![]() |
| Baba Jahangir | Salat |
কোরান-এ সালাতের উল্লেখ : ২
কোরান-এর ২ নম্বর সুরা বাকারার ৪৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে : এবং সালাত কায়েম করো এবং জাকাত আদায় করো। (ওয়া আকিমুস সালাতা ওয়া আতুজ জাকাতা)। এবং তোমরা রুকু করো রুকুকারীদের সাথে। (ওয়ারকাউ মাআর রাকেঈনা)।
ব্যাখ্যাঃ
‘এবং সালাত কায়েম করো এবং জাকাত আদায় করো'- এই আয়াতটির আগে আল্লাহ কিন্তু আমাদেরকে সাবধান করে দিয়েছেন এই বলে যে, তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে একাকার করে দিয়ো না। সত্যকে সত্যের স্থানে রেখে দিয়ো এবং মিথ্যাকে মিথ্যার স্থানে। এই আদেশটি পালনে পিছপা হয়ো না, তথা সত্য এবং মিথ্যার পার্থক্য করার প্রশ্নে সত্যকে কখনো গোপন করতে যেয়ো না। এখানে একটি প্রশ্ন থাকে যে,এই সত্যটির বেলাতেও মেজাজি সত্য এবং হাকিকি সত্যের প্রশ্নটি আসে। কেন আসে? একজন মৃত্যুপথযাত্রী ক্যানসার রোগীকে মেজাজি সত্যটিও বলা যায় না। কারণ, বলে দিলে একদম ভেঙে পড়বে এবং মৃত্যু ত্বরান্বিত হবে অথবা আত্মহত্যার দিকে এগিয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকতে পারে। জীবন বাঁচানোর প্রশ্নে হারাম খাদ্যকেও গ্রহণ করা যায়। ইহা ইসলামেরই একটি উপদেশ। এ জন্যই মেজাজি সত্যটির প্রশ্নে সত্যটি প্রকাশ করা যেমন প্রায় ক্ষেত্রে বাঞ্ছনীয়, আবার কোনো কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে বাঞ্ছনীয় নয়।
বুখারি শরিফ-এর ৯৫ নম্বর হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) যে বলেছেন : আমি (আবু হুরায়রা) মেজাজি সত্যের যতটুকু আমার জানা আছে সবটুকুই প্রকাশ করে গেলাম, কিন্তু হাকিকি সত্যের প্রশ্নে যদি কিছু একটা বলতে যাই তো আমাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে তথা আরবি প্রবাদবাক্যে : কাটা যাইবে আমার এই গলা। হজরত ইবনে আব্বাস
(রা.), হজরত হুজায়ফা (রা.), হজরত আবুজর গিফারি (রা.)- কেহই হাকিকি সত্যের কথাটি বলে যান নি। সুতরাং সত্য বলতে কী বুঝায়?
সত্য কত প্রকার ও কী কী? বাহিরের সত্য কয় প্রকার এবং ভেতরের সত্যটিই বা কয় প্রকার? আল্লাহ্র আবদুহু, যাকে আমরা খিজির বলে থাকি, তিনি কিন্তু নবি নহেন, বরং মুসা নুবি (আ.) তাঁকে মুরশিদরূপে, শিক্ষালাভ করার জন্য, আল্লাহ কর্তৃক দুই সমুদ্রের মিলনক্ষেত্রের নিকট হতে পেয়েছিলেন। অবশ্য প্রশ্ন আসতে পারে, আল্লাহ্র ওলি খিজির কী করে জাদরেল নবি মুসা (আ.)-র মুরশিদ হতে পারেন, যেখানে মুসা নবি (আ.)-র নামটি কোরান-এ সবচাইতে বেশিবার উচ্চারিত হয়েছে : অধম লিখকের জানা মতে ১৩৫ বার (ভুলও হতে পারে)। সেই হজরত মুসা কালিমউল্লাহর (আ.) মুরশিদ হজরত খিজির জ্ঞানদান করার প্রশ্নে একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন, আর সেই শর্তটি ছিলো : তিনটি ঘটনার বিষয়ে একটি প্রশ্নও করা যাবে না, বরং ধৈর্যধারণ করে দেখে যেতে হবে।
আল্লাহ্র ওলি হজরত খিজির যখন দ্বিতীয় ঘটনাটির অবতারণা করলেন এবং সেই ঘটনাটি ছিলো কিছু বাচ্চা ছেলেরা মিলেমিশে খেলা করছিল। আল্লাহ্র ওলি খিজির সেই খেলা করা বাচ্চাদের থেকে একটি বাচ্চাকে আছাড় মেরে হত্যা করে ফেললেন- এ দৃশ্য দেখে মুসা নবির মনে নানান রকম প্রশ্নের উদ্রেক হলো। মুসা নবি এই প্রশ্নগুলোর হিশাব মিলাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেও হিশাব মেলাতে পারলেন না এবং বিরাট এবং তিক্ত ধৈর্যধারণটি করতে না পেরে প্রশ্ন করে ফেললেন। সুতরাং আল্লাহর ওলিদের অনেক রকম উল্টাপাল্টা ঘটনা দেখে ধৈর্যধারণের প্রশ্ন তো অনেক পরে, বরং ওলি না বলে একদম ভণ্ড, একদম যা ইচ্ছা তাই বলে মুখ ফিরিয়ে নেবার ঘটনাগুলো জানতে পারি। সুতরাং কোন সত্যটি প্রকাশ করার উপযুক্ত আর কোনটি অনুপযুক্ত উহা মাপবার যন্ত্রটি অধম লিখকের জানা নাই।
‘অধম লিখকের জানা নাই'- এই কথাটির মধ্যেও যদি সত্যের একদম উলঙ্গ দৃশ্যগুলো বলতে যাই, লিখতে যাই, তা হলে বিরূপ মন্ত ব্যের শিকার হতে হবে। কোরান অতি সংক্ষেপে বলছে ‘তোমরা সত্য গোপন করো না এবং সত্যের সঙ্গে মিথ্যাকে মিশিয়ে দিয়ো না।' সত্য-মিথ্যার বর্ণনাতে ভাষার বিভিন্নতা থাকতে পারে, অভিজ্ঞতার স্বল্পতা থাকতে পারে, কিন্তু মূল বিষয়টি একটিই, আর উহাই হলো : চাউল-গমের সঙ্গে পাথরের কণা মেশানোর মতো সত্যের সঙ্গে মিথ্যাকে মিশিয়ে দিয়ো না। এইসব বাজে অভ্যাস হতে যদি মুক্তি পেতে চাও তা হলে সালাত কায়েম করো তথা আল্লাহ্র সঙ্গে কেমন করে, কী উপায়ে, কার মাধ্যমে যোগাযোগ করা যায় সেই প্রচেষ্টাটি অবিরামভাবে করে যাও।
এখানে মনে রাখতে হবে যে, হাকিকি সালাতটি কায়েম হয়ে গেলেই জাকাত দেবার উপযুক্ততা অর্জন করতে পারে, নতুবা অসম্ভব। আবার পরক্ষণে মেজাজি সালাতের প্রশ্নে মেজাজি জাকাতটি দেবার কথাটিও বোঝানো হয়েছে। এই সালাত এবং জাকাতের প্রচলনটি মহানবির সময় হতে শুরু হয়েছে বলে যারা প্রচার করেন তারা বোকার স্বর্গে বাস করেন, বরং প্রথম নবি আদম শফিউল্লাহ (আ.) হতে মহানবি পর্যন্ত সালাত কায়েম এবং জাকাত আদায়ের কথাটি আমরা দেখতে পাই। আমরা কোরান হতে এটুকু জানতে পারি যে, যাদের হাকিকি সালাতটি কায়েম হয়ে গেছে তাদের কপালে একটি সালাত কায়েমের চিহ্ন অবশ্যই ফুটে উঠবে। এই চিহ্নটিকে আরবি ভাষায় ‘সিমা' বলা হয়। আনুষ্ঠানিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মেজাজি মসজিদের ফ্লোরে কপালে ঘর্ষণ-খাওয়া কালো কহরগুলোকে যদি কেহ সালাত কায়েমের চিহ্নটি তথা সিমাটি ফুটে উঠেছে বলতে চায়, তা হলেও অধম লিখকের বলার কিছু নাই, কারণ যে যতুটুকু বোঝে সে ততটুকু বলে।
জাকাত আর সালাত কায়েম করার কথাটি বলেই আয়াতটি শেষ করা হয় নি, বরং 'এবং' শব্দটি যোগ করে বলা হলো : ‘তোমরা রুকু করো রুকুকারীদের সাথে। আরবি ভাষায় : 'ওয়ারকাউ মাআর রাকেঈনা।' ‘রুকু করো রুকুকারীদের সাথে কথাটির মধ্যেও একটি মেজাজি রুকু এবং অপরটি হাকিকি রুকু রয়ে গেছে। মহানবির আমল হতে ওয়াক্তিয়া সালাতের রুকু করা এবং রুকুকারীদের সাথী হবার কথাটি যদি ধরে নিই, তা হলে এই আনুষ্ঠানিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত মহানবি মেরাজে গমন করে উম্মতদের জন্য তোহফারূপে উপহার পেয়েছিলেন। তা হলে অন্যান্য নবীদের অনুসারীরা যে রুকু করেছেন, সেই রুকুগুলো কেমন? এবং সেই রুকুগুলোর ধরন-ধারনটাই বা কেমন ছিলো? ইহা অধম লিখকের জানা নাই।
⏹️কোরানের দৃষ্টিতে নামাজ ৮২ বার
🌺ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী

Comments
Post a Comment
JOY GURU.
Thank you for your valuable comment.