইবার কথাটি যখন বড় বড় ইসলাম গবেষকেরা বলে বেড়ান তখন এতিমের মতো শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকি আর ভাবি : কোথায় নফ্স আর কোথায় রুহ! কোথায় আগরতলা আর কোথায় চকির তলা! কোথায় রানী ভবানী আর কোথায় বিছানায় মুতুনী! কোথায় গুপ্ত অঙ্গের জোড়া আর কোথায় নারিকেলের জোড়া! অধম লিখক ভালো করেই জানে যে এইসব শ্রদ্ধেয় ইসলাম গবেষকেরা জাত সাপের ফণা তোলে : জাত সাপের চাষকারী খামারের মালিক তোতা মিয়া অবশেষে জাত সাপের কামড়েই মারা যান।

⚫কোরানের দৃষ্টিতে নামাজ ৮২ বার
🌺ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী 

Comments

Popular posts from this blog

বাবা জাহাঙ্গীর এর বইয়ের তালিকা..

  বাবা জাহাঙ্গীর এর বইয়ের তালিকা  সুফিবাদ প্রকাশনালয় হতে প্রকাশিত ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী ও অন্যান্য  লিখকের বইগুলোর নামঃ   ১ ।মারেফতের গোপন কথা ২।মারেফতের গোপন আলাপ ৩।মারেফতের বানী ৪।সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের একমাত্র পথ-১ম খন্ড ৫।সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের একমাত্র পথ-২য় খন্ড ৬।সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের একমাত্র পথ-৩য় খন্ড ৭।ইতিহাস নয় সুফিবাদের রহস্য ৮।নিহ্নবে চিত্তদাহ সুফিবাদ সার্বজনীন ৯।শরিয়তি শয়তান মারেফতি শয়তান ১০।কোরানের দৃষ্টিতে নামাজ ৮২ বার ১১।গান বাজনার দলিল ১২।ফকিরির আসল কথা ১৩।ফকিরির গোপন কথা ১৪।শরিয়তি সেজদা মারেফতি সেজদা ১৫।কোরানুল মাজিদ ১৫ পারা (হুবহু অনুবাদ ও কিছু ব্যাখ্যা) ১৬।মারেফতের গোপন দর্শন অনেকের অজানা ১৭।মারেফতের গোপন ভেদ-রহস্য ১৮।মারেফতের গোপন আলোচনা ১৯।রোজা ইফতার হজ্জ জাকাত ও কোরবানী ২০.মারেফতের গোপনেরও গোপন কথা ২১.সুফিবাদের গোপনেরও গোপন কথা [উক্ত তালিকার   ১২,১৩,১৬,১৭ও ১৮ নং এই পাঁচটি বই একসাথে ] ২২.ফকিরির গোপনেরও গোপন কথা [সুফিবাদ আত্মপরিচয়ের একমাত্র পথ ১,২,৩ ও ৪ খন্ড একসাথে] ২৩. আল্লাহ কোথায় থাকেন? ২৪....

শরিয়ত, তরিকত, হাকিকত ও মারেফতের আলোচনা -মারেফতের বাণী / ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল-সুরেশ্বরী

শরিয়ত , তরিকত , হাকিকত ও মারেফতের আলোচনা - মারেফতের বাণী / ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা- ঈমান আল -সুরেশ্বরী এইবার আমরা এমন একজন অলীর লেখা কেবলা, কাবা এবং হজের আসল রহস্যের বর্ণনার অনুবাদ করবো যাঁর কথা শুনলে জাতিধর্ম নির্বিশেষে সবাই মাথা নত করে মেনে নেবেন এবং মানতে অবশ্যই বাধ্য হতে হবে। কারণ এমন অলীর কথা তারাই মানতে চাইবে না, যারা মানুষের আকৃতিতে পশুরূপে মানবসমাজে বাস করছে। অবশ্য মানুষের সুরতে যারা পশু তাদেরও প্রয়োজন আছে এবং তারা আছে বলেই তো মারেফতের গোপন কথা লেখার এত আয়োজন । সুতরাং এই লেখার প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিজেকে ভুলেও মানুষের সুরতে পশু প্রমাণ করতে যাবেন না। যদি এমন কাজ করেন ফেলেন তা হলেও আপনাকে সম্মান দেখানো হবে। সেই সম্মানটির নাম হবে ‘ফার্স্ট ক্লাস জোকার।' খেলার মাঠে দু'একজন ড্রেস অ্যাজ ইউ লাইক মার্কা জোকার না থাকলে মাঠের মধ্যে হাসাহাসিটা তেমন জমে উঠে না। সেই বিখ্যাত অলীর লেখায় অনুবাদ করবো যাঁর নাম খাজা হাবিবুলাহ মাতা ফি হুব্‌বুল্‌লা সুলতানুল হিন্দ আতায়ে রসুল খাজা গরিবে নেওয়াজ ইয়া সৈয়দ মাওলানা মঈনুদ্দীন হাসান চিশতী সান্‌জারি আল হোসাইনি আল হাসানি। যার মাজার শরিফের এতই ওজন...
Mystery of unknown |Baba Jahangir    অন্ধকারের রহস্য   আমি অন্ধকারকে দেখতে চেয়েছিলাম। অন্ধকার দেখা যায় না। অন্ধকার কেউ দেখতে পারে না। পারে তারাই যাদের একাগ্র ব্যাকুলতা থাকে। অন্ধকার জগতের আসল রূপ। আলাে ক্ষণিকের তরে। আলােতে রহস্য নাই। রহস্য অন্ধকারেই থাকে। যে বিষয়গুলাে বলা যায় না ইহা অন্ধকার। একদম বলা যায় না উহাই অন্ধকার। ঐ অন্ধকারের সন্ধান পায় অন্ধকার খোঁজার জীবনগুলাে। সব প্রাণীকুল একেরই ভিতর নাচানাচি করে।  একেরই বহুরূপ তুলে ধরে। অন্ধকারের প্রাচীরের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন আইনস্টাইন , নিলস বাের , নিউটন , ম্যাক্স প্লংক , লুই পাস্তুর , রঞ্জন , বেয়ার্ড , ফ্লেমিং আরাে অনেক অনেকেই।   এই অন্ধকারের দেয়াল ভেঙ্গে অন্ধকারের গােপন রহস্যগুলাে যখন আলাের সামনে নিয়ে এলাে তখনই অন্ধকার ধরা পড়ে গেল। অন্ধকার থেকে গ্রাহাম বেল কান ধরে টেনে আনলেন টেলিগ্রাম আর টেলিফোন।  প্রিয়তমা স্ত্রী হ্যালােকে প্রথম ফোনে বলেছিলেন হ্যালাে। আলােতে বাস করা পৃথিবীর মানুষগুলাে ফোনে প্রথম উচ্চারণ করে হ্যালাে। প্রেয়সী হ্যালাে মনের অজান্তে সবার মনে অমর হয়ে রইল।  আবিষ্কার শব্দটির মান...